ঢাকা ১২:৪৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাত ৩টায় কেন ঘুম ভাঙে? জানুন প্রাচীন ঘুমের রহস্য

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১০:৫৬:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫২৬

রাত ৩টায় ঘুম ভেঙে যাওয়া সবসময় অসুস্থতার লক্ষণ নয়।

রাত ৩টায় ঘুম ভেঙে যাওয়াকে অনেকেই শরীরের কোনো সমস্যার লক্ষণ মনে করেন। তবে বিজ্ঞান বলছে, প্রতিদিন এমনটা না হলে মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যাওয়া সবসময় অসুস্থতার কারণ নয়। এর সঙ্গে মানুষের প্রাচীন ঘুমের অভ্যাসেরও যোগসূত্র থাকতে পারে। ইতিহাসের বিভিন্ন নথিতে দেখা যায়, একসময় মানুষ রাতের ঘুমকে দুই ভাগে ভাগ করে ঘুমাতেন।বর্তমানে টানা সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুমানোকে স্বাভাবিক বলে ধরা হয়। কিন্তু বিদ্যুৎ, স্মার্টফোন ও কৃত্রিম আলোর ব্যবহার শুরুর অনেক আগে মানুষের ঘুমের ধরন ছিল ভিন্ন।

সূর্য ডোবার কয়েক ঘণ্টা পর ঘুমিয়ে পড়ার পর মাঝরাতে জেগে উঠতেন অনেকে। এরপর কিছু সময় জেগে থেকে আবার ঘুমিয়ে পড়তেন।ইতিহাসবিদদের গবেষণা বলছে, এই ঘুমের ধরন বিভিন্ন সংস্কৃতিতেই প্রচলিত ছিল। মাঝরাতে জেগে ওঠার সময় কেউ আগুনে জ্বালানি দিতেন, কেউ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতেন। কেউ প্রতিবেশীর সঙ্গে দেখা করতেন, আবার কেউ প্রার্থনা বা ধ্যান করতেন। প্রায় এক থেকে দুই ঘণ্টা পর আবার ঘুমিয়ে পড়ার পর ভোর পর্যন্ত ঘুম চলত।ঘুম নিয়ে গবেষণা করা ইতিহাসবিদ রজার একির্চ প্রাচীন দলিল ও বিভিন্ন ঐতিহাসিক নথিতে এই অভ্যাসের প্রমাণ খুঁজে পেয়েছেন।

চিকিৎসাবিষয়ক লেখা, আদালতের নথি, ব্যক্তিগত চিঠি ও কবিতাসহ দুই হাজারের বেশি নথিতে ‘প্রথম ঘুম’ ও ‘দ্বিতীয় ঘুম’-এর উল্লেখ রয়েছে। হোমারের ‘ওডিসি’তেও এমন ঘুমের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।তখন মাঝরাতে ঘুম থেকে ওঠাকে অস্বাভাবিক কিছু মনে করা হতো না। বরং এটি ছিল মানুষের দৈনন্দিন জীবনের স্বাভাবিক অংশ। কিন্তু শিল্পবিপ্লবের পর মানুষের জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন আসে। কৃত্রিম আলোর ব্যবহার বাড়তে থাকায় মানুষ রাতে আরও বেশি সময় জেগে থাকতে শুরু করেন।কাজের সময় বাড়ার পাশাপাশি ঘুমানোর সময়ও পিছিয়ে যায়।

ধীরে ধীরে রাতের দুই পর্বের ঘুম একটানা ঘুমের অভ্যাসে পরিণত হয়। ফলে মাঝরাতে ঘুম ভেঙে গেলে বর্তমান সময়ে অনেকেই এটিকে সমস্যা হিসেবে দেখেন। অথচ সব ক্ষেত্রে এটি কোনো রোগের লক্ষণ নয়।আধুনিক ঘুমবিজ্ঞানও বলছে, মানুষের ঘুম একটানা গভীর থাকে না। সাধারণত ৯০ থেকে ১১০ মিনিট পরপর ঘুমের একটি চক্র সম্পন্ন হয়। এক রাতে শরীর চার থেকে ছয়টি ঘুমের চক্রের মধ্য দিয়ে যেতে পারে। প্রতিটি চক্রে ঘুমের গভীরতার পরিবর্তন ঘটে।

রাতের প্রথম দিকে গভীর ঘুমের পরিমাণ বেশি থাকে। সময় যত বাড়তে থাকে, গভীর ঘুম কমে আসে এবং হালকা ঘুম ও স্বপ্ন দেখার পর্যায় বাড়তে থাকে। এই সময় সামান্য শব্দ, আলো বা শরীরের স্বাভাবিক পরিবর্তনের কারণেও ঘুম ভেঙে যেতে পারে। তাই মাঝরাতে কয়েক মুহূর্তের জন্য জেগে ওঠা অস্বাভাবিক নয়।

তবে রাত ৩টায় বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়ে প্রতিদিন ঘুম ভেঙে গেলে এবং দীর্ঘ সময় জেগে থাকতে হলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার। একই সঙ্গে দিনের বেলায় অতিরিক্ত ঘুমঘুম ভাব, ক্লান্তি বা কাজে মনোযোগের সমস্যা থাকলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। ঘুমের নিয়মিততা ও পর্যাপ্ত বিশ্রামই সুস্থ থাকার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।বিশেষজ্ঞদের মতে,তাই ঘুমের মাঝে সাময়িক জেগে ওঠা নিয়ে সবসময় দুশ্চিন্তা করার প্রয়োজন নেই।

জনপ্রিয় সংবাদ

রাত ৩টায় কেন ঘুম ভাঙে? জানুন প্রাচীন ঘুমের রহস্য

Update Time : ১০:৫৬:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

রাত ৩টায় ঘুম ভেঙে যাওয়াকে অনেকেই শরীরের কোনো সমস্যার লক্ষণ মনে করেন। তবে বিজ্ঞান বলছে, প্রতিদিন এমনটা না হলে মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যাওয়া সবসময় অসুস্থতার কারণ নয়। এর সঙ্গে মানুষের প্রাচীন ঘুমের অভ্যাসেরও যোগসূত্র থাকতে পারে। ইতিহাসের বিভিন্ন নথিতে দেখা যায়, একসময় মানুষ রাতের ঘুমকে দুই ভাগে ভাগ করে ঘুমাতেন।বর্তমানে টানা সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুমানোকে স্বাভাবিক বলে ধরা হয়। কিন্তু বিদ্যুৎ, স্মার্টফোন ও কৃত্রিম আলোর ব্যবহার শুরুর অনেক আগে মানুষের ঘুমের ধরন ছিল ভিন্ন।

সূর্য ডোবার কয়েক ঘণ্টা পর ঘুমিয়ে পড়ার পর মাঝরাতে জেগে উঠতেন অনেকে। এরপর কিছু সময় জেগে থেকে আবার ঘুমিয়ে পড়তেন।ইতিহাসবিদদের গবেষণা বলছে, এই ঘুমের ধরন বিভিন্ন সংস্কৃতিতেই প্রচলিত ছিল। মাঝরাতে জেগে ওঠার সময় কেউ আগুনে জ্বালানি দিতেন, কেউ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতেন। কেউ প্রতিবেশীর সঙ্গে দেখা করতেন, আবার কেউ প্রার্থনা বা ধ্যান করতেন। প্রায় এক থেকে দুই ঘণ্টা পর আবার ঘুমিয়ে পড়ার পর ভোর পর্যন্ত ঘুম চলত।ঘুম নিয়ে গবেষণা করা ইতিহাসবিদ রজার একির্চ প্রাচীন দলিল ও বিভিন্ন ঐতিহাসিক নথিতে এই অভ্যাসের প্রমাণ খুঁজে পেয়েছেন।

আরও পড়ুন  আলু খেলেও বাড়বে না ওজন? জানুন সঠিক খাওয়ার নিয়ম

চিকিৎসাবিষয়ক লেখা, আদালতের নথি, ব্যক্তিগত চিঠি ও কবিতাসহ দুই হাজারের বেশি নথিতে ‘প্রথম ঘুম’ ও ‘দ্বিতীয় ঘুম’-এর উল্লেখ রয়েছে। হোমারের ‘ওডিসি’তেও এমন ঘুমের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।তখন মাঝরাতে ঘুম থেকে ওঠাকে অস্বাভাবিক কিছু মনে করা হতো না। বরং এটি ছিল মানুষের দৈনন্দিন জীবনের স্বাভাবিক অংশ। কিন্তু শিল্পবিপ্লবের পর মানুষের জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন আসে। কৃত্রিম আলোর ব্যবহার বাড়তে থাকায় মানুষ রাতে আরও বেশি সময় জেগে থাকতে শুরু করেন।কাজের সময় বাড়ার পাশাপাশি ঘুমানোর সময়ও পিছিয়ে যায়।

আরও পড়ুন  প্রেমে বারবার বিভ্রান্ত? ভালোবাসার আচরণ বুঝবেন যেভাবে

ধীরে ধীরে রাতের দুই পর্বের ঘুম একটানা ঘুমের অভ্যাসে পরিণত হয়। ফলে মাঝরাতে ঘুম ভেঙে গেলে বর্তমান সময়ে অনেকেই এটিকে সমস্যা হিসেবে দেখেন। অথচ সব ক্ষেত্রে এটি কোনো রোগের লক্ষণ নয়।আধুনিক ঘুমবিজ্ঞানও বলছে, মানুষের ঘুম একটানা গভীর থাকে না। সাধারণত ৯০ থেকে ১১০ মিনিট পরপর ঘুমের একটি চক্র সম্পন্ন হয়। এক রাতে শরীর চার থেকে ছয়টি ঘুমের চক্রের মধ্য দিয়ে যেতে পারে। প্রতিটি চক্রে ঘুমের গভীরতার পরিবর্তন ঘটে।

রাতের প্রথম দিকে গভীর ঘুমের পরিমাণ বেশি থাকে। সময় যত বাড়তে থাকে, গভীর ঘুম কমে আসে এবং হালকা ঘুম ও স্বপ্ন দেখার পর্যায় বাড়তে থাকে। এই সময় সামান্য শব্দ, আলো বা শরীরের স্বাভাবিক পরিবর্তনের কারণেও ঘুম ভেঙে যেতে পারে। তাই মাঝরাতে কয়েক মুহূর্তের জন্য জেগে ওঠা অস্বাভাবিক নয়।

আরও পড়ুন  কাঁচা রসুন খেলে কী উপকার? জানুন সঠিক নিয়ম

তবে রাত ৩টায় বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়ে প্রতিদিন ঘুম ভেঙে গেলে এবং দীর্ঘ সময় জেগে থাকতে হলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার। একই সঙ্গে দিনের বেলায় অতিরিক্ত ঘুমঘুম ভাব, ক্লান্তি বা কাজে মনোযোগের সমস্যা থাকলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। ঘুমের নিয়মিততা ও পর্যাপ্ত বিশ্রামই সুস্থ থাকার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।বিশেষজ্ঞদের মতে,তাই ঘুমের মাঝে সাময়িক জেগে ওঠা নিয়ে সবসময় দুশ্চিন্তা করার প্রয়োজন নেই।