ঢাকা ০৭:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo প্রধানমন্ত্রীকে ট্রাম্পের চিঠি: ৫টি অসাধারণ বার্তায় উজ্জ্বল ভবিষ্যতের আশা Logo ইমরান খান নিয়ে হাইকোর্টের বড় নির্দেশ, মিলবে পরিবার-সাক্ষাৎ Logo টেকনো ক্যামন স্লিম ৫জি দাম: ৫৯৯৯৯ টাকায় ৫টি অসাধারণ ফিচার যা মন জয় করবে Logo চন্দনাইশে জমির নামজারি নিয়ে এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগ Logo কুড়িগ্রামে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য আয়োজন Logo বলিউডে দ্যুতি ছড়াতে আসছেন এই দক্ষিণী সুন্দরী Logo বিয়ের পাঁচ মাসের মধ্যেই বিচ্ছেদের ঘোষণা বাদশাহ-রিখির Logo শিল্প কি পাপ? সাদিয়া জাহান প্রভার স্পষ্ট বক্তব্য Logo কুলাউড়ায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিশাল র‍্যালি Logo মেসিকে বিদায় জানাতে কী পরিকল্পনা আর্জেন্টিনার?

পরবর্তী চন্দ্রগ্রহণ কবে? জানুন দেখার সেরা সময়

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৪:০৬:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫১৯

২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেখা যাবে অপেক্ষাকৃত মৃদু পেনাম্ব্রাল চন্দ্রগ্রহণ। ছবি: সংগৃহীত

পরবর্তী চন্দ্রগ্রহণ দেখতে আকাশপ্রেমীদের খুব বেশি দিন অপেক্ষা করতে হবে না। তবে আগস্ট ২০২৬-এর আংশিক চন্দ্রগ্রহণের মতো চোখে পড়ার মতো দৃশ্য এবার নাও দেখা যেতে পারে। আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ পৃথিবীর ছায়া আবার চাঁদের ওপর পড়বে। তবে এটি হবে পেনাম্ব্রাল চন্দ্রগ্রহণ, তাই চাঁদের উজ্জ্বলতায় পরিবর্তন হবে খুবই সামান্য।

পেনাম্ব্রাল চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদ পৃথিবীর মূল গাঢ় ছায়া বা ‘আমব্রা’র মধ্যে ঢোকে না। বরং পৃথিবীর বাইরের অপেক্ষাকৃত হালকা ছায়া বা ‘পেনাম্ব্রা’র মধ্য দিয়ে যায়। ফলে সাধারণ পূর্ণিমার চাঁদের তুলনায় সামান্য ম্লান দেখাতে পারে চাঁদ। খালি চোখে এই পরিবর্তন বোঝাও অনেক সময় কঠিন হতে পারে। এ কারণেই ২০২৭ সালের গ্রহণটি বড় কোনো মহাজাগতিক প্রদর্শনীর বদলে জ্যোতির্বিজ্ঞানের সূক্ষ্ম একটি ঘটনা হিসেবে বেশি আকর্ষণীয়।

২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ চাঁদ যখন গ্রহণের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে, তখন পৃথিবীর পেনাম্ব্রাল ছায়ার প্রভাব সবচেয়ে বেশি দেখা যাওয়ার কথা। তথ্য অনুযায়ী, সর্বোচ্চ গ্রহণ হবে সন্ধ্যা ৬টা ১২ মিনিট EST বা বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী পরদিন ভোরের দিকে। তবে কোনো নির্দিষ্ট স্থান থেকে এটি দৃশ্যমান হবে কি না, তা নির্ভর করবে সেই সময় সেখানে চাঁদ আকাশে অবস্থান করছে কি না এবং স্থানীয় দিগন্তের পরিস্থিতির ওপর।

এই পরবর্তী চন্দ্রগ্রহণ নিয়ে সবচেয়ে মজার বিষয় হতে পারে ছবি তোলা। পেনাম্ব্রাল গ্রহণে পরিবর্তন খুব সূক্ষ্ম হওয়ায় খালি চোখে পার্থক্য বোঝা কঠিন হতে পারে। তাই গ্রহণের সর্বোচ্চ পর্যায়ে একটি ছবি তুলে অন্য কোনো স্বাভাবিক পূর্ণিমার ছবির সঙ্গে তুলনা করলে পৃথিবীর ছায়ার প্রভাব কিছুটা বোঝা যেতে পারে। পরিষ্কার আকাশ ও স্থির ক্যামেরা থাকলে এটি আকাশপ্রেমীদের জন্য দারুণ একটি ফটোগ্রাফি অনুশীলন হতে পারে।

তবে আরও নাটকীয় দৃশ্যের জন্য অপেক্ষা করতে হবে ২০২৮ সালের শেষ পর্যন্ত। বছরের শেষ দিন, অর্থাৎ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৮, একটি পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ হওয়ার কথা রয়েছে। পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদ পৃথিবীর গাঢ় আমব্রা ছায়ার মধ্যে সম্পূর্ণভাবে ঢুকে যায়। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে সূর্যের কিছু আলো চাঁদের পৃষ্ঠে পৌঁছানোর কারণে চাঁদ তখন লালচে বা তামাটে রং ধারণ করতে পারে। এই পরিচিত দৃশ্যই ‘ব্লাড মুন’ নামে জনপ্রিয়।

২০২৮ সালের সেই পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ বিশেষভাবে আকর্ষণীয় হতে পারে এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের আকাশ পর্যবেক্ষকদের জন্য। তাই ২০২৭ সালের গ্রহণ যেখানে হবে তুলনামূলক মৃদু, সেখানে ২০২৮ সালের শেষ রাতের গ্রহণ হতে পারে অনেক বেশি দর্শনীয়।

চন্দ্রগ্রহণ আসলে কোনো রহস্যময় ঘটনা নয়। সূর্য, পৃথিবী ও চাঁদ নির্দিষ্ট অবস্থানে এলে পৃথিবী সূর্যের আলো আটকে দিয়ে চাঁদের ওপর ছায়া ফেলে। চাঁদ কতটা ছায়ার মধ্যে ঢুকছে, তার ওপর নির্ভর করে গ্রহণটি পেনাম্ব্রাল, আংশিক নাকি পূর্ণ হবে। তাই প্রতিটি গ্রহণের দৃশ্যও একরকম হয় না।

আগস্ট ২০২৬-এর আংশিক গ্রহণের পর আকাশপ্রেমীদের সামনে তাই দুটি আলাদা ধরনের অভিজ্ঞতা অপেক্ষা করছে। ২০২৭ সালের পরবর্তী চন্দ্রগ্রহণ হবে অপেক্ষাকৃত মৃদু, আর ২০২৮ সালের পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ হতে পারে চোখে পড়ার মতো লালচে ‘ব্লাড মুন’। ফলে যারা রাতের আকাশ, চাঁদ ও মহাকাশের ঘটনা উপভোগ করেন, তারা এখন থেকেই ক্যালেন্ডারে তারিখগুলো চিহ্নিত করে রাখতে পারেন।

প্রধানমন্ত্রীকে ট্রাম্পের চিঠি: ৫টি অসাধারণ বার্তায় উজ্জ্বল ভবিষ্যতের আশা

পরবর্তী চন্দ্রগ্রহণ কবে? জানুন দেখার সেরা সময়

Update Time : ০৪:০৬:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পরবর্তী চন্দ্রগ্রহণ দেখতে আকাশপ্রেমীদের খুব বেশি দিন অপেক্ষা করতে হবে না। তবে আগস্ট ২০২৬-এর আংশিক চন্দ্রগ্রহণের মতো চোখে পড়ার মতো দৃশ্য এবার নাও দেখা যেতে পারে। আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ পৃথিবীর ছায়া আবার চাঁদের ওপর পড়বে। তবে এটি হবে পেনাম্ব্রাল চন্দ্রগ্রহণ, তাই চাঁদের উজ্জ্বলতায় পরিবর্তন হবে খুবই সামান্য।

পেনাম্ব্রাল চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদ পৃথিবীর মূল গাঢ় ছায়া বা ‘আমব্রা’র মধ্যে ঢোকে না। বরং পৃথিবীর বাইরের অপেক্ষাকৃত হালকা ছায়া বা ‘পেনাম্ব্রা’র মধ্য দিয়ে যায়। ফলে সাধারণ পূর্ণিমার চাঁদের তুলনায় সামান্য ম্লান দেখাতে পারে চাঁদ। খালি চোখে এই পরিবর্তন বোঝাও অনেক সময় কঠিন হতে পারে। এ কারণেই ২০২৭ সালের গ্রহণটি বড় কোনো মহাজাগতিক প্রদর্শনীর বদলে জ্যোতির্বিজ্ঞানের সূক্ষ্ম একটি ঘটনা হিসেবে বেশি আকর্ষণীয়।

আরও পড়ুন  "চোখে দেখা সবই সত্য নয়, এআইয়ের ভুয়া ছবি-ভিডিও চিনবেন যেভাবে"

২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ চাঁদ যখন গ্রহণের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে, তখন পৃথিবীর পেনাম্ব্রাল ছায়ার প্রভাব সবচেয়ে বেশি দেখা যাওয়ার কথা। তথ্য অনুযায়ী, সর্বোচ্চ গ্রহণ হবে সন্ধ্যা ৬টা ১২ মিনিট EST বা বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী পরদিন ভোরের দিকে। তবে কোনো নির্দিষ্ট স্থান থেকে এটি দৃশ্যমান হবে কি না, তা নির্ভর করবে সেই সময় সেখানে চাঁদ আকাশে অবস্থান করছে কি না এবং স্থানীয় দিগন্তের পরিস্থিতির ওপর।

এই পরবর্তী চন্দ্রগ্রহণ নিয়ে সবচেয়ে মজার বিষয় হতে পারে ছবি তোলা। পেনাম্ব্রাল গ্রহণে পরিবর্তন খুব সূক্ষ্ম হওয়ায় খালি চোখে পার্থক্য বোঝা কঠিন হতে পারে। তাই গ্রহণের সর্বোচ্চ পর্যায়ে একটি ছবি তুলে অন্য কোনো স্বাভাবিক পূর্ণিমার ছবির সঙ্গে তুলনা করলে পৃথিবীর ছায়ার প্রভাব কিছুটা বোঝা যেতে পারে। পরিষ্কার আকাশ ও স্থির ক্যামেরা থাকলে এটি আকাশপ্রেমীদের জন্য দারুণ একটি ফটোগ্রাফি অনুশীলন হতে পারে।

আরও পড়ুন  দেশে নিবন্ধিত সিম ৩২ কোটি, জনসংখ্যার প্রায় দ্বিগুণ

তবে আরও নাটকীয় দৃশ্যের জন্য অপেক্ষা করতে হবে ২০২৮ সালের শেষ পর্যন্ত। বছরের শেষ দিন, অর্থাৎ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৮, একটি পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ হওয়ার কথা রয়েছে। পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদ পৃথিবীর গাঢ় আমব্রা ছায়ার মধ্যে সম্পূর্ণভাবে ঢুকে যায়। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে সূর্যের কিছু আলো চাঁদের পৃষ্ঠে পৌঁছানোর কারণে চাঁদ তখন লালচে বা তামাটে রং ধারণ করতে পারে। এই পরিচিত দৃশ্যই ‘ব্লাড মুন’ নামে জনপ্রিয়।

২০২৮ সালের সেই পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ বিশেষভাবে আকর্ষণীয় হতে পারে এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের আকাশ পর্যবেক্ষকদের জন্য। তাই ২০২৭ সালের গ্রহণ যেখানে হবে তুলনামূলক মৃদু, সেখানে ২০২৮ সালের শেষ রাতের গ্রহণ হতে পারে অনেক বেশি দর্শনীয়।

আরও পড়ুন  ফোন নিরাপত্তা টিপস: কার্যকর উপায়ে হ্যাকারদের এড়িয়ে চলুন

চন্দ্রগ্রহণ আসলে কোনো রহস্যময় ঘটনা নয়। সূর্য, পৃথিবী ও চাঁদ নির্দিষ্ট অবস্থানে এলে পৃথিবী সূর্যের আলো আটকে দিয়ে চাঁদের ওপর ছায়া ফেলে। চাঁদ কতটা ছায়ার মধ্যে ঢুকছে, তার ওপর নির্ভর করে গ্রহণটি পেনাম্ব্রাল, আংশিক নাকি পূর্ণ হবে। তাই প্রতিটি গ্রহণের দৃশ্যও একরকম হয় না।

আগস্ট ২০২৬-এর আংশিক গ্রহণের পর আকাশপ্রেমীদের সামনে তাই দুটি আলাদা ধরনের অভিজ্ঞতা অপেক্ষা করছে। ২০২৭ সালের পরবর্তী চন্দ্রগ্রহণ হবে অপেক্ষাকৃত মৃদু, আর ২০২৮ সালের পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ হতে পারে চোখে পড়ার মতো লালচে ‘ব্লাড মুন’। ফলে যারা রাতের আকাশ, চাঁদ ও মহাকাশের ঘটনা উপভোগ করেন, তারা এখন থেকেই ক্যালেন্ডারে তারিখগুলো চিহ্নিত করে রাখতে পারেন।