ঢাকা ১১:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

সম্পদ-শিক্ষায় এগিয়ে বিএনপির নারী প্রার্থী, বলছে হলফনামা

  • Taslima Khanom
  • Update Time : ০৬:৪২:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫২২

চিত্রঃ সম্পদ-শিক্ষায় এগিয়ে বিএনপির নারী প্রার্থীরা

সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সম্পদ-শিক্ষায় এগিয়ে বিএনপির নারী প্রার্থী। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া তথ্য অনুযায়ী আয়, সম্পদ, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং রাজনৈতিক অভিজ্ঞতায় বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের নারী প্রার্থীরা স্পষ্টভাবে এগিয়ে রয়েছেন। অন্যদিকে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে তুলনামূলকভাবে নতুন মুখের সংখ্যা বেশি। তাদের মধ্যে অনেকেই প্রথমবারের মতো সংসদে যেতে যাচ্ছেন। রাজনীতির মাঠে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকা বহু নারী নেত্রী এবার সংসদে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছেন।

গত কয়েক বছরে আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা, গ্রেপ্তার ও নানা চাপের মধ্যেও যারা দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন, তাদের অনেকে মনোনয়ন পেয়েছেন। ফলে রাজপথের অভিজ্ঞ নেত্রীদের একটি বড় অংশ এখন সংসদমুখী। একই সঙ্গে পেশাজীবী ও উচ্চশিক্ষিত নারীদের উপস্থিতিও উল্লেখযোগ্য। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনের মধ্যে বিএনপি জোটের ৩৬ জন, জামায়াত জোটের ১২ জন এবং একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ হয়েছে। কোনো আসনে একাধিক প্রার্থী না থাকায় আগামী ২৯ এপ্রিল প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষে তারা কার্যত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই চিত্র দুই জোটের ভিন্ন রাজনৈতিক কৌশলকে সামনে এনেছে।

হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা যায়, সম্পদের দিক থেকে বিএনপি জোটের প্রার্থীরা উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে। ৩৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ১৬ জন কোটিপতি। শতকরা হিসাবে যা প্রায় ৪৪ শতাংশ। অনেকের সম্পদ কয়েক কোটি টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও কয়েকজনের সম্পদ ১০ কোটির কাছাকাছি পৌঁছেছে।বিএনপি জোটের কয়েকজন প্রার্থীর বিপুল সম্পদ বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। নগদ অর্থ, ব্যাংক আমানত, ফ্ল্যাট, জমি, গাড়ি, শেয়ার এবং স্বর্ণালঙ্কারের তথ্য হলফনামায় উল্লেখ রয়েছে। কারও আয়ের উৎস ব্যবসা, কারও বিনিয়োগ, আবার কেউ বাড়িভাড়া বা পেশাগত আয় থেকে বড় অঙ্কের অর্থ উপার্জন করেন। এতে দলটির নারী প্রার্থীদের আর্থিক সক্ষমতার একটি স্পষ্ট চিত্র উঠে এসেছে।

অন্যদিকে জামায়াত জোটের প্রার্থীদের মধ্যে কোটিপতি মাত্র একজন। বাকি অধিকাংশ প্রার্থীর সম্পদ ২০ লাখ থেকে ৮০ লাখ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ। বার্ষিক আয়ও তুলনামূলকভাবে কম। তাদের সম্পদের মধ্যে সীমিত জমি, কিছু সঞ্চয়, স্বর্ণালঙ্কার এবং ছোট পরিসরের বিনিয়োগের তথ্য পাওয়া গেছে।শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে দুই জোটেই উচ্চশিক্ষিত প্রার্থীর উপস্থিতি রয়েছে। বিএনপি জোটের প্রার্থীদের মধ্যে স্নাতকোত্তর, আইন, চিকিৎসা ও অন্যান্য উচ্চতর ডিগ্রিধারী নারীর সংখ্যা বেশি। কেউ কেউ বিদেশ থেকেও উচ্চশিক্ষা নিয়েছেন। একই সঙ্গে কয়েকজন স্বশিক্ষিত বা তুলনামূলক কম শিক্ষিত প্রার্থীও মনোনয়ন পেয়েছেন।

জামায়াত জোটেও শিক্ষিত নারীদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারীদের পাশাপাশি শিক্ষক, চিকিৎসক ও আইনজীবী পেশার প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। ফলে শিক্ষার দিক থেকে কোনো জোটকে দুর্বল বলা যাচ্ছে না। তবে পেশাগত বৈচিত্র্যে বিএনপি জোট কিছুটা এগিয়ে রয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। দুই জোটের মধ্যে বড় পার্থক্য দেখা গেছে মামলার তথ্য বিশ্লেষণে। বিএনপি জোটের অনেক প্রার্থীর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ছিল বা রয়েছে। যদিও তাদের অনেকে খালাস পেয়েছেন কিংবা মামলা প্রত্যাহার হয়েছে, তবুও সংখ্যাগতভাবে এটি উল্লেখযোগ্য। দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে এই মামলাগুলোর বেশিরভাগই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অন্যদিকে জামায়াত জোটের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রায় নেই বললেই চলে। এ কারণে তাদের প্রোফাইল তুলনামূলকভাবে পরিচ্ছন্ন হিসেবে সামনে এসেছে। নতুন মুখ এবং কম বিতর্কিত প্রার্থীদের নিয়ে সংসদে যাওয়ার কৌশল দলটি নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বয়সের ক্ষেত্রেও দুই জোটের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। বিএনপি জোটে প্রার্থীদের বয়স ৩২ থেকে ৮৫ বছরের মধ্যে। সেখানে প্রবীণ অভিজ্ঞ নেত্রীর পাশাপাশি তরুণ চিকিৎসক, আইনজীবী ও পেশাজীবী নারীরাও রয়েছেন। ফলে অভিজ্ঞতা ও নতুন নেতৃত্বের সমন্বয় দেখা যাচ্ছে।

জামায়াত জোটের প্রার্থীদের বয়স ৩৭ থেকে ৬৮ বছরের মধ্যে সীমাবদ্ধ। তাদের বেশিরভাগই প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদে যাচ্ছেন। ফলে সেখানে নতুন মুখের আধিক্য বেশি। সংসদীয় রাজনীতিতে অভিজ্ঞতার তুলনায় সম্ভাবনাময় নেতৃত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। পেশাগত পরিচয়ের ক্ষেত্রেও বিএনপি জোটে বৈচিত্র্য বেশি। আইনজীবী, ব্যবসায়ী, চিকিৎসক, লেখক ও বিভিন্ন পেশাজীবী নারীর সমন্বয় রয়েছে। অনেকেই রাজনীতির পাশাপাশি ব্যবসা বা বিনিয়োগের সঙ্গে যুক্ত। এতে তাদের আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী হয়েছে।

জামায়াত জোটে শিক্ষক, চিকিৎসক ও আইনজীবীদের উপস্থিতি বেশি দেখা গেছে। পেশাগত স্থিতিশীলতা থাকলেও আয় ও সম্পদের দিক থেকে তারা পিছিয়ে। অনেকের স্থাবর সম্পদ নেই, আবার কারও সম্পদ সীমিত পরিসরে রয়েছে। ফলে অর্থনৈতিক সামর্থ্যের চিত্রে দুই জোটের মধ্যে স্পষ্ট ব্যবধান তৈরি হয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন সুলতানা জেসমিন। হলফনামা অনুযায়ী, তার সম্পদ প্রায় ২৮ লাখ টাকা এবং বার্ষিক আয় সাড়ে ৫ লাখ টাকার মতো। তার বিরুদ্ধে কিছু মামলা থাকলেও সেগুলো ইতোমধ্যে প্রত্যাহার হয়েছে। অর্থনৈতিক অবস্থান বিবেচনায় তিনি দুই জোটের মাঝামাঝি অবস্থানে রয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, সম্পদ-শিক্ষায় এগিয়ে বিএনপির নারী প্রার্থী হলেও নতুন মুখ ও তুলনামূলক পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি নিয়ে জামায়াত জোটও আলাদা অবস্থান তৈরি করেছে। সংরক্ষিত নারী আসনের এই নির্বাচন শুধু সংসদীয় প্রতিনিধিত্ব নয়, বরং নারী নেতৃত্বের নতুন সমীকরণও সামনে আনছে। আগামী দিনে সংসদে এই নারী সদস্যদের ভূমিকা রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

আকিজ গ্রুপে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি : হিসাবরক্ষক পদে চাকরির সুযোগ, সাথে আবাসন সুবিধা

সম্পদ-শিক্ষায় এগিয়ে বিএনপির নারী প্রার্থী, বলছে হলফনামা

Update Time : ০৬:৪২:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সম্পদ-শিক্ষায় এগিয়ে বিএনপির নারী প্রার্থী। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া তথ্য অনুযায়ী আয়, সম্পদ, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং রাজনৈতিক অভিজ্ঞতায় বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের নারী প্রার্থীরা স্পষ্টভাবে এগিয়ে রয়েছেন। অন্যদিকে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে তুলনামূলকভাবে নতুন মুখের সংখ্যা বেশি। তাদের মধ্যে অনেকেই প্রথমবারের মতো সংসদে যেতে যাচ্ছেন। রাজনীতির মাঠে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকা বহু নারী নেত্রী এবার সংসদে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছেন।

গত কয়েক বছরে আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা, গ্রেপ্তার ও নানা চাপের মধ্যেও যারা দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন, তাদের অনেকে মনোনয়ন পেয়েছেন। ফলে রাজপথের অভিজ্ঞ নেত্রীদের একটি বড় অংশ এখন সংসদমুখী। একই সঙ্গে পেশাজীবী ও উচ্চশিক্ষিত নারীদের উপস্থিতিও উল্লেখযোগ্য। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনের মধ্যে বিএনপি জোটের ৩৬ জন, জামায়াত জোটের ১২ জন এবং একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ হয়েছে। কোনো আসনে একাধিক প্রার্থী না থাকায় আগামী ২৯ এপ্রিল প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষে তারা কার্যত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই চিত্র দুই জোটের ভিন্ন রাজনৈতিক কৌশলকে সামনে এনেছে।

হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা যায়, সম্পদের দিক থেকে বিএনপি জোটের প্রার্থীরা উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে। ৩৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ১৬ জন কোটিপতি। শতকরা হিসাবে যা প্রায় ৪৪ শতাংশ। অনেকের সম্পদ কয়েক কোটি টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও কয়েকজনের সম্পদ ১০ কোটির কাছাকাছি পৌঁছেছে।বিএনপি জোটের কয়েকজন প্রার্থীর বিপুল সম্পদ বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। নগদ অর্থ, ব্যাংক আমানত, ফ্ল্যাট, জমি, গাড়ি, শেয়ার এবং স্বর্ণালঙ্কারের তথ্য হলফনামায় উল্লেখ রয়েছে। কারও আয়ের উৎস ব্যবসা, কারও বিনিয়োগ, আবার কেউ বাড়িভাড়া বা পেশাগত আয় থেকে বড় অঙ্কের অর্থ উপার্জন করেন। এতে দলটির নারী প্রার্থীদের আর্থিক সক্ষমতার একটি স্পষ্ট চিত্র উঠে এসেছে।

অন্যদিকে জামায়াত জোটের প্রার্থীদের মধ্যে কোটিপতি মাত্র একজন। বাকি অধিকাংশ প্রার্থীর সম্পদ ২০ লাখ থেকে ৮০ লাখ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ। বার্ষিক আয়ও তুলনামূলকভাবে কম। তাদের সম্পদের মধ্যে সীমিত জমি, কিছু সঞ্চয়, স্বর্ণালঙ্কার এবং ছোট পরিসরের বিনিয়োগের তথ্য পাওয়া গেছে।শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে দুই জোটেই উচ্চশিক্ষিত প্রার্থীর উপস্থিতি রয়েছে। বিএনপি জোটের প্রার্থীদের মধ্যে স্নাতকোত্তর, আইন, চিকিৎসা ও অন্যান্য উচ্চতর ডিগ্রিধারী নারীর সংখ্যা বেশি। কেউ কেউ বিদেশ থেকেও উচ্চশিক্ষা নিয়েছেন। একই সঙ্গে কয়েকজন স্বশিক্ষিত বা তুলনামূলক কম শিক্ষিত প্রার্থীও মনোনয়ন পেয়েছেন।

জামায়াত জোটেও শিক্ষিত নারীদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারীদের পাশাপাশি শিক্ষক, চিকিৎসক ও আইনজীবী পেশার প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। ফলে শিক্ষার দিক থেকে কোনো জোটকে দুর্বল বলা যাচ্ছে না। তবে পেশাগত বৈচিত্র্যে বিএনপি জোট কিছুটা এগিয়ে রয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। দুই জোটের মধ্যে বড় পার্থক্য দেখা গেছে মামলার তথ্য বিশ্লেষণে। বিএনপি জোটের অনেক প্রার্থীর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ছিল বা রয়েছে। যদিও তাদের অনেকে খালাস পেয়েছেন কিংবা মামলা প্রত্যাহার হয়েছে, তবুও সংখ্যাগতভাবে এটি উল্লেখযোগ্য। দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে এই মামলাগুলোর বেশিরভাগই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অন্যদিকে জামায়াত জোটের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রায় নেই বললেই চলে। এ কারণে তাদের প্রোফাইল তুলনামূলকভাবে পরিচ্ছন্ন হিসেবে সামনে এসেছে। নতুন মুখ এবং কম বিতর্কিত প্রার্থীদের নিয়ে সংসদে যাওয়ার কৌশল দলটি নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বয়সের ক্ষেত্রেও দুই জোটের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। বিএনপি জোটে প্রার্থীদের বয়স ৩২ থেকে ৮৫ বছরের মধ্যে। সেখানে প্রবীণ অভিজ্ঞ নেত্রীর পাশাপাশি তরুণ চিকিৎসক, আইনজীবী ও পেশাজীবী নারীরাও রয়েছেন। ফলে অভিজ্ঞতা ও নতুন নেতৃত্বের সমন্বয় দেখা যাচ্ছে।

জামায়াত জোটের প্রার্থীদের বয়স ৩৭ থেকে ৬৮ বছরের মধ্যে সীমাবদ্ধ। তাদের বেশিরভাগই প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদে যাচ্ছেন। ফলে সেখানে নতুন মুখের আধিক্য বেশি। সংসদীয় রাজনীতিতে অভিজ্ঞতার তুলনায় সম্ভাবনাময় নেতৃত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। পেশাগত পরিচয়ের ক্ষেত্রেও বিএনপি জোটে বৈচিত্র্য বেশি। আইনজীবী, ব্যবসায়ী, চিকিৎসক, লেখক ও বিভিন্ন পেশাজীবী নারীর সমন্বয় রয়েছে। অনেকেই রাজনীতির পাশাপাশি ব্যবসা বা বিনিয়োগের সঙ্গে যুক্ত। এতে তাদের আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী হয়েছে।

জামায়াত জোটে শিক্ষক, চিকিৎসক ও আইনজীবীদের উপস্থিতি বেশি দেখা গেছে। পেশাগত স্থিতিশীলতা থাকলেও আয় ও সম্পদের দিক থেকে তারা পিছিয়ে। অনেকের স্থাবর সম্পদ নেই, আবার কারও সম্পদ সীমিত পরিসরে রয়েছে। ফলে অর্থনৈতিক সামর্থ্যের চিত্রে দুই জোটের মধ্যে স্পষ্ট ব্যবধান তৈরি হয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন সুলতানা জেসমিন। হলফনামা অনুযায়ী, তার সম্পদ প্রায় ২৮ লাখ টাকা এবং বার্ষিক আয় সাড়ে ৫ লাখ টাকার মতো। তার বিরুদ্ধে কিছু মামলা থাকলেও সেগুলো ইতোমধ্যে প্রত্যাহার হয়েছে। অর্থনৈতিক অবস্থান বিবেচনায় তিনি দুই জোটের মাঝামাঝি অবস্থানে রয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, সম্পদ-শিক্ষায় এগিয়ে বিএনপির নারী প্রার্থী হলেও নতুন মুখ ও তুলনামূলক পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি নিয়ে জামায়াত জোটও আলাদা অবস্থান তৈরি করেছে। সংরক্ষিত নারী আসনের এই নির্বাচন শুধু সংসদীয় প্রতিনিধিত্ব নয়, বরং নারী নেতৃত্বের নতুন সমীকরণও সামনে আনছে। আগামী দিনে সংসদে এই নারী সদস্যদের ভূমিকা রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।