ঢাকা ০৯:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

শাহজালাল (রহঃ) মাজার জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী, সিলেটে কর্মসূচি

  • Taslima Khanom
  • Update Time : ১১:০৬:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬
  • ৫১৪

চিত্রঃ সিলেটে শাহজালাল (রহ:)-এর মাজার জিয়ারত করছেন প্রধানমন্ত্রী

সিলেট সফরে গিয়ে সুফিসাধক হজরত শাহজালাল (রহঃ)-এর মাজার জিয়ারত করেছেন প্রধানমন্ত্রী। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি মাজারে পৌঁছে জিয়ারত করেন। এ সময় তার সফরকে ঘিরে এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। সকাল থেকেই সিলেটে বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করছে। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ছিল এবং থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছিল। তবে প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে প্রধানমন্ত্রী তার নির্ধারিত কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। মাজার জিয়ারতের সময় প্রধানমন্ত্রী বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। দেশের শান্তি, উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণ কামনা করে দোয়া করা হয়। উপস্থিত নেতাকর্মী ও প্রশাসনের কর্মকর্তারাও এ সময় সঙ্গে ছিলেন।

শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার সিলেটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থান। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ এখানে জিয়ারত করতে আসেন। প্রধানমন্ত্রীর এই সফর স্থানীয়দের মধ্যে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। মাজার জিয়ারতের পর প্রধানমন্ত্রী সিলেট সার্কিট হাউস এলাকায় যান। সেখানে সুরমা নদীর পাড়ের চাঁদনিঘাট এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসনে একটি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে নগরের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এরপর তিনি একটি সুধী সমাবেশে অংশ নেবেন। সেখানে স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। এতে প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত থাকবেন।

বেলা ১১টা ৩৫ মিনিটে বাংলাদেশ ওভারসিজ সেন্টার সিলেটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এ কেন্দ্রটি চালু হলে বিদেশগামী কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও সেবা প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। দুপুর ১২টায় সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নে বাসিয়া খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নতি হবে এবং কৃষিকাজেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। সিলেট সফরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত একটি কর্মসূচি। বিকাল ৩টায় সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে শিশু ও কিশোরদের ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।

এই কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের তরুণ প্রতিভাদের খুঁজে বের করে তাদের প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়া হবে। ক্রীড়াক্ষেত্রে নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে নিতে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। দিনব্যাপী কর্মসূচি শেষে বিকাল ৫টায় একটি দলীয় সভায় অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানা গেছে। সফরের শেষ পর্যায়ে তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন। তার এই সফরকে ঘিরে সিলেটজুড়ে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়ে তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে এবং ব্যানার-ফেস্টুন দিয়ে সাজানো হয়েছে শহর।

প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব পালন করছেন, যাতে কর্মসূচি নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তারা আশা করছেন, ঘোষিত উন্নয়ন প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়িত হবে এবং সিলেট অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। বিশেষ করে জলাবদ্ধতা নিরসন ও অবকাঠামো উন্নয়নের প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে নগরবাসীর জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে বলে মনে করছেন তারা।

সামগ্রিকভাবে বলা যায়, শাহজালাল মাজার জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী—এই সফর শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং উন্নয়ন কার্যক্রমের ধারাবাহিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সিলেটে তার এই কর্মসূচি স্থানীয় জনগণের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পর্যটন খাতে বিশেষ অবদান, শাখাওয়াত হোসেন পেলেন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি

শাহজালাল (রহঃ) মাজার জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী, সিলেটে কর্মসূচি

Update Time : ১১:০৬:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

সিলেট সফরে গিয়ে সুফিসাধক হজরত শাহজালাল (রহঃ)-এর মাজার জিয়ারত করেছেন প্রধানমন্ত্রী। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি মাজারে পৌঁছে জিয়ারত করেন। এ সময় তার সফরকে ঘিরে এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। সকাল থেকেই সিলেটে বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করছে। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ছিল এবং থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছিল। তবে প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে প্রধানমন্ত্রী তার নির্ধারিত কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। মাজার জিয়ারতের সময় প্রধানমন্ত্রী বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। দেশের শান্তি, উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণ কামনা করে দোয়া করা হয়। উপস্থিত নেতাকর্মী ও প্রশাসনের কর্মকর্তারাও এ সময় সঙ্গে ছিলেন।

শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার সিলেটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থান। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ এখানে জিয়ারত করতে আসেন। প্রধানমন্ত্রীর এই সফর স্থানীয়দের মধ্যে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। মাজার জিয়ারতের পর প্রধানমন্ত্রী সিলেট সার্কিট হাউস এলাকায় যান। সেখানে সুরমা নদীর পাড়ের চাঁদনিঘাট এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসনে একটি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে নগরের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এরপর তিনি একটি সুধী সমাবেশে অংশ নেবেন। সেখানে স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। এতে প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত থাকবেন।

বেলা ১১টা ৩৫ মিনিটে বাংলাদেশ ওভারসিজ সেন্টার সিলেটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এ কেন্দ্রটি চালু হলে বিদেশগামী কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও সেবা প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। দুপুর ১২টায় সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নে বাসিয়া খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নতি হবে এবং কৃষিকাজেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। সিলেট সফরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত একটি কর্মসূচি। বিকাল ৩টায় সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে শিশু ও কিশোরদের ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।

এই কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের তরুণ প্রতিভাদের খুঁজে বের করে তাদের প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়া হবে। ক্রীড়াক্ষেত্রে নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে নিতে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। দিনব্যাপী কর্মসূচি শেষে বিকাল ৫টায় একটি দলীয় সভায় অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানা গেছে। সফরের শেষ পর্যায়ে তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন। তার এই সফরকে ঘিরে সিলেটজুড়ে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়ে তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে এবং ব্যানার-ফেস্টুন দিয়ে সাজানো হয়েছে শহর।

প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব পালন করছেন, যাতে কর্মসূচি নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তারা আশা করছেন, ঘোষিত উন্নয়ন প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়িত হবে এবং সিলেট অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। বিশেষ করে জলাবদ্ধতা নিরসন ও অবকাঠামো উন্নয়নের প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে নগরবাসীর জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে বলে মনে করছেন তারা।

সামগ্রিকভাবে বলা যায়, শাহজালাল মাজার জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী—এই সফর শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং উন্নয়ন কার্যক্রমের ধারাবাহিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সিলেটে তার এই কর্মসূচি স্থানীয় জনগণের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।