বাংলাদেশে হত্যাকাণ্ড পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পুলিশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে সারা দেশে ৮৫৪টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকায় ৬১টি খুনের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। রাজধানীতে প্রায়ই প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটছে। এতে নগরবাসীর মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে নিউমার্কেট এলাকায় প্রকাশ্যে গুলি করে শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটনকে হত্যা করা হয়, যা আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে দেশে মোট তিন হাজার ২৩টি হত্যাকাণ্ডের মামলা হয়েছিল। ২০২৪ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় তিন হাজার ৪৪২টিতে। আর গত বছর তা বেড়ে হয় তিন হাজার ৭৮৬টি। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত দেশে মোট ৮৫৪টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। জানুয়ারিতে ২৮৭টি, ফেব্রুয়ারিতে ২৫০টি এবং মার্চে ৩১৭টি হত্যাকাণ্ডের মামলা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনা বেড়েছে। নিউমার্কেট এলাকায় টিটন হত্যার ঘটনায় দেখা যায়, মাস্ক পরা সন্ত্রাসীরা তাকে লক্ষ্য করে একাধিক গুলি চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ব্যস্ত সড়কের মাঝেই গুলির ঘটনা ঘটে এবং এতে আশপাশের মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর অপরাধ জগত এখন কয়েকটি গ্রুপে বিভক্ত। মোহাম্মদপুর, ধানমণ্ডি, হাজারীবাগ এবং এলিফ্যান্ট রোড এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসীদের আধিপত্য বিস্তারের লড়াই চলছে। বিশেষ করে পিচ্চি হেলাল ও সানজিদুল ইসলাম ইমনের গ্রুপের মধ্যে বিরোধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
সূত্র মতে, অনেক শীর্ষ সন্ত্রাসী বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করে ঢাকার অপরাধ জগত নিয়ন্ত্রণ করছে। দুবাই, থাইল্যান্ড, ভারত ও সুইডেন থেকে ফোনের মাধ্যমে ব্যবসায়ী ও কর্মকর্তাদের কাছে চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে খুনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এস এন মো. নজরুল ইসলাম বলেন, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। তিনি জানান, অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের কর্মকর্তারা মনে করছেন, দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি। তাদের মতে, নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।






















