বন্ধ কলকারখানা চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বন্ধ কলকারখানা চালু করে শ্রমিকদের কর্মসংস্থান বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
কলকারখানা চালু করার উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের শিল্পখাত পুনরুজ্জীবিত করতে সরকার ইতোমধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। মহান মে দিবস উপলক্ষে রাজধানীর নয়াপল্টনে আয়োজিত এক শ্রমিক সমাবেশে তিনি এ কথা জানান। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা শিল্পকারখানাগুলো পুনরায় চালু করে বেকার শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাই সরকারের মূল লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এই কলকারখানা চালু পরিকল্পনার মাধ্যমে শুধু অর্থনীতি চাঙ্গা হবে না, বরং দেশের লাখো শ্রমিক পরিবার নতুন করে আশার আলো দেখবে। তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পরই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, অতীতে নানা কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানাগুলো দেশের অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তাই কলকারখানা চালু করা এখন সময়ের দাবি। তিনি জানান, এ বিষয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ইতোমধ্যে নির্ধারিত হয়েছে, যেখানে কীভাবে দ্রুত এসব কারখানা পুনরায় চালু করা যায়, সে বিষয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।
তিনি অতীত সরকারের সমালোচনা করে বলেন, শিল্পখাতকে ধ্বংস করে দেশকে আমদানিনির্ভর করে তোলা হয়েছিল। বর্তমান সরকার সেই অবস্থার পরিবর্তন এনে স্থানীয় উৎপাদন বাড়াতে চায়। এই বন্ধ কলকারখানা চালু উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশীয় শিল্প আবার শক্ত অবস্থানে ফিরে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
শ্রমিকদের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, শুধু কলকারখানা চালু করাই নয়, বরং নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতেও দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের চেষ্টা চলছে। এতে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে এবং শ্রমিকদের জীবনমান উন্নত হবে।
একই সঙ্গে শহরের হকারদের পুনর্বাসন নিয়েও সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি। যানজট নিরসনে উচ্ছেদ কার্যক্রম চালানো হলেও তাদের বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই বন্ধ কলকারখানা চালু উদ্যোগ এবং নতুন বিনিয়োগ নীতির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এছাড়া রাষ্ট্র সংস্কারের অংশ হিসেবে সরকার ৩১ দফা বাস্তবায়নে কাজ করছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, শ্রমিক ও কৃষক পরিবারের জন্য বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচি চালু করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ঋণ মওকুফ, ফ্যামিলি কার্ড এবং সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা।
কলকারখানা চালু উদ্যোগের পাশাপাশি এসব পদক্ষেপ দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, দেশের অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করতে একটি মহল ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে, তবে জনগণের সমর্থন নিয়ে সরকার এগিয়ে যাচ্ছে। এই কলকারখানা চালু পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং শিল্পখাত নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।



























