ঢাকা ১০:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

গণভোটের রায় অস্বীকার করছে সরকার, সংকটের আশঙ্কা: মিয়া গোলাম পরওয়ার

  • Asrafi Al Nahin
  • Update Time : ০৭:৫১:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬
  • ৫১২

গণভোটের রায় অস্বীকার করছে সরকার, সংকটের আশঙ্কা: মিয়া গোলাম পরওয়ার

গণভোটের রায় অস্বীকার করে সরকার দেশকে একটি গভীর রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেছেন, জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে দেওয়া ম্যান্ডেট উপেক্ষা করা হলে তা শুধু রাজনৈতিক কৌশল নয়, বরং গণতন্ত্রের মৌলিক চেতনার পরিপন্থী।

শনিবার (২ মে ২০২৬) সকালে খুলনা প্রেসক্লাবের ব্যাংকোয়েট হলে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার: সংকটের মুখোমুখি দেশ’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে খুলনা মহানগরী জামায়াতে ইসলামী।

মিয়া গোলাম পরওয়ার দাবি করেন, সরকার পরিকল্পিতভাবে ‘জুলাই সনদ’ এবং গণভোটের রায়—এই দুই বিষয়কে আলাদা করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। তিনি বলেন, সরকারের মন্ত্রীরা সংসদে বারবার জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কথা বললেও গণভোটে জনগণের দেওয়া সরাসরি রায় নিয়ে কোনো সুস্পষ্ট অবস্থান দিচ্ছেন না। এতে জনগণের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে, সরকারের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী।

তিনি আরও বলেন, গণভোটের আগে দীর্ঘ সময় থাকা সত্ত্বেও সরকার বা সংশ্লিষ্ট মহল থেকে কোনো আপত্তি তোলা হয়নি। ১৭ অক্টোবর জুলাই সনদে স্বাক্ষর, ১৩ নভেম্বর রাষ্ট্রপতির আদেশ জারি, ২৫ নভেম্বর গণভোটের অধ্যাদেশ এবং পরবর্তীতে ফেব্রুয়ারিতে ভোটগ্রহণ—এই পুরো প্রক্রিয়ার কোথাও কেউ অসাংবিধানিকতার প্রশ্ন তোলেনি। অথচ এখন ক্ষমতায় এসে একই বিষয়কে অবৈধ বলা হচ্ছে, যা জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।

সরকার নিজেদের ক্ষমতা ধরে রাখতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রস্তাব এড়িয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, প্রধানমন্ত্রী একই সঙ্গে দলপ্রধান থাকতে পারবেন না—এমন প্রস্তাবে আপত্তি রয়েছে সরকারের। পাশাপাশি উচ্চকক্ষে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক চুক্তি সংসদে উপস্থাপন বাধ্যতামূলক করা, বিচারপতি নিয়োগে স্বাধীন কমিশন গঠন, পাবলিক সার্ভিস কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশনে প্রধানমন্ত্রীর প্রভাব কমানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোও সরকার গ্রহণ করতে চাইছে না। এসব সংস্কার ছাড়া গণতান্ত্রিক কাঠামো শক্তিশালী করা সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বর্তমান পরিস্থিতিকে তিনি কর্তৃত্ববাদী প্রবণতার ইঙ্গিত হিসেবে উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে জনগণের রায়কে উপেক্ষা করা গণতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য নয়, বরং ফ্যাসিবাদী আচরণের বহিঃপ্রকাশ। এ ধরনের প্রবণতা অব্যাহত থাকলে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা, সংঘাত এমনকি সহিংসতার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, এখনো সময় আছে পরিস্থিতি সংশোধনের। জনগণের রায়কে সম্মান জানিয়ে সংসদে তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায় এর দায় সরকারকেই নিতে হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “পাঁচ কোটি মানুষের দেওয়া রায় যদি বাস্তবায়িত না হয়, তাহলে আমরা আবার জনগণের কাছে ফিরে যাব। তখন আন্দোলনই হবে একমাত্র পথ।”

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন খুলনা মহানগরী জামায়াতের আমির মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সহসভাপতি শফিকুল আলম এবং খুলনা জেলা আমির এমরান হুসাইন।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ল ইয়ার্স কাউন্সিলের সহসভাপতি মুহাম্মদ শাহ আলম। আলোচনায় অংশ নেন সাবেক উপসচিব শ ম আবু তালিব, শিক্ষাবিদ শামসুজ্জামান, অধ্যক্ষ আবদুর রহমান, এনসিপির নেতা আহম্মদ হামীম এবং খেলাফত মজলিশের নেতা এফ এস হারুন অর রশীদসহ আরও অনেকে।

সেমিনারে বক্তারা গণভোটের রায়ের যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন এবং রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে চলমান সংকট নিরসনের আহ্বান জানান।

জনপ্রিয় সংবাদ

আকিজ গ্রুপে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি : হিসাবরক্ষক পদে চাকরির সুযোগ, সাথে আবাসন সুবিধা

গণভোটের রায় অস্বীকার করছে সরকার, সংকটের আশঙ্কা: মিয়া গোলাম পরওয়ার

Update Time : ০৭:৫১:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

গণভোটের রায় অস্বীকার করে সরকার দেশকে একটি গভীর রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেছেন, জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে দেওয়া ম্যান্ডেট উপেক্ষা করা হলে তা শুধু রাজনৈতিক কৌশল নয়, বরং গণতন্ত্রের মৌলিক চেতনার পরিপন্থী।

শনিবার (২ মে ২০২৬) সকালে খুলনা প্রেসক্লাবের ব্যাংকোয়েট হলে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার: সংকটের মুখোমুখি দেশ’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে খুলনা মহানগরী জামায়াতে ইসলামী।

মিয়া গোলাম পরওয়ার দাবি করেন, সরকার পরিকল্পিতভাবে ‘জুলাই সনদ’ এবং গণভোটের রায়—এই দুই বিষয়কে আলাদা করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। তিনি বলেন, সরকারের মন্ত্রীরা সংসদে বারবার জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কথা বললেও গণভোটে জনগণের দেওয়া সরাসরি রায় নিয়ে কোনো সুস্পষ্ট অবস্থান দিচ্ছেন না। এতে জনগণের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে, সরকারের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী।

আরও পড়ুন  শ্রমিক সমাবেশ নয়াপল্টনে বিএনপির কর্মসূচিতে বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী

তিনি আরও বলেন, গণভোটের আগে দীর্ঘ সময় থাকা সত্ত্বেও সরকার বা সংশ্লিষ্ট মহল থেকে কোনো আপত্তি তোলা হয়নি। ১৭ অক্টোবর জুলাই সনদে স্বাক্ষর, ১৩ নভেম্বর রাষ্ট্রপতির আদেশ জারি, ২৫ নভেম্বর গণভোটের অধ্যাদেশ এবং পরবর্তীতে ফেব্রুয়ারিতে ভোটগ্রহণ—এই পুরো প্রক্রিয়ার কোথাও কেউ অসাংবিধানিকতার প্রশ্ন তোলেনি। অথচ এখন ক্ষমতায় এসে একই বিষয়কে অবৈধ বলা হচ্ছে, যা জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।

সরকার নিজেদের ক্ষমতা ধরে রাখতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রস্তাব এড়িয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, প্রধানমন্ত্রী একই সঙ্গে দলপ্রধান থাকতে পারবেন না—এমন প্রস্তাবে আপত্তি রয়েছে সরকারের। পাশাপাশি উচ্চকক্ষে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক চুক্তি সংসদে উপস্থাপন বাধ্যতামূলক করা, বিচারপতি নিয়োগে স্বাধীন কমিশন গঠন, পাবলিক সার্ভিস কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশনে প্রধানমন্ত্রীর প্রভাব কমানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোও সরকার গ্রহণ করতে চাইছে না। এসব সংস্কার ছাড়া গণতান্ত্রিক কাঠামো শক্তিশালী করা সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আরও পড়ুন  বিএনপির সাংবাদিক হওয়ার দরকার নাই, সাংবাদিক হোন: অর্থমন্ত্রী

বর্তমান পরিস্থিতিকে তিনি কর্তৃত্ববাদী প্রবণতার ইঙ্গিত হিসেবে উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে জনগণের রায়কে উপেক্ষা করা গণতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য নয়, বরং ফ্যাসিবাদী আচরণের বহিঃপ্রকাশ। এ ধরনের প্রবণতা অব্যাহত থাকলে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা, সংঘাত এমনকি সহিংসতার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, এখনো সময় আছে পরিস্থিতি সংশোধনের। জনগণের রায়কে সম্মান জানিয়ে সংসদে তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায় এর দায় সরকারকেই নিতে হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “পাঁচ কোটি মানুষের দেওয়া রায় যদি বাস্তবায়িত না হয়, তাহলে আমরা আবার জনগণের কাছে ফিরে যাব। তখন আন্দোলনই হবে একমাত্র পথ।”

আরও পড়ুন  নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র বাতিল করল ইসি, আটকে আছেন মনিরাও!

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন খুলনা মহানগরী জামায়াতের আমির মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সহসভাপতি শফিকুল আলম এবং খুলনা জেলা আমির এমরান হুসাইন।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ল ইয়ার্স কাউন্সিলের সহসভাপতি মুহাম্মদ শাহ আলম। আলোচনায় অংশ নেন সাবেক উপসচিব শ ম আবু তালিব, শিক্ষাবিদ শামসুজ্জামান, অধ্যক্ষ আবদুর রহমান, এনসিপির নেতা আহম্মদ হামীম এবং খেলাফত মজলিশের নেতা এফ এস হারুন অর রশীদসহ আরও অনেকে।

সেমিনারে বক্তারা গণভোটের রায়ের যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন এবং রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে চলমান সংকট নিরসনের আহ্বান জানান।