ভূমধ্যসাগরে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের বহনকারী একটি নৌকা ডুবে যাওয়ার ঘটনায় বহু মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন। আশঙ্কা করা হচ্ছে, অন্তত ৭০ জনের বেশি প্রাণ হারাতে পারেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (৫ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা International Organization for Migration (আইওএম) এবং UNHCR-এর স্থানীয় প্রতিনিধিরা জানান, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও মিশরের নাগরিক রয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন অপ্রাপ্তবয়স্কও রয়েছে।
উদ্ধারপ্রাপ্তদের বর্ণনা অনুযায়ী, ১০০ জনেরও বেশি মানুষ একটি ছোট নৌকায় করে লিবিয়ার Tajoura port বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেন। শুক্রবার রাত থেকে শনিবার ভোরের মধ্যে তারা ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে বের হন। তবে সাগরের পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত প্রতিকূল, প্রবল ঢেউয়ের কারণে নৌকাটিতে দ্রুত পানি ঢুকতে শুরু করে এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এটি উল্টে যায়।
জার্মান উদ্ধার সংস্থা Sea-Watch জানায়, তাদের একটি নজরদারি উড়োজাহাজ শনিবার একটি বিপদগ্রস্ত নৌকার সন্ধান পায়। ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা উল্টে থাকা একটি কাঠের নৌকা দেখতে পায়, যেখানে কয়েকজন মানুষ মরিয়া হয়ে সেটির সাথে আঁকড়ে ছিলেন।
ইতালীয় কোস্ট গার্ডের মুখপাত্র Roberto D’Arigo জানান, উদ্ধার অভিযানটি লিবিয়ার কোস্ট গার্ডের সমন্বয়ে পরিচালিত হয়। এতে একটি ইতালীয় এবং একটি লাইবেরিয়ান বাণিজ্যিক জাহাজ অংশ নেয়।
পরে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের ইতালির দক্ষিণাঞ্চলের দ্বীপ Lampedusa-এর কাছাকাছি এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। এই দ্বীপটি দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপে প্রবেশের অন্যতম প্রধান প্রবেশপথ হিসেবে পরিচিত।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৪ সাল থেকে আইওএম ভূমধ্যসাগরে অভিবাসীদের মৃত্যুর তথ্য সংগ্রহ শুরু করার পর এখন পর্যন্ত ৩৩ হাজারের বেশি মানুষ এই পথে মারা গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন। এদের অধিকাংশই উত্তর আফ্রিকার দেশগুলো থেকে ইউরোপে যাওয়ার পথে প্রাণ হারিয়েছেন।
চলতি বছরেও ভূমধ্যসাগরে দুর্ঘটনার সংখ্যা কমেনি। ইতোমধ্যে অন্তত ৭২৫ জন নিখোঁজ হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ফেব্রুয়ারির একটি ঘটনায় ৫০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ হন।


























