ঢাকা ১২:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo চবিতে দেশের প্রথম ওশান স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশন চালু Logo রাশিয়ায় এক লাখ কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা বাংলাদেশের, দ্রুত সম্মতি দিল রাশিয়া Logo মোবাইলে বিশ্বকাপ দেখবেন যেভাবে, জেনে নিন লাইভ স্ট্রিমিং গাইড Logo মেসির প্রত্যাবর্তন ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে Logo বন্যপ্রাণী পাচারকারী গ্রেপ্তার: কক্সবাজারে উদ্ধার ক্যাপড ল্যাঙ্গুর ও ১২ কচ্ছপ Logo ওয়ালটন চাকরি: আরএসএম পদে আবেদন চলছে Logo নোয়াখালীতে প্রকাশ্যে রাজমিস্ত্রিকে গুলি, হাসপাতালে ভর্তি Logo রাশিয়ায় কর্মী পাঠানো বাড়াতে নতুন পরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশ Logo মার্তিনেজকে দলে চায় জুভেন্তাস, বিশ্বকাপের আগে জোর গুঞ্জন Logo অনার্স কোর্স: উচ্চশিক্ষায় নতুন সংস্কার পরিকল্পনা

পল্লবী শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলা: ‘আমি একজন ধর্ষিতার বাবা, আমি কি তার জন্য দায়ী?’

পল্লবী শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলা নিয়ে গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য দিচ্ছেন নিহত শিশুর বাবা। ছবি: সংগৃহীত

পল্লবী শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলা দেশের মানুষকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যার শিকার আট বছর বয়সী শিশুটির বাবা এক আবেগঘন বক্তব্যে সমাজ ও রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন , “আমি একজন ধর্ষিতার বাবা, একজন খণ্ডিত লাশের বাবা। কিন্তু আমি কি এর জন্য দায়ী?”

শনিবার রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশে শিশু নির্যাতন ও করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিজের মনের যন্ত্রণা তুলে ধরেন। বিএনপির উদ্যোগে গঠিত ‘নিপীড়িত নারী ও শিশুদের আইনি ও স্বাস্থ্যসহায়তা সেল’ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

বক্তব্যে তিনি বলেন, একজন বাবা হিসেবে তিনি কখনোই এমন পরিচয় চাননি। তিনি একজন গর্বিত পিতা হয়ে থাকতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আজ তাঁকে মানুষ চিনছে একজন ধর্ষিত শিশুর বাবা ও খণ্ডিত লাশের বাবা হিসেবে। তাঁর প্রশ্ন, এই ভয়াবহ ঘটনার দায় কার – তাঁর, সমাজের নাকি রাষ্ট্রের?

তিনি উপস্থিত সবার কাছে হাতজোড় করে আবেদন জানিয়ে বলেন, তাঁকে যেন তাঁর সম্মান ফিরিয়ে দেওয়া হয়। যদি তা সম্ভব না হয়, তবে অন্তত এমন একটি নিরাপদ সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলা হোক, যেখানে আর কোনো বাবা-মাকে সন্তানের এমন নির্মম পরিণতি দেখতে না হয়।

পল্লবী শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি তাঁর পরিবারের বর্তমান অবস্থার কথাও তুলে ধরেন। ঘটনার ১৩ দিন পরও তাঁর স্ত্রী মারাত্মক মানসিক ট্রমার মধ্যে রয়েছেন। কী করছেন বা কোথায় যাচ্ছেন, অনেক সময় নিজেও বুঝতে পারছেন না। পরিবারের সদস্যদের সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখতে হচ্ছে তাঁকে।

শুধু নিজের পরিবার নয়, দেশের সব শিশুর মানসিক অবস্থাও তাঁকে ভাবিয়ে তুলছে। তিনি জানান, সম্প্রতি তাঁদের বাড়িতে আসা মাত্র পাঁচ বছরের একটি শিশু ‘ধর্ষণ’ শব্দটি শিখে গেছে। ভয় ও আতঙ্কে সে একা টয়লেটেও যেতে পারছে না। মায়ের আঁচল ছেড়ে এক মুহূর্তও থাকতে চায় না। তাঁর মতে, এ ঘটনা প্রমাণ করে শিশুদের মনে কতটা গভীর ভয় ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।

তিনি মেয়ের হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন। তাঁর বিশ্বাস, কঠোর বিচার নিশ্চিত হলে ভবিষ্যতে এমন অপরাধ কমে আসবে এবং সমাজে একটি শক্ত বার্তা পৌঁছাবে।

উল্লেখ্য, গত ১৯ মে পল্লবীর একটি ফ্ল্যাট থেকে শিশুটির খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি পালিয়ে গেলেও পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার রায় আগামী ৭ জুন ঘোষণা করা হবে বলে আদালত জানিয়েছেন।

দেশজুড়ে আলোচিত পল্লবী শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলা এখন বিচারপ্রক্রিয়ার শেষ পর্যায়ে। ভুক্তভোগী পরিবারসহ সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চবিতে দেশের প্রথম ওশান স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশন চালু

পল্লবী শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলা: ‘আমি একজন ধর্ষিতার বাবা, আমি কি তার জন্য দায়ী?’

Update Time : ০৩:৩৮:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬

পল্লবী শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলা দেশের মানুষকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যার শিকার আট বছর বয়সী শিশুটির বাবা এক আবেগঘন বক্তব্যে সমাজ ও রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন , “আমি একজন ধর্ষিতার বাবা, একজন খণ্ডিত লাশের বাবা। কিন্তু আমি কি এর জন্য দায়ী?”

শনিবার রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশে শিশু নির্যাতন ও করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিজের মনের যন্ত্রণা তুলে ধরেন। বিএনপির উদ্যোগে গঠিত ‘নিপীড়িত নারী ও শিশুদের আইনি ও স্বাস্থ্যসহায়তা সেল’ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

বক্তব্যে তিনি বলেন, একজন বাবা হিসেবে তিনি কখনোই এমন পরিচয় চাননি। তিনি একজন গর্বিত পিতা হয়ে থাকতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আজ তাঁকে মানুষ চিনছে একজন ধর্ষিত শিশুর বাবা ও খণ্ডিত লাশের বাবা হিসেবে। তাঁর প্রশ্ন, এই ভয়াবহ ঘটনার দায় কার – তাঁর, সমাজের নাকি রাষ্ট্রের?

আরও পড়ুন  শনিবার যেসব এলাকায় ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না, জেনে নিন

তিনি উপস্থিত সবার কাছে হাতজোড় করে আবেদন জানিয়ে বলেন, তাঁকে যেন তাঁর সম্মান ফিরিয়ে দেওয়া হয়। যদি তা সম্ভব না হয়, তবে অন্তত এমন একটি নিরাপদ সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলা হোক, যেখানে আর কোনো বাবা-মাকে সন্তানের এমন নির্মম পরিণতি দেখতে না হয়।

পল্লবী শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি তাঁর পরিবারের বর্তমান অবস্থার কথাও তুলে ধরেন। ঘটনার ১৩ দিন পরও তাঁর স্ত্রী মারাত্মক মানসিক ট্রমার মধ্যে রয়েছেন। কী করছেন বা কোথায় যাচ্ছেন, অনেক সময় নিজেও বুঝতে পারছেন না। পরিবারের সদস্যদের সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখতে হচ্ছে তাঁকে।

আরও পড়ুন  যাত্রী সংকটে ঢাকা রুটসহ ফ্লাইট স্থগিত করল এয়ার ইন্ডিয়া

শুধু নিজের পরিবার নয়, দেশের সব শিশুর মানসিক অবস্থাও তাঁকে ভাবিয়ে তুলছে। তিনি জানান, সম্প্রতি তাঁদের বাড়িতে আসা মাত্র পাঁচ বছরের একটি শিশু ‘ধর্ষণ’ শব্দটি শিখে গেছে। ভয় ও আতঙ্কে সে একা টয়লেটেও যেতে পারছে না। মায়ের আঁচল ছেড়ে এক মুহূর্তও থাকতে চায় না। তাঁর মতে, এ ঘটনা প্রমাণ করে শিশুদের মনে কতটা গভীর ভয় ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন  রূপপুরে জ্বালানি লোডিংয়ের অনুমোদন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় অগ্রগতি

তিনি মেয়ের হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন। তাঁর বিশ্বাস, কঠোর বিচার নিশ্চিত হলে ভবিষ্যতে এমন অপরাধ কমে আসবে এবং সমাজে একটি শক্ত বার্তা পৌঁছাবে।

উল্লেখ্য, গত ১৯ মে পল্লবীর একটি ফ্ল্যাট থেকে শিশুটির খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি পালিয়ে গেলেও পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার রায় আগামী ৭ জুন ঘোষণা করা হবে বলে আদালত জানিয়েছেন।

দেশজুড়ে আলোচিত পল্লবী শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলা এখন বিচারপ্রক্রিয়ার শেষ পর্যায়ে। ভুক্তভোগী পরিবারসহ সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে।