প্রবাসী বাংলাদেশিদের সমস্যা সমাধানে সংসদে টাস্কফোর্স গঠনের দাবি জানিয়েছেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। তারা বলেছেন, বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিরা দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের হয়রানি, শোষণ ও প্রশাসনিক জটিলতার মুখোমুখি হচ্ছেন। এসব সমস্যা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
বুধবার সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের আনা এক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যরা প্রবাসীদের দুর্ভোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, রেমিট্যান্স যোদ্ধারা দেশের অর্থনীতিতে বিশাল অবদান রাখলেও বিমানবন্দর, দূতাবাস এবং পাসপোর্ট সেবায় নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
জামায়াতের সংসদ সদস্য নজিবুর রহমান প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে একটি সংসদীয় টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দেন। এ প্রস্তাবকে সমর্থন করে শফিকুর রহমান বলেন, টাস্কফোর্স বিভিন্ন দেশে গিয়ে প্রবাসীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবে এবং দূতাবাস কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ত করে সমস্যার বাস্তব চিত্র তুলে আনবে। এর মাধ্যমে শুধু রেমিট্যান্স বৃদ্ধি নয়, প্রবাসীদের মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রবাসীদের আমরা দেশের যোদ্ধা বলে থাকি। তাই তাদের প্রকৃত সম্মান ও স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজন হলে বিরোধী দল সরকারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, অতীতে প্রবাসীরা বিভিন্নভাবে শোষণের শিকার হয়েছেন এবং তাদের অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। তিনি সংসদ সদস্যদের উত্থাপিত বিষয়গুলোকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর জানান, বর্তমানে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ রয়েছে। তবে শ্রমবাজার পুনরায় চালু হলে যাতে কোনো সিন্ডিকেট তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রায় ৩ হাজার লাইসেন্সধারী রিক্রুটিং এজেন্সির কার্যক্রম পর্যালোচনা করে গ্রেডিং করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নুর আরও জানান, সঠিক যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে অযোগ্য ও অনিয়মকারী এজেন্সিগুলোকে চিহ্নিত করা হবে। এতে প্রতারণা ও অনিয়ম কমবে এবং বিদেশগামী কর্মীরা উপকৃত হবেন।
গৃহমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালু করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। তিনি জানান, বিরোধী দলের প্রস্তাব অনুযায়ী শ্রমবাজার ও প্রবাসীদের সমস্যা পর্যালোচনায় একটি টাস্কফোর্স গঠনের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, প্রবাসীদের বিমানবন্দরসহ সব জায়গায় সম্মান ও অগ্রাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। এ লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয় যৌথভাবে একটি কার্যকর কমিটি গঠন করতে পারে।




























