ঢাকা ০১:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo জুমার দিনের গুরুত্বপূর্ণ ১৫ আমল Logo এবার ফিফার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান কনক্যাকাফের ৪১ দেশের Logo উত্তর কাঞ্চননগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদকে বরণ, আন্তঃবিদ্যালয় বার্ষিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ Logo জুমার দিনের আমল: বড় সওয়াবের এই সুযোগ হাতছাড়া করবেন না Logo অস্ট্রিয়ায় উচ্চশিক্ষা: ভর্তি, খরচ, স্কলারশিপ ও কাজের সুযোগ জানুন Logo গুঁড়া দুধ: স্বাস্থ্যকর নাকি ক্ষতিকর? জানুন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ Logo সাকিব আল হাসান: জাফনা কিংসের জয়ে অলরাউন্ড পারফরম্যান্স Logo শিশুকে নামাজ শেখানো: রাসুল (সা.) কী নির্দেশ দিয়েছেন? Logo শিশুর চিনি খাওয়া কমালে মস্তিষ্ক ভালো থাকতে পারে, বলছে গবেষণা Logo ফিফা বিশ্বকাপ বয়কটের ঘোষণা UEFA-এর, বিনিয়োগ পরিকল্পনা ঘিরে নতুন বিতর্ক

হাম রোগীদের আন্তর্জাতিকমানের চিকিৎসা দিচ্ছে সরকার

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৬:০৬:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
  • ৫৫২

চিত্রঃ হাম রোগীদের উন্নত চিকিৎসা ও টিকাদান কার্যক্রম জোরদারের কথা জানিয়েছে সরকার

হাম রোগীদের চিকিৎসায় আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সব ধরনের সেবা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, তবে নানা প্রতিকূলতার কারণে পরিস্থিতি সামাল দিতে কিছুটা সময় লাগছে। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ডিএনসিসি কোভিড-১৯ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, সরকার খুব অল্প সময়ের মধ্যে হামের টিকার ব্যবস্থা করতে সক্ষম হয়েছে। এরই মধ্যে দেশের প্রায় ৯৮ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে। তবে টিকার সুফল পুরোপুরি পেতে কিছুটা সময় লাগবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, পরিস্থিতির অবনতি হলে হাসপাতালের সক্ষমতা আরও বাড়ানো হবে। রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিচ্ছে। মন্ত্রী আরও বলেন, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোও বাংলাদেশের দ্রুত টিকা সংগ্রহ ও প্রয়োগ কার্যক্রমের প্রশংসা করেছে। তার দাবি, এত অল্প সময়ে বিপুল জনগোষ্ঠীর জন্য এত বড় পরিমাণ টিকার ব্যবস্থা করা বিশ্বের অনেক দেশের পক্ষেও সম্ভব হয়নি। তিনি জানান, দেশের চিকিৎসকেরা অত্যন্ত পরিশ্রমের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। সীমিত সম্পদ নিয়েও তারা রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আগের সরকারের সময় স্বাস্থ্যখাতে প্রয়োজনীয় অনেক সরঞ্জামের ঘাটতি ছিল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর শূন্য অবস্থা থেকে কাজ শুরু করতে হয়েছে। তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে শ্বাসপ্রশ্বাস সহায়ক যন্ত্র স্থাপন করা হয়েছে। আগামী মঙ্গলবার আরও ১০ জেলায় নতুন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র চালু করা হবে। প্রত্যেক কেন্দ্রে ১২টি করে শ্বাসপ্রশ্বাস সহায়ক যন্ত্র এবং একটি করে অক্সিজেন সরবরাহ যন্ত্র দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। এর ফলে রোগীদের আরও উন্নত সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।

মন্ত্রী বলেন, শিশুদের জন্য দেশে বা আন্তর্জাতিকভাবে যেসব চিকিৎসা পদ্ধতি রয়েছে, তার কোনো কিছুই বাদ দেওয়া হচ্ছে না। তবে শিশুদের পুষ্টিহীনতা বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিচ্ছে। তিনি জানান, শিশুদের প্রতি বছর দুইবার ভিটামিন এ দেওয়ার কথা থাকলেও গত বছর তা একবার দেওয়া হয়েছিল। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত কোনো ভিটামিন এ কর্মসূচি হয়নি, তবে সরকার নতুন করে কর্মসূচি শুরু করেছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী ১০ জুনের মধ্যে বিপুল পরিমাণ ভিটামিন এ দেশে পৌঁছাবে। এরপর দেশব্যাপী শিশুদের মধ্যে তা বিতরণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, মায়েদের পুষ্টির অভাব, শিশুদের পর্যাপ্ত পুষ্টি না পাওয়া এবং মাতৃদুগ্ধ পান কমে যাওয়াও হামের প্রকোপ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। তার মতে, অনেক ক্ষেত্রে জন্মের পর শিশুদের মায়ের প্রথম দুধ খাওয়ানো হয় না। ফলে শিশুর স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, শিশুদের সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করা গেলে হামের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে। এজন্য পরিবার ও সমাজের সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

জুমার দিনের গুরুত্বপূর্ণ ১৫ আমল

হাম রোগীদের আন্তর্জাতিকমানের চিকিৎসা দিচ্ছে সরকার

Update Time : ০৬:০৬:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

হাম রোগীদের চিকিৎসায় আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সব ধরনের সেবা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, তবে নানা প্রতিকূলতার কারণে পরিস্থিতি সামাল দিতে কিছুটা সময় লাগছে। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ডিএনসিসি কোভিড-১৯ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, সরকার খুব অল্প সময়ের মধ্যে হামের টিকার ব্যবস্থা করতে সক্ষম হয়েছে। এরই মধ্যে দেশের প্রায় ৯৮ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে। তবে টিকার সুফল পুরোপুরি পেতে কিছুটা সময় লাগবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, পরিস্থিতির অবনতি হলে হাসপাতালের সক্ষমতা আরও বাড়ানো হবে। রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিচ্ছে। মন্ত্রী আরও বলেন, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোও বাংলাদেশের দ্রুত টিকা সংগ্রহ ও প্রয়োগ কার্যক্রমের প্রশংসা করেছে। তার দাবি, এত অল্প সময়ে বিপুল জনগোষ্ঠীর জন্য এত বড় পরিমাণ টিকার ব্যবস্থা করা বিশ্বের অনেক দেশের পক্ষেও সম্ভব হয়নি। তিনি জানান, দেশের চিকিৎসকেরা অত্যন্ত পরিশ্রমের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। সীমিত সম্পদ নিয়েও তারা রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

আরও পড়ুন  দুপুরের ঘুম শিশু বিকাশে কেন জরুরি

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আগের সরকারের সময় স্বাস্থ্যখাতে প্রয়োজনীয় অনেক সরঞ্জামের ঘাটতি ছিল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর শূন্য অবস্থা থেকে কাজ শুরু করতে হয়েছে। তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে শ্বাসপ্রশ্বাস সহায়ক যন্ত্র স্থাপন করা হয়েছে। আগামী মঙ্গলবার আরও ১০ জেলায় নতুন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র চালু করা হবে। প্রত্যেক কেন্দ্রে ১২টি করে শ্বাসপ্রশ্বাস সহায়ক যন্ত্র এবং একটি করে অক্সিজেন সরবরাহ যন্ত্র দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। এর ফলে রোগীদের আরও উন্নত সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন  হাম প্রাদুর্ভাব তথ্য নিয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন

মন্ত্রী বলেন, শিশুদের জন্য দেশে বা আন্তর্জাতিকভাবে যেসব চিকিৎসা পদ্ধতি রয়েছে, তার কোনো কিছুই বাদ দেওয়া হচ্ছে না। তবে শিশুদের পুষ্টিহীনতা বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিচ্ছে। তিনি জানান, শিশুদের প্রতি বছর দুইবার ভিটামিন এ দেওয়ার কথা থাকলেও গত বছর তা একবার দেওয়া হয়েছিল। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত কোনো ভিটামিন এ কর্মসূচি হয়নি, তবে সরকার নতুন করে কর্মসূচি শুরু করেছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী ১০ জুনের মধ্যে বিপুল পরিমাণ ভিটামিন এ দেশে পৌঁছাবে। এরপর দেশব্যাপী শিশুদের মধ্যে তা বিতরণ করা হবে।

আরও পড়ুন  প্রাথমিকের ২ লাখ শিক্ষার্থী পাবে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস

তিনি আরও বলেন, মায়েদের পুষ্টির অভাব, শিশুদের পর্যাপ্ত পুষ্টি না পাওয়া এবং মাতৃদুগ্ধ পান কমে যাওয়াও হামের প্রকোপ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। তার মতে, অনেক ক্ষেত্রে জন্মের পর শিশুদের মায়ের প্রথম দুধ খাওয়ানো হয় না। ফলে শিশুর স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, শিশুদের সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করা গেলে হামের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে। এজন্য পরিবার ও সমাজের সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।