বাজেটে দাম কমতে ও বাড়তে পারে যেসব পণ্য এ নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ এখন তুঙ্গে। প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য, চিকিৎসাসামগ্রী, প্রযুক্তিপণ্য ও শিল্প খাতে কর-শুল্ক কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে এসব খাতের অনেক পণ্যের দাম কমতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রস্তাবিত বাজেটে ধান, চাল, গম, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেল, মাছ, গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগিসহ প্রায় ৬০টি কৃষি ও ভোগ্যপণ্যের ওপর উৎসে কর কমিয়ে ০.৫০ শতাংশ করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পাশাপাশি কিছু নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক প্রত্যাহারের পরিকল্পনাও রয়েছে। এতে বাজারে সরবরাহ ব্যয় কমে নিত্যপণ্যের দাম কিছুটা স্বস্তিদায়ক হতে পারে।
শিশুখাদ্য উৎপাদনের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক কমানোর পাশাপাশি খেজুর ও বিভিন্ন মসলার ওপর রেগুলেটরি ডিউটি প্রত্যাহারের প্রস্তাব এসেছে। এতে এসব পণ্যের বাজারদর কমার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে অগ্রিম কর কমানো হলে উৎপাদন ব্যয় হ্রাস পাবে এবং শিল্পপণ্যের দামও স্থিতিশীল থাকতে পারে।
স্বাস্থ্য খাতে রোগীদের জন্য সুখবর রয়েছে। কিডনি ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে কর ছাড়, ওষুধ উৎপাদনের কাঁচামালে শুল্ক প্রত্যাহার, হার্টের রিং ও চোখের লেন্সে ভ্যাট অব্যাহতির প্রস্তাব চিকিৎসা ব্যয় কমাতে সহায়ক হতে পারে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ব্যবহৃত কিছু পণ্যের করও কমানো হচ্ছে।
প্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতেও বড় ধরনের স্বস্তির ইঙ্গিত মিলেছে। মোবাইল ফোন উৎপাদনের কাঁচামালে কর কমানো, নতুন সিমের নির্দিষ্ট ভ্যাট বাতিল এবং টেলিকম খাতের উৎসে কর হ্রাসের ফলে মোবাইল ফোন ও যোগাযোগসেবার খরচ কমতে পারে। এছাড়া কম্পিউটার, মনিটর, প্রিন্টার ও অন্যান্য ডিজিটাল পণ্যের আমদানিতেও কর ছাড়ের প্রস্তাব রয়েছে।
অন্যদিকে কিছু পণ্যে বাড়তে পারে ব্যয়। স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ পণ্য হিসেবে সিগারেটের সব স্তরেই দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। নিকোটিন পাউচ ও হিটেড টোব্যাকোতেও বাড়তি শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে। দেশীয় উৎপাদকদের সুরক্ষায় আমদানি করা কাজুবাদামের শুল্ক বাড়ানো হলে এর বাজারদরও বাড়তে পারে।
এ ছাড়া বিলাসবহুল পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলচালিত গাড়ির করহার বাড়ানোর প্রস্তাব এসেছে। ফলে এসব গাড়ির দাম আরও বেড়ে যেতে পারে। রড ও ইস্পাতজাত কিছু পণ্য, আমদানি করা পাঙাশ ফিশ ফিলেট এবং কিছু বিলাসী সেবার ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত কর আরোপের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে এবারের বাজেটে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে খাদ্য, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি ও জ্বালানি খাতে কর ছাড়ের উদ্যোগ নেওয়া হলেও রাজস্ব আদায়ের উচ্চ লক্ষ্য বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়ে আনাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

























