বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সফল দল আর্জেন্টিনা অসংখ্য শিরোপা, কিংবদন্তি ফুটবলার এবং ঐতিহাসিক সাফল্যের জন্য পরিচিত। তবে তাদের সমৃদ্ধ ইতিহাসের পেছনে রয়েছে কিছু তিক্ত স্মৃতিও। বিভিন্ন সময়ে বেশ কয়েকটি দলের কাছে বড় ব্যবধানে হারতে হয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।
বিশ্বকাপ এলেই ফুটবল সমর্থকদের মধ্যে নানা ধরনের পরিসংখ্যান নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। কোন দল সবচেয়ে বেশি শিরোপা জিতেছে, কারা সবচেয়ে বেশি গোল করেছে কিংবা কোন দল সবচেয়ে বেশি গোল হজম করেছে—এসব নিয়েই চলে তর্ক-বিতর্ক। সেই তালিকায় আর্জেন্টিনার কিছু বিব্রতকর রেকর্ডও রয়েছে।
আর্জেন্টিনার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পরাজয় এসেছে বলিভিয়ার বিপক্ষে। ১৯৮৫ সালে কোপা পাজ দেল চাকো টুর্নামেন্টে ১১-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে হেরে যায় আলবিসেলেস্তেরা। আজও এটি দেশটির ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় হার হিসেবে বিবেচিত হয়।
শুধু একবারই নয়, বলিভিয়ার বিপক্ষে একাধিকবার বড় ব্যবধানে হারতে হয়েছে আর্জেন্টিনাকে। ১৯৫০ সালে ৮-৩ গোলে এবং ২০০৯ সালে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ৬-১ গোলে পরাজয়ের স্বাদ পেতে হয় দলটিকে। বিশেষ করে ২০০৯ সালের সেই ম্যাচটি এখনো সমর্থকদের মনে তাজা স্মৃতি হয়ে আছে।
ইউরোপীয় দলগুলোর মধ্যে ইতালি আর্জেন্টিনাকে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে হারানো দলগুলোর একটি। ১৯৬৪ সালে ইতালির কাছে ৭-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছিল আর্জেন্টিনা। ম্যাচটি আন্তর্জাতিক ফুটবলের অন্যতম স্মরণীয় ফলাফলের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে।
জার্মানিও দীর্ঘদিন ধরে আর্জেন্টিনার জন্য কঠিন প্রতিপক্ষ হিসেবে পরিচিত। ১৯৫৮ সালে ৮-০, ১৯৭০ সালে ৬-০, ১৯৮৮ সালে ৫-০ এবং ২০২০ সালে ৪-১ ব্যবধানে জয় পায় জার্মানরা। বিভিন্ন প্রজন্মে ধারাবাহিকভাবে আর্জেন্টিনাকে চাপে রেখেছে ইউরোপের এই পরাশক্তি।
দক্ষিণ আমেরিকার আরেক শক্তিশালী দল উরুগুয়েও বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে। ১৯৪৫ সালে তারা আর্জেন্টিনাকে ৬-১ গোলে হারিয়ে নিজেদের আধিপত্যের জানান দেয়। একইভাবে ১৯৫৪ সালে পেরুও ৬-০ গোলের বিশাল জয় তুলে নেয়।
প্রতিবেশী দেশ চিলিও এই তালিকায় রয়েছে। ১৯৮০ সালে আর্জেন্টিনার জালে ছয় গোল দিয়ে ৬-১ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল তারা। সেই ম্যাচটি দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত ফলাফল হিসেবে বিবেচিত হয়।
এছাড়া প্যারাগুয়ে ১৯৬২ সালে ৫-৪ গোলে জয় পেয়ে সবাইকে অবাক করেছিল। আফ্রিকার দল নাইজেরিয়াও ১৯৬৩ সালে ৫-৩ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দেয়। অন্যদিকে ১৯৭৫ সালে সুইজারল্যান্ড ৫-২ ব্যবধানে জয় পায়।
চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলও বিভিন্ন সময়ে আর্জেন্টিনাকে বড় ব্যবধানে হারিয়েছে। ১৯৭৭ সালে ৫-০, ১৯৯৬ সালে ৬-২ এবং ২০১৬ সালে ৩-০ ব্যবধানে জয় পায় সেলেসাওরা। দুই দলের শতবর্ষী প্রতিদ্বন্দ্বিতা এই লড়াইগুলোকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
তবে এতসব পরাজয় সত্ত্বেও আর্জেন্টিনা বারবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ব্যর্থতা পেছনে ফেলে দলটি বিশ্ব ফুটবলে নিজেদের অন্যতম সেরা শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। প্রতিটি পরাজয় তাদের ভবিষ্যতের সাফল্যের জন্য শিক্ষা হয়ে কাজ করেছে।
সবশেষে ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে সেই দৃঢ়তারই প্রমাণ দেয় আর্জেন্টিনা। ফাইনালে ফ্রান্সকে টাইব্রেকারে হারিয়ে তৃতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা জিতে নেয় দলটি। তাই ইতিহাসে বড় বড় হার থাকলেও সাফল্যের পাল্লাই এখনো অনেক বেশি ভারী আর্জেন্টিনার।




























