ঢাকা ১২:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফিফা বিশ্বকাপের ১০০০তম ম্যাচ, ইতিহাসের নতুন মাইলফলক

বিশ্বকাপ ট্রফি ও বল

১৯৩০ সালে যাত্রা শুরু করা ফিফা বিশ্বকাপ এবার স্পর্শ করতে যাচ্ছে নতুন এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। প্রায় ৯৬ বছরের দীর্ঘ পথচলার পর প্রতিযোগিতাটি পৌঁছে গেছে ১ হাজারতম ম্যাচের সামনে। বাংলাদেশ সময় রোববার সকাল ১০টায় জাপান ও তিউনিসিয়ার ম্যাচটি ইতিহাসে জায়গা করে নেবে বিশ্বকাপের ১০০০তম ম্যাচ হিসেবে।

মেক্সিকোর এস্তাদিও মন্টেরিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচের মাধ্যমে নতুন এক অধ্যায় যুক্ত হবে ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসরের ইতিহাসে। ফলে জাপান ও তিউনিসিয়া শুধু গুরুত্বপূর্ণ একটি ম্যাচই খেলবে না, একই সঙ্গে তারা বিশ্বকাপের ইতিহাসের অংশও হয়ে যাবে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ম্যাচটি দুই দলের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ‘এফ’ গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে সুইডেনের কাছে হেরে গেছে তিউনিসিয়া। অন্যদিকে শক্তিশালী নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করেছে জাপান।

নকআউট পর্বে জায়গা করে নেওয়ার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে দুই দলের জন্যই জয় অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। ফলে ঐতিহাসিক মর্যাদার পাশাপাশি মাঠের লড়াইটিও বাড়তি উত্তেজনা নিয়ে হাজির হচ্ছে ফুটবল সমর্থকদের সামনে।

১৯৩০ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ আয়োজন করা হয় উরুগুয়েতে। সেবার একই সময়ে শুরু হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র-বেলজিয়াম এবং ফ্রান্স-মেক্সিকো—দুটি ম্যাচকেই ফিফা বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম ম্যাচ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

এরপর ধীরে ধীরে প্রতিটি শততম ম্যাচ বিশ্বকাপের ইতিহাসে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। ১৯৫৪ বিশ্বকাপে অস্ট্রিয়া ও উরুগুয়ের ম্যাচ ছিল ১০০তম ম্যাচ, আর ১৯৬৬ সালের ফাইনালে ইংল্যান্ডের জার্মানিকে হারানোর ম্যাচটি ছিল ২০০তম ম্যাচ।

১৯৭৮ বিশ্বকাপে একই সময়ে শুরু হওয়ায় ইতালি-অস্ট্রিয়া এবং জার্মানি-নেদারল্যান্ডস—দুটি ম্যাচকে একসঙ্গে ৩০০তম ম্যাচ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। একই ঘটনা ঘটে ১৯৯৪ বিশ্বকাপেও, যেখানে নাইজেরিয়া-গ্রীস ও বুলগেরিয়া-আর্জেন্টিনা ম্যাচ দুটি ৫০০তম ম্যাচের মর্যাদা পায়।

পরবর্তী সময়ে ৪০০তম ম্যাচ ছিল ১৯৮৬ সালে আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ের লড়াই। ৬০০তম ম্যাচ হয় ২০০২ সালে উরুগুয়ে ও ফ্রান্সের মধ্যকার গোলশূন্য ড্র, আর ৭০০তম ম্যাচ ছিল ২০০৬ সালে ফ্রান্সের স্পেনকে হারানোর ম্যাচ।

২০১৪ সালে জার্মানি ও ঘানার ২-২ ড্র ম্যাচটি ছিল ৮০০তম ম্যাচ। আর ২০১৮ বিশ্বকাপের ফাইনালে ফ্রান্সের ৪-২ ব্যবধানে ক্রোয়েশিয়াকে হারানো ম্যাচটি ইতিহাসের ৯০০তম ম্যাচ হিসেবে জায়গা করে নেয়।

এবার সেই ধারাবাহিকতায় যুক্ত হচ্ছে আরও একটি অধ্যায়। জাপান ও তিউনিসিয়া যখন মাঠে নামবে, তখন শুধু তিন পয়েন্টের লড়াই হবে না, বরং বিশ্ব ফুটবলের প্রায় এক শতকের ইতিহাসে নতুন এক স্মরণীয় মুহূর্তের জন্ম হবে।

ফিফা বিশ্বকাপের ১০০০তম ম্যাচ, ইতিহাসের নতুন মাইলফলক

Update Time : ১২:৪২:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

১৯৩০ সালে যাত্রা শুরু করা ফিফা বিশ্বকাপ এবার স্পর্শ করতে যাচ্ছে নতুন এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। প্রায় ৯৬ বছরের দীর্ঘ পথচলার পর প্রতিযোগিতাটি পৌঁছে গেছে ১ হাজারতম ম্যাচের সামনে। বাংলাদেশ সময় রোববার সকাল ১০টায় জাপান ও তিউনিসিয়ার ম্যাচটি ইতিহাসে জায়গা করে নেবে বিশ্বকাপের ১০০০তম ম্যাচ হিসেবে।

মেক্সিকোর এস্তাদিও মন্টেরিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচের মাধ্যমে নতুন এক অধ্যায় যুক্ত হবে ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসরের ইতিহাসে। ফলে জাপান ও তিউনিসিয়া শুধু গুরুত্বপূর্ণ একটি ম্যাচই খেলবে না, একই সঙ্গে তারা বিশ্বকাপের ইতিহাসের অংশও হয়ে যাবে।

আরও পড়ুন  মেসির অবসরের বিষয়ে বোমা ফাটালেন লিয়ান্দ্রো পারেদেস

বর্তমান পরিস্থিতিতে ম্যাচটি দুই দলের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ‘এফ’ গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে সুইডেনের কাছে হেরে গেছে তিউনিসিয়া। অন্যদিকে শক্তিশালী নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করেছে জাপান।

নকআউট পর্বে জায়গা করে নেওয়ার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে দুই দলের জন্যই জয় অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। ফলে ঐতিহাসিক মর্যাদার পাশাপাশি মাঠের লড়াইটিও বাড়তি উত্তেজনা নিয়ে হাজির হচ্ছে ফুটবল সমর্থকদের সামনে।

১৯৩০ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ আয়োজন করা হয় উরুগুয়েতে। সেবার একই সময়ে শুরু হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র-বেলজিয়াম এবং ফ্রান্স-মেক্সিকো—দুটি ম্যাচকেই ফিফা বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম ম্যাচ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন  প্রথম ম্যাচে ড্র, তবু বিশ্বকাপ জিতেছিল যারা—স্বস্তি পাবে ব্রাজিল

এরপর ধীরে ধীরে প্রতিটি শততম ম্যাচ বিশ্বকাপের ইতিহাসে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। ১৯৫৪ বিশ্বকাপে অস্ট্রিয়া ও উরুগুয়ের ম্যাচ ছিল ১০০তম ম্যাচ, আর ১৯৬৬ সালের ফাইনালে ইংল্যান্ডের জার্মানিকে হারানোর ম্যাচটি ছিল ২০০তম ম্যাচ।

১৯৭৮ বিশ্বকাপে একই সময়ে শুরু হওয়ায় ইতালি-অস্ট্রিয়া এবং জার্মানি-নেদারল্যান্ডস—দুটি ম্যাচকে একসঙ্গে ৩০০তম ম্যাচ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। একই ঘটনা ঘটে ১৯৯৪ বিশ্বকাপেও, যেখানে নাইজেরিয়া-গ্রীস ও বুলগেরিয়া-আর্জেন্টিনা ম্যাচ দুটি ৫০০তম ম্যাচের মর্যাদা পায়।

পরবর্তী সময়ে ৪০০তম ম্যাচ ছিল ১৯৮৬ সালে আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ের লড়াই। ৬০০তম ম্যাচ হয় ২০০২ সালে উরুগুয়ে ও ফ্রান্সের মধ্যকার গোলশূন্য ড্র, আর ৭০০তম ম্যাচ ছিল ২০০৬ সালে ফ্রান্সের স্পেনকে হারানোর ম্যাচ।

আরও পড়ুন  বিশ্বকাপে মেসির সামনে যেসব ঐতিহাসিক রেকর্ড ভাঙার সুযোগ

২০১৪ সালে জার্মানি ও ঘানার ২-২ ড্র ম্যাচটি ছিল ৮০০তম ম্যাচ। আর ২০১৮ বিশ্বকাপের ফাইনালে ফ্রান্সের ৪-২ ব্যবধানে ক্রোয়েশিয়াকে হারানো ম্যাচটি ইতিহাসের ৯০০তম ম্যাচ হিসেবে জায়গা করে নেয়।

এবার সেই ধারাবাহিকতায় যুক্ত হচ্ছে আরও একটি অধ্যায়। জাপান ও তিউনিসিয়া যখন মাঠে নামবে, তখন শুধু তিন পয়েন্টের লড়াই হবে না, বরং বিশ্ব ফুটবলের প্রায় এক শতকের ইতিহাসে নতুন এক স্মরণীয় মুহূর্তের জন্ম হবে।