দেশের ১১টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরের মধ্যে ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া, বজ্রসহ বৃষ্টি এবং দমকা বাতাস বয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। পরিস্থিতি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট এলাকার অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাত ৩টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য প্রকাশিত বিশেষ আবহাওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়। আবহাওয়া অফিস বলছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তার কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী রংপুর, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে অস্থায়ীভাবে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে বজ্রপাত ও ভারী বৃষ্টির আশঙ্কাও রয়েছে।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষাকালে এমন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও নদীপথে চলাচলকারী নৌযানগুলোর জন্য এটি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে ছোট নৌযান, মাছ ধরার ট্রলার এবং যাত্রীবাহী লঞ্চগুলোকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এর ফলে নদী ও উপকূলীয় এলাকায় স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ঢেউ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আবহাওয়া অফিস সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখানোর নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি নৌযান চালকদের আবহাওয়ার সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
দেশের উত্তরাঞ্চল, মধ্যাঞ্চল ও উপকূলীয় অঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলায় গত কয়েকদিন ধরেই বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিও হয়েছে। এর ফলে জনজীবনে কিছুটা ভোগান্তি দেখা দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট মেঘমালার প্রভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে আগামী কয়েকদিনও বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে।
কৃষি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এই বৃষ্টিপাত অনেক ফসলের জন্য উপকারী হলেও অতিরিক্ত বৃষ্টি বা ঝড়ের কারণে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কাও রয়েছে। বিশেষ করে সবজি চাষি এবং আমন ধানের বীজতলা প্রস্তুতকারীদের সতর্ক থাকতে হবে।
মৎস্যজীবীদের জন্যও আবহাওয়া অফিস সতর্কবার্তা দিয়েছে। নদী ও উপকূলীয় এলাকায় মাছ ধরতে যাওয়া ট্রলারগুলোকে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বজ্রপাতের সময় খোলা পানিতে অবস্থান করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলে পর্যটকদেরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন স্থানীয় প্রশাসন। সমুদ্র উত্তাল হয়ে উঠলে সৈকতে নামা কিংবা গভীর পানিতে যাওয়ার ক্ষেত্রে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠ, উঁচু গাছ, বৈদ্যুতিক খুঁটি কিংবা ধাতব বস্তু থেকে দূরে থাকতে হবে। ঘরের ভেতরে অবস্থান করাই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।
নদীপথে চলাচলকারী যাত্রীদেরও প্রয়োজন ছাড়া ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট নৌযানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং আবহাওয়ার সর্বশেষ তথ্য জেনে নেওয়া উচিত।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে নতুন সতর্কবার্তা জারি করা হবে। দেশের বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র থেকে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
এদিকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ও স্থানীয় প্রশাসনকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে। ঝড় বা বজ্রপাতজনিত কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আবহাওয়ার আচরণে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ফলে স্বল্প সময়ের মধ্যে তীব্র ঝড়, ভারী বৃষ্টি ও বজ্রপাতের ঘটনা বেড়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং আগাম সতর্কবার্তা প্রচারের মাধ্যমে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব বলে মনে করছেন দুর্যোগ বিশেষজ্ঞরা। তাই আবহাওয়া অফিসের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সব মিলিয়ে দেশের ১১ অঞ্চলে সম্ভাব্য ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রপাতের কারণে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। নদীবন্দরগুলোতে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে এবং জনসাধারণকে প্রয়োজনীয় সাবধানতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।





























