ঢাকা ০১:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঢাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও গরমে নেই স্বস্তি

গরমের অস্বস্তি ছবি: সংগৃহীত

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার চাপে জনজীবনে স্বস্তি ফিরছে না। আকাশে মেঘ জমে বৃষ্টি নামার ইঙ্গিত মিললেও ভ্যাপসা গরমে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ অব্যাহত রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েকদিন দেশের বিভিন্ন স্থানে দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও তাপমাত্রা খুব বেশি কমবে না।

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে সকাল থেকেই দেখা যাচ্ছে অস্বস্তিকর আবহাওয়া। সূর্য উঠলেও আকাশে মেঘের আনাগোনা থাকছে, তবে পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা—দুটিই মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠছে।

বিশেষ করে কর্মজীবী মানুষ, রিকশাচালক, দিনমজুর ও শিক্ষার্থীরা এই গরমে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। রাস্তায় বের হলে ঘাম ঝরছে অনবরত, আর বাতাসে আর্দ্রতার কারণে শ্বাস নেওয়াও কষ্টকর হয়ে পড়ছে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের কিছু এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও বজ্রসহ ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে এই বৃষ্টিগুলো হবে বিচ্ছিন্ন এবং স্বল্পস্থায়ী।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী:

  • দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে তুলনামূলক বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা
  • দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আর্দ্রতা বেশি থাকবে
  • ঢাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে
  • দিনের তাপমাত্রা ৩৪–৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে

তবে বৃষ্টি হলেও তা গরম কমাতে দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হবে না বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

অনেকেই প্রশ্ন করছেন, বৃষ্টি হলে তো ঠান্ডা হওয়ার কথা, তাহলে এত গরম কেন?

আবহাওয়াবিদদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এর পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে:

প্রথমত, বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ অনেক বেশি। ফলে ঘাম শুকাতে পারে না, শরীরে অতিরিক্ত গরম অনুভূত হয়।

দ্বিতীয়ত, বিচ্ছিন্ন বৃষ্টি হওয়ায় মাটির তাপমাত্রা কমছে না। সূর্যের তীব্রতা আবার দ্রুতই বাড়িয়ে দিচ্ছে গরম।

তৃতীয়ত, শহরাঞ্চলে কংক্রিট ও অ্যাসফল্টের কারণে “হিট আইল্যান্ড ইফেক্ট” তৈরি হচ্ছে, যা গরমকে আরও তীব্র করে তোলে।

ঢাকার রিকশাচালকরা বলছেন, দুপুরের দিকে রাস্তায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। একদিকে রোদ, অন্যদিকে আর্দ্র বাতাস—দুটিই মিলে শরীর ক্লান্ত করে দিচ্ছে।

একজন রিকশাচালক জানান, “সকালেই ঘামতে শুরু করি, দুপুরে মনে হয় মাথা ঘুরে যাবে। বৃষ্টি হয় ঠিকই, কিন্তু একটু পরেই আবার আগের মতো গরম।”

একই অবস্থা নির্মাণ শ্রমিকদেরও। কাজের চাপ থাকলেও তীব্র গরমে কাজের গতি কমে যাচ্ছে।

চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলেছেন, এই ধরনের আবহাওয়ায় হিটস্ট্রোক, ডিহাইড্রেশন, মাথা ঘোরা এবং শ্বাসকষ্টের ঝুঁকি বাড়ে।

বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি। তাই পর্যাপ্ত পানি পান করা, সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলা এবং হালকা পোশাক পরার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

বৃষ্টির সম্ভাবনা কৃষকদের জন্য কিছুটা স্বস্তির হলেও অনিয়মিত বৃষ্টিপাত ফসলের জন্য ঝুঁকিও তৈরি করছে। কিছু অঞ্চলে ধানের জমিতে পানি সংকট থাকলেও আবার কোথাও অতিরিক্ত বৃষ্টিতে ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো ও পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হলে আমন মৌসুমের উৎপাদনে প্রভাব পড়তে পারে।

ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে হালকা বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। ফলে বৃষ্টির আনন্দ অনেক সময় ভোগান্তিতে পরিণত হয়।

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং দ্রুত নগরায়ণের কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তায় পানি জমে যায়।

অনেকেই বলছেন, এমন আবহাওয়া সবচেয়ে অস্বস্তিকর—না আছে বৃষ্টির স্বস্তি, না আছে গরম থেকে মুক্তি।

এক শিক্ষার্থী বলেন, “ক্লাসে যেতে খুব কষ্ট হচ্ছে। ছাতা নিয়ে বের হলেও বৃষ্টি হয় না, আবার রোদেও পোড়ায়।”

অন্যদিকে গৃহিণীরা বলছেন, রান্না ঘরে কাজ করা এখন সবচেয়ে কঠিন হয়ে পড়েছে।

আবহাওয়াবিদ ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা কিছু পরামর্শ দিয়েছেন:

  • পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার গ্রহণ
  • সম্ভব হলে দুপুরে বাইরে না যাওয়া
  • হালকা ও ঢিলেঢালা পোশাক পরা
  • ছায়াযুক্ত স্থানে থাকার চেষ্টা করা
  • শিশু ও বৃদ্ধদের বিশেষ যত্ন নেওয়া

আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৩–৫ দিন দেশের বিভিন্ন স্থানে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। তবে তাপমাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।

মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকলেও তা পুরোপুরি শক্তিশালী না হওয়ায় গরম ও আর্দ্রতার মিশ্র অস্বস্তি চলতেই থাকবে।

দেশজুড়ে বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা—গরমের দাপট কমছে না। বরং আর্দ্রতা ও বিচ্ছিন্ন বৃষ্টির কারণে পরিস্থিতি আরও অস্বস্তিকর হয়ে উঠছে।

আবহাওয়া পুরোপুরি স্বস্তিদায়ক হতে আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের। ততদিন পর্যন্ত সাধারণ মানুষকে গরম ও আর্দ্রতার এই “ডাবল চাপ” নিয়েই দিন কাটাতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও গরমে নেই স্বস্তি

Update Time : ১০:৪২:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার চাপে জনজীবনে স্বস্তি ফিরছে না। আকাশে মেঘ জমে বৃষ্টি নামার ইঙ্গিত মিললেও ভ্যাপসা গরমে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ অব্যাহত রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েকদিন দেশের বিভিন্ন স্থানে দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও তাপমাত্রা খুব বেশি কমবে না।

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে সকাল থেকেই দেখা যাচ্ছে অস্বস্তিকর আবহাওয়া। সূর্য উঠলেও আকাশে মেঘের আনাগোনা থাকছে, তবে পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা—দুটিই মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠছে।

বিশেষ করে কর্মজীবী মানুষ, রিকশাচালক, দিনমজুর ও শিক্ষার্থীরা এই গরমে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। রাস্তায় বের হলে ঘাম ঝরছে অনবরত, আর বাতাসে আর্দ্রতার কারণে শ্বাস নেওয়াও কষ্টকর হয়ে পড়ছে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের কিছু এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও বজ্রসহ ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে এই বৃষ্টিগুলো হবে বিচ্ছিন্ন এবং স্বল্পস্থায়ী।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী:

  • দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে তুলনামূলক বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা
  • দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আর্দ্রতা বেশি থাকবে
  • ঢাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে
  • দিনের তাপমাত্রা ৩৪–৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে
আরও পড়ুন  চাঁদে দীর্ঘদিন বসবাসে মানবদেহের উপর পড়বে যেসব প্রভাব

তবে বৃষ্টি হলেও তা গরম কমাতে দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হবে না বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

অনেকেই প্রশ্ন করছেন, বৃষ্টি হলে তো ঠান্ডা হওয়ার কথা, তাহলে এত গরম কেন?

আবহাওয়াবিদদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এর পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে:

প্রথমত, বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ অনেক বেশি। ফলে ঘাম শুকাতে পারে না, শরীরে অতিরিক্ত গরম অনুভূত হয়।

দ্বিতীয়ত, বিচ্ছিন্ন বৃষ্টি হওয়ায় মাটির তাপমাত্রা কমছে না। সূর্যের তীব্রতা আবার দ্রুতই বাড়িয়ে দিচ্ছে গরম।

তৃতীয়ত, শহরাঞ্চলে কংক্রিট ও অ্যাসফল্টের কারণে “হিট আইল্যান্ড ইফেক্ট” তৈরি হচ্ছে, যা গরমকে আরও তীব্র করে তোলে।

ঢাকার রিকশাচালকরা বলছেন, দুপুরের দিকে রাস্তায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। একদিকে রোদ, অন্যদিকে আর্দ্র বাতাস—দুটিই মিলে শরীর ক্লান্ত করে দিচ্ছে।

একজন রিকশাচালক জানান, “সকালেই ঘামতে শুরু করি, দুপুরে মনে হয় মাথা ঘুরে যাবে। বৃষ্টি হয় ঠিকই, কিন্তু একটু পরেই আবার আগের মতো গরম।”

আরও পড়ুন  রাজধানীর আবহাওয়া: ভ্যাপসা গরমে বৃষ্টির সম্ভাবনা কতটা?

একই অবস্থা নির্মাণ শ্রমিকদেরও। কাজের চাপ থাকলেও তীব্র গরমে কাজের গতি কমে যাচ্ছে।

চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলেছেন, এই ধরনের আবহাওয়ায় হিটস্ট্রোক, ডিহাইড্রেশন, মাথা ঘোরা এবং শ্বাসকষ্টের ঝুঁকি বাড়ে।

বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি। তাই পর্যাপ্ত পানি পান করা, সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলা এবং হালকা পোশাক পরার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

বৃষ্টির সম্ভাবনা কৃষকদের জন্য কিছুটা স্বস্তির হলেও অনিয়মিত বৃষ্টিপাত ফসলের জন্য ঝুঁকিও তৈরি করছে। কিছু অঞ্চলে ধানের জমিতে পানি সংকট থাকলেও আবার কোথাও অতিরিক্ত বৃষ্টিতে ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো ও পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হলে আমন মৌসুমের উৎপাদনে প্রভাব পড়তে পারে।

ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে হালকা বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। ফলে বৃষ্টির আনন্দ অনেক সময় ভোগান্তিতে পরিণত হয়।

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং দ্রুত নগরায়ণের কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তায় পানি জমে যায়।

অনেকেই বলছেন, এমন আবহাওয়া সবচেয়ে অস্বস্তিকর—না আছে বৃষ্টির স্বস্তি, না আছে গরম থেকে মুক্তি।

এক শিক্ষার্থী বলেন, “ক্লাসে যেতে খুব কষ্ট হচ্ছে। ছাতা নিয়ে বের হলেও বৃষ্টি হয় না, আবার রোদেও পোড়ায়।”

আরও পড়ুন  বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের সম্ভাবনা নিয়ে ঘূর্ণিঝড়-এর পূর্বাভাস

অন্যদিকে গৃহিণীরা বলছেন, রান্না ঘরে কাজ করা এখন সবচেয়ে কঠিন হয়ে পড়েছে।

আবহাওয়াবিদ ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা কিছু পরামর্শ দিয়েছেন:

  • পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার গ্রহণ
  • সম্ভব হলে দুপুরে বাইরে না যাওয়া
  • হালকা ও ঢিলেঢালা পোশাক পরা
  • ছায়াযুক্ত স্থানে থাকার চেষ্টা করা
  • শিশু ও বৃদ্ধদের বিশেষ যত্ন নেওয়া

আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৩–৫ দিন দেশের বিভিন্ন স্থানে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। তবে তাপমাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।

মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকলেও তা পুরোপুরি শক্তিশালী না হওয়ায় গরম ও আর্দ্রতার মিশ্র অস্বস্তি চলতেই থাকবে।

দেশজুড়ে বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা—গরমের দাপট কমছে না। বরং আর্দ্রতা ও বিচ্ছিন্ন বৃষ্টির কারণে পরিস্থিতি আরও অস্বস্তিকর হয়ে উঠছে।

আবহাওয়া পুরোপুরি স্বস্তিদায়ক হতে আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের। ততদিন পর্যন্ত সাধারণ মানুষকে গরম ও আর্দ্রতার এই “ডাবল চাপ” নিয়েই দিন কাটাতে হবে।