আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সকাল থেকে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও দুপুরের দিকে মেঘের পরিমাণ বাড়তে পারে। এর প্রভাবে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দমকা হাওয়ার সঙ্গে বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও স্বল্প সময়ের জন্য মাঝারি ধরনের বৃষ্টিও হতে পারে।
স্বল্প সময়ের ভারী বৃষ্টি হলে রাজধানীর নিচু এলাকাগুলোতে সাময়িক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে অফিস ছুটির সময় বৃষ্টি হলে প্রধান সড়কগুলোতে যানজট বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বাইরে বের হওয়ার সময় ছাতা বা রেইনকোট সঙ্গে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠ, উঁচু গাছ বা বৈদ্যুতিক খুঁটির কাছাকাছি অবস্থান না করতেও সতর্ক করা হয়েছে।
বজ্রসহ বৃষ্টির কারণে সাময়িকভাবে দৃষ্টিসীমা কমে যেতে পারে। এ কারণে অভ্যন্তরীণ নৌযান ও ছোট নৌকাগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিমান চলাচলেও আবহাওয়ার কারণে সময়সূচিতে সামান্য পরিবর্তন হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মৌসুমি বৃষ্টিপাত কৃষির জন্য উপকারী। তবে কোথাও অতিবৃষ্টি হলে জমিতে পানি জমে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কাও তৈরি হতে পারে। তাই কৃষকদের স্থানীয় আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।বর্তমানে দেশের ওপর সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি হচ্ছে। এই পরিস্থিতি আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে আবহাওয়াবিদরা ধারণা করছেন।
বৃষ্টির কারণে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। তবে রাতের তাপমাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। ফলে দিনের তুলনায় রাতের আবহাওয়া তুলনামূলক আরামদায়ক থাকতে পারে।
যারা আজ ঢাকার বাইরে বা শহরের বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াতের পরিকল্পনা করছেন, তারা বের হওয়ার আগে সর্বশেষ আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখে নেওয়া এবং অতিরিক্ত সময় হাতে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এতে বৃষ্টি বা যানজটের কারণে ভোগান্তি কমানো সম্ভব হবে।
দুপুরের মধ্যে বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও, আকাশে মেঘের উপস্থিতি অব্যাহত থাকলে বিকেল বা সন্ধ্যার দিকেও বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি হলে স্বল্প সময়ের দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
বৃষ্টি শুরু হলে রাজধানীর ব্যস্ত সড়কগুলোতে যানবাহনের গতি কমে যেতে পারে। অফিসগামী ও কর্মজীবী মানুষকে তাই সময় হাতে নিয়ে বের হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। মোটরসাইকেল চালকদেরও অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
বজ্রপাত শুরু হলে নিরাপদ ভবনের ভেতরে অবস্থান করা সবচেয়ে ভালো। এ সময় খোলা ছাদ, জলাশয়, মাঠ বা গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। মোবাইল ফোন চার্জে রেখে ব্যবহার না করারও পরামর্শ দিয়ে থাকেন বিশেষজ্ঞরা।
আবহাওয়ার আকস্মিক পরিবর্তনে শিশু, বয়স্ক এবং শ্বাসকষ্টের রোগীদের বাড়তি সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। বৃষ্টিতে ভিজে দীর্ঘ সময় ভেজা কাপড়ে থাকলে সর্দি-কাশি বা মৌসুমি ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
বৃষ্টির কারণে খোলা জায়গায় নির্মাণকাজ, বিভিন্ন আউটডোর অনুষ্ঠান এবং সড়ক সংস্কারকাজে সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে। একই সঙ্গে ফুটপাত ও রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে যাওয়ায় পথচারীদেরও সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
বৃষ্টির ফলে বাতাসে ভাসমান ধুলাবালুর পরিমাণ কিছুটা কমে যেতে পারে। এতে সাময়িকভাবে বায়ুর মানের উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত সমস্যায় ভোগা মানুষের জন্য কিছুটা স্বস্তিদায়ক হতে পারে।
নগর বিশেষজ্ঞদের মতে, বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন নিশ্চিত করতে ড্রেন ও নালাগুলো পরিষ্কার রাখা জরুরি। কোথাও পানি জমে গেলে সংশ্লিষ্ট সংস্থার দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।
আবহাওয়া দ্রুত পরিবর্তনশীল হওয়ায় দিনের মধ্যে নতুন পূর্বাভাস প্রকাশিত হতে পারে। তাই নাগরিকদের নিয়মিত আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ বুলেটিন অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যাতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া সহজ হয়।
সকালে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় সূর্য ওঠার পরও ভ্যাপসা গরম অনুভূত হতে পারে। তবে বৃষ্টিপাত শুরু হলে তাপমাত্রা কিছুটা কমে পরিবেশ তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বজ্রসহ বৃষ্টির সময় ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বা তার বেশি গতিতে দমকা হাওয়া বইতে পারে। এ সময় দুর্বল বিলবোর্ড, গাছের ডাল বা অস্থায়ী স্থাপনার নিচে অবস্থান না করার পরামর্শ দিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।
সকালে আকাশ পরিষ্কার থাকলেও দুপুরের দিকে হঠাৎ আবহাওয়ার পরিবর্তন হতে পারে। তাই অফিস বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়ার সময় ছাতা কিংবা রেইনকোট সঙ্গে রাখলে আকস্মিক বৃষ্টিতে ভোগান্তি কম হবে।
বৃষ্টির সময় সড়ক পিচ্ছিল হয়ে যাওয়ায় যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। হেডলাইট জ্বালিয়ে চালানো, নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা এবং অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি না চালানোর পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বজ্রপাত বা দমকা হাওয়ার কারণে কোথাও কোথাও সাময়িক বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিতে পারে। বিদ্যুৎ লাইনের কোনো তার ছিঁড়ে পড়লে তা থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো উচিত।
আজ যারা পার্ক, খেলার মাঠ বা উন্মুক্ত স্থানে সময় কাটানোর পরিকল্পনা করেছেন, তারা আবহাওয়ার পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বজ্রপাত শুরু হলে দ্রুত নিরাপদ ভবনের আশ্রয় নেওয়া উচিত।
হঠাৎ বৃষ্টির কারণে ফুটপাতের ব্যবসায়ী ও খোলা জায়গায় পণ্য বিক্রেতারা সাময়িক সমস্যায় পড়তে পারেন। একই সঙ্গে নির্মাণসামগ্রী ও অন্যান্য পণ্য বৃষ্টি থেকে রক্ষা করতে আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তার কারণে আগামী কয়েক দিনও দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। তবে বৃষ্টির পরিমাণ ও বিস্তৃতি প্রতিদিন পরিবর্তিত হতে পারে।
আকস্মিক ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলে অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়িয়ে চলা, মোবাইল ফোন চার্জ রাখা, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও জরুরি সামগ্রী সঙ্গে রাখা এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ বুলেটিন অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।





























