ঢাকা ০৯:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সন্ধ্যার মধ্যে দেশের ১৬টি অঞ্চলে ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস

ঘণ্টায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস

সন্ধ্যার মধ্যে দেশের ১৬টি অঞ্চলে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে এসব এলাকায় বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের প্রকাশিত এক সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে অস্থায়ীভাবে দমকা কিংবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ সময় আকাশ মেঘলা থাকতে পারে এবং কোথাও কোথাও বজ্রপাতের ঘটনাও ঘটতে পারে।

সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে, রংপুর, পাবনা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর এই ঝড়ো আবহাওয়ার প্রভাব পড়তে পারে। এসব এলাকায় ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা এবং বায়ুমণ্ডলের অস্থিতিশীল অবস্থার কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দিনের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে বিকেল ও সন্ধ্যার দিকে বজ্রমেঘের সৃষ্টি হচ্ছে, যা ঝড়ো আবহাওয়ার কারণ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ঝড় সাধারণত স্বল্প সময়ের জন্য স্থায়ী হলেও এর প্রভাব অনেক ক্ষেত্রে ক্ষতিকর হতে পারে। ঝড়ো বাতাসের কারণে গাছের ডাল ভেঙে পড়া, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং দুর্বল স্থাপনার ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর নদীবন্দরগুলোকে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে। ছোট নৌযান ও মাছ ধরার ট্রলারগুলোকে আবহাওয়ার সর্বশেষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে চলাচল করতে বলা হয়েছে। ঝড়ের সময় নদীপথে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়ে যায় বলে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

কৃষকদেরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির কারণে ক্ষেতের ফসলের ক্ষতি হতে পারে। বিশেষ করে সবজি, ফল এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের জন্য ঝুঁকি বেশি থাকায় আগাম ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এদিকে বজ্রপাতের ঝুঁকি থাকায় সাধারণ মানুষকে খোলা মাঠ, উঁচু স্থান এবং বড় গাছের নিচে অবস্থান না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বজ্রপাত শুরু হলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

বিদ্যুৎ বিভাগও ঝড়ের সময় বৈদ্যুতিক খুঁটি, ট্রান্সফরমার এবং ছিঁড়ে যাওয়া তার থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে। কোনো দুর্ঘটনা এড়াতে স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার কথা বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে নতুন সতর্কবার্তা জারি করা হবে। তাই সন্ধ্যা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের আবহাওয়ার সর্বশেষ আপডেট অনুসরণ করে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সন্ধ্যার মধ্যে দেশের ১৬টি অঞ্চলে ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস

Update Time : ১০:০২:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

সন্ধ্যার মধ্যে দেশের ১৬টি অঞ্চলে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে এসব এলাকায় বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের প্রকাশিত এক সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে অস্থায়ীভাবে দমকা কিংবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ সময় আকাশ মেঘলা থাকতে পারে এবং কোথাও কোথাও বজ্রপাতের ঘটনাও ঘটতে পারে।

সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে, রংপুর, পাবনা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর এই ঝড়ো আবহাওয়ার প্রভাব পড়তে পারে। এসব এলাকায় ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আরও পড়ুন  ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভারি বর্ষণের শঙ্কা, সতর্ক করল আবহাওয়া অধিদপ্তর

আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা এবং বায়ুমণ্ডলের অস্থিতিশীল অবস্থার কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দিনের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে বিকেল ও সন্ধ্যার দিকে বজ্রমেঘের সৃষ্টি হচ্ছে, যা ঝড়ো আবহাওয়ার কারণ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ঝড় সাধারণত স্বল্প সময়ের জন্য স্থায়ী হলেও এর প্রভাব অনেক ক্ষেত্রে ক্ষতিকর হতে পারে। ঝড়ো বাতাসের কারণে গাছের ডাল ভেঙে পড়া, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং দুর্বল স্থাপনার ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

আরও পড়ুন  বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, দুই সড়কে যোগাযোগ বন্ধ

আবহাওয়া অধিদপ্তর নদীবন্দরগুলোকে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে। ছোট নৌযান ও মাছ ধরার ট্রলারগুলোকে আবহাওয়ার সর্বশেষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে চলাচল করতে বলা হয়েছে। ঝড়ের সময় নদীপথে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়ে যায় বলে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

কৃষকদেরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির কারণে ক্ষেতের ফসলের ক্ষতি হতে পারে। বিশেষ করে সবজি, ফল এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের জন্য ঝুঁকি বেশি থাকায় আগাম ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এদিকে বজ্রপাতের ঝুঁকি থাকায় সাধারণ মানুষকে খোলা মাঠ, উঁচু স্থান এবং বড় গাছের নিচে অবস্থান না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বজ্রপাত শুরু হলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন  ৪ অঞ্চলে দমকা হাওয়ার সতর্কতা, থাকতে পারে বজ্রবৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টি

বিদ্যুৎ বিভাগও ঝড়ের সময় বৈদ্যুতিক খুঁটি, ট্রান্সফরমার এবং ছিঁড়ে যাওয়া তার থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে। কোনো দুর্ঘটনা এড়াতে স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার কথা বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে নতুন সতর্কবার্তা জারি করা হবে। তাই সন্ধ্যা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের আবহাওয়ার সর্বশেষ আপডেট অনুসরণ করে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।