ঢাকা ১০:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চন্দনাইশে উদ্বোধনের আগেই ব্রিজের সংযোগ সড়ক ধস, ঝুঁকি নিয়ে যান চলাচল

ন্দনাইশ উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নে ভগবান চৌধুরীহাট টু খোদার হাট জিসি বায়া আশরাফ মহুরি হাট বগেরটেক সড়কে প্রথম কিলোমিটারে ৩৫ মিটার দৈর্ঘ্য পিএসসি গার্ডার ব্রিজের সংযোগ সড়কের দুই পাশে অংশ ধসে পড়েছে।

চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: মো. নুরুল আলম

চট্টগ্রামের চন্দনাইশে উদ্বোধনের আগেই একটি ব্রিজের দুই পাশের সংযোগ সড়ক অতিবৃষ্টিতে ধসে পড়েছে। ফলে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। এতে সেতুটি দিয়ে চলাচলকারী কয়েক হাজার বাসিন্দা ভোগান্তিতে পড়েছেন।

বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সরেজমিনে ব্রিজ এলাকায় গিয়ে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়।

উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের ভগবান চৌধুরীহাট টু খোদার হাট জিসি বায়া আশরাফ মহুরি হাট বগেরটেক সড়কের প্রথম কিলোমিটারে ৩৫ মিটার দৈর্ঘ্যের পিএসসি গার্ডার ব্রিজটি অবস্থিত। চলতি বর্ষায় অবিরাম বর্ষণে ব্রিজের দুই পাশের সংযোগ সড়ক ধসে পড়ে যায়।

চন্দনাইশে ব্রিজের সংযোগ সড়ক পাশ ধসে পড়েছে।
চন্দনাইশের সাতবাড়িয়ায় ৩৫ মিটার ব্রিজের সংযোগ সড়কের দুই পাশ ধসে পড়েছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে ৩৫ মিটার দৈর্ঘ্যের পিএসসি গার্ডার ব্রিজটির নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিপা এন্টারপ্রাইজ। ব্রিজটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৬ কোটি ১৩ লক্ষ ৬৮ হাজার ৬৫ টাকা। ২০২৩ সালে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হয় আর ২০২৫ সালে কাজ শেষ হয়। অতিবৃষ্টির কারণে ব্রিজের সংযোগ সড়কের ব্রিক সলিং, ড্রেন ও দুই পাশের প্রতিরক্ষা খুঁটি ধসে পড়েছে।

স্থানীয়রা জানান, ব্রিজটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ ভগবান চৌধুরী হাট থেকে খোদার হাটে আসা-যাওয়া করেন। এছাড়া এলাকার অনেক শিক্ষার্থী এই ব্রিজ পার হয়ে স্কুল, মাদ্রাসা ও কলেজে যাতায়াত করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, যেভাবে সংযোগ সড়কের মাটি ব্রিক সলিংয়ের নিচ থেকে সরে খাদের দিকে চলে যাচ্ছে, তাতে যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। আগে এই ব্রিজের উপর দিয়ে ট্রাকসহ বড় যানবাহন চলাচল করলেও বর্তমানে সংযোগ সড়কের বেহাল দশার কারণে বড় যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। অটোরিকশা ও সিএনজি চলাচল করলেও ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি ছোট যানবাহন দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে।

অতিবৃষ্টিতে ব্রিজের সংযোগ সড়কের ব্রিক সলিং ও মাটি ধসে গেছে।
অতিবৃষ্টিতে ব্রিজের সংযোগ সড়কের ব্রিক সলিং ও মাটি ধসে গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গতবছর কাজ শেষ হলেও ঠিকাদার ইচ্ছাকৃতভাবে সংযোগ সড়কের মাটি রোলার দিয়ে ভালোভাবে কম্পেকশন করেননি। ফলে বৃষ্টিতে মাটি সরে গিয়ে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী স্থানীয় জনসাধারণ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) চন্দনাইশ উপজেলা প্রকৌশলী সৈয়দ আসিফ মুহাম্মদ এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘ব্রিজের ধসে পড়া অ্যাপ্রোচ সড়কের স্থান পরিদর্শন করা হয়েছে। অতিবৃষ্টির কারণে সেতুর সংযোগ সড়কের অংশ কিছুটা ধসে পড়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে দ্রুত ধসে পড়া অংশ পুনরায় সংস্কার করার জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

চন্দনাইশে উদ্বোধনের আগেই ব্রিজের সংযোগ সড়ক ধস, ঝুঁকি নিয়ে যান চলাচল

Update Time : ০৯:৪৯:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: মো. নুরুল আলম

চট্টগ্রামের চন্দনাইশে উদ্বোধনের আগেই একটি ব্রিজের দুই পাশের সংযোগ সড়ক অতিবৃষ্টিতে ধসে পড়েছে। ফলে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। এতে সেতুটি দিয়ে চলাচলকারী কয়েক হাজার বাসিন্দা ভোগান্তিতে পড়েছেন।

বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সরেজমিনে ব্রিজ এলাকায় গিয়ে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়।

উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের ভগবান চৌধুরীহাট টু খোদার হাট জিসি বায়া আশরাফ মহুরি হাট বগেরটেক সড়কের প্রথম কিলোমিটারে ৩৫ মিটার দৈর্ঘ্যের পিএসসি গার্ডার ব্রিজটি অবস্থিত। চলতি বর্ষায় অবিরাম বর্ষণে ব্রিজের দুই পাশের সংযোগ সড়ক ধসে পড়ে যায়।

চন্দনাইশে ব্রিজের সংযোগ সড়ক পাশ ধসে পড়েছে।
চন্দনাইশের সাতবাড়িয়ায় ৩৫ মিটার ব্রিজের সংযোগ সড়কের দুই পাশ ধসে পড়েছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে ৩৫ মিটার দৈর্ঘ্যের পিএসসি গার্ডার ব্রিজটির নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিপা এন্টারপ্রাইজ। ব্রিজটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৬ কোটি ১৩ লক্ষ ৬৮ হাজার ৬৫ টাকা। ২০২৩ সালে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হয় আর ২০২৫ সালে কাজ শেষ হয়। অতিবৃষ্টির কারণে ব্রিজের সংযোগ সড়কের ব্রিক সলিং, ড্রেন ও দুই পাশের প্রতিরক্ষা খুঁটি ধসে পড়েছে।

আরও পড়ুন  ঈদুল আজহা আবহাওয়া পূর্বাভাস ঝড় বৃষ্টি সতর্কতা

স্থানীয়রা জানান, ব্রিজটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ ভগবান চৌধুরী হাট থেকে খোদার হাটে আসা-যাওয়া করেন। এছাড়া এলাকার অনেক শিক্ষার্থী এই ব্রিজ পার হয়ে স্কুল, মাদ্রাসা ও কলেজে যাতায়াত করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, যেভাবে সংযোগ সড়কের মাটি ব্রিক সলিংয়ের নিচ থেকে সরে খাদের দিকে চলে যাচ্ছে, তাতে যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। আগে এই ব্রিজের উপর দিয়ে ট্রাকসহ বড় যানবাহন চলাচল করলেও বর্তমানে সংযোগ সড়কের বেহাল দশার কারণে বড় যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। অটোরিকশা ও সিএনজি চলাচল করলেও ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি ছোট যানবাহন দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে।

আরও পড়ুন  বৃষ্টি দিয়ে সকাল, সারাদিন কেমন থাকবে আবহাওয়া? জানাল অধিদপ্তর
অতিবৃষ্টিতে ব্রিজের সংযোগ সড়কের ব্রিক সলিং ও মাটি ধসে গেছে।
অতিবৃষ্টিতে ব্রিজের সংযোগ সড়কের ব্রিক সলিং ও মাটি ধসে গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গতবছর কাজ শেষ হলেও ঠিকাদার ইচ্ছাকৃতভাবে সংযোগ সড়কের মাটি রোলার দিয়ে ভালোভাবে কম্পেকশন করেননি। ফলে বৃষ্টিতে মাটি সরে গিয়ে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী স্থানীয় জনসাধারণ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) চন্দনাইশ উপজেলা প্রকৌশলী সৈয়দ আসিফ মুহাম্মদ এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘ব্রিজের ধসে পড়া অ্যাপ্রোচ সড়কের স্থান পরিদর্শন করা হয়েছে। অতিবৃষ্টির কারণে সেতুর সংযোগ সড়কের অংশ কিছুটা ধসে পড়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে দ্রুত ধসে পড়া অংশ পুনরায় সংস্কার করার জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

আরও পড়ুন  ৪ জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা জুলাই-আগস্টে বন্যা নিয়ে সতর্কবার্তা