ঢাকা ০২:৩৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৪ জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা জুলাই-আগস্টে বন্যা নিয়ে সতর্কবার্তা

নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

উজানে ভারি বৃষ্টিপাতের প্রভাবে চলতি জুলাই ও আগস্ট মাসে দেশের ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদী অববাহিকায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো)। সংস্থাটির বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি) জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনে দেশের উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় নদীর পানি সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে। ফলে নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এফএফডব্লিউসি প্রকাশিত সর্বশেষ বন্যা পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদী ব্যবস্থার পানির স্তর কিছুটা কমেছে। তবে উজানে ভারি বৃষ্টিপাত এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে আগামী চার দিনের মধ্যে আবারও নদীর পানির স্তর বাড়তে পারে। পঞ্চম দিনে পানির স্তর স্থিতিশীল থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৪ থেকে ৭ জুলাই পর্যন্ত কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়া জেলার ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি বা সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। এতে এসব জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

এছাড়া আগামী পাঁচ দিনে গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানির স্তরও বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। যদিও এই সময়ে নদীটির পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

অন্যদিকে, মেঘনা অববাহিকার নদীগুলোর পানিও ধীরে ধীরে বাড়তে পারে। জুলাই ও আগস্টে মৌসুমি বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হলে ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা অববাহিকার বিভিন্ন এলাকায় স্বল্প থেকে মাঝারি মাত্রার বন্যা দেখা দিতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতের আসাম, মেঘালয় ও পার্শ্ববর্তী উজান অঞ্চলে ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদ-নদীতে পানির প্রবাহ আরও বাড়তে পারে। ফলে নদীতীরবর্তী ও চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে স্থানীয় প্রশাসন, জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে। প্রয়োজন হলে দ্রুত ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পাউবো জানিয়েছে, আবহাওয়া ও উজানের বৃষ্টিপাতের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়মিত বন্যা পূর্বাভাস হালনাগাদ করা হবে। তাই নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সর্বশেষ সরকারি পূর্বাভাস অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

৪ জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা জুলাই-আগস্টে বন্যা নিয়ে সতর্কবার্তা

Update Time : ০২:৫৮:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

উজানে ভারি বৃষ্টিপাতের প্রভাবে চলতি জুলাই ও আগস্ট মাসে দেশের ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদী অববাহিকায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো)। সংস্থাটির বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি) জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনে দেশের উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় নদীর পানি সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে। ফলে নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এফএফডব্লিউসি প্রকাশিত সর্বশেষ বন্যা পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদী ব্যবস্থার পানির স্তর কিছুটা কমেছে। তবে উজানে ভারি বৃষ্টিপাত এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে আগামী চার দিনের মধ্যে আবারও নদীর পানির স্তর বাড়তে পারে। পঞ্চম দিনে পানির স্তর স্থিতিশীল থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন  উপদাখালীর পানি বিপৎসীমার ওপরে

পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৪ থেকে ৭ জুলাই পর্যন্ত কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়া জেলার ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি বা সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। এতে এসব জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

এছাড়া আগামী পাঁচ দিনে গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানির স্তরও বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। যদিও এই সময়ে নদীটির পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

আরও পড়ুন  বিপৎসীমার কাছাকাছি দুধকুমার নদের পানি, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

অন্যদিকে, মেঘনা অববাহিকার নদীগুলোর পানিও ধীরে ধীরে বাড়তে পারে। জুলাই ও আগস্টে মৌসুমি বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হলে ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা অববাহিকার বিভিন্ন এলাকায় স্বল্প থেকে মাঝারি মাত্রার বন্যা দেখা দিতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতের আসাম, মেঘালয় ও পার্শ্ববর্তী উজান অঞ্চলে ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদ-নদীতে পানির প্রবাহ আরও বাড়তে পারে। ফলে নদীতীরবর্তী ও চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন  বন্যায় ৫৪ জনের মৃত্যু, ক্ষতিগ্রস্ত ৬ লাখের বেশি মানুষ

এদিকে স্থানীয় প্রশাসন, জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে। প্রয়োজন হলে দ্রুত ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পাউবো জানিয়েছে, আবহাওয়া ও উজানের বৃষ্টিপাতের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়মিত বন্যা পূর্বাভাস হালনাগাদ করা হবে। তাই নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সর্বশেষ সরকারি পূর্বাভাস অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে।