২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভারি বর্ষণের শঙ্কা প্রকাশ করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বজ্রসহ বৃষ্টি এবং কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে দেশের আটটি বিভাগের বেশিরভাগ এলাকাতেই দমকা বা ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে আগামী কয়েকদিন দেশের আবহাওয়া পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রকাশিত আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়। আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলামের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের প্রায় সব বিভাগেই বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে কিছু এলাকায় মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণও হতে পারে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম এবং সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আবহাওয়ার এই পরিবর্তন জনজীবনে সাময়িক প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই সময়ে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণ হতে পারে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় মেঘের ঘনত্ব বেশি থাকবে, সেখানে স্বল্প সময়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৃষ্টিপাত হতে পারে। ফলে নিচু এলাকা এবং শহরাঞ্চলের কিছু স্থানে সাময়িক জলাবদ্ধতার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
তাপমাত্রার বিষয়ে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। তবে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। বৃষ্টিপাতের কারণে কিছু এলাকায় ভ্যাপসা গরমের তীব্রতা কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা। আবহাওয়ার বর্তমান পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অধিদপ্তর জানিয়েছে, পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এই আবহাওয়াগত অবস্থার কারণেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মেঘের সৃষ্টি হচ্ছে এবং বৃষ্টিপাতের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসেও বৃষ্টিপাতের ধারা অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এ সময় চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের দুয়েক জায়গায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। শনিবারের পূর্বাভাসে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণ হতে পারে। উপকূলীয় এবং পাহাড়ি এলাকার বাসিন্দাদের এ সময় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাহাড়ি অঞ্চলে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হলে ছোটখাটো ভূমিধসের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
রোববারের আবহাওয়ার পূর্বাভাসেও একই ধরনের পরিস্থিতির কথা বলা হয়েছে। চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং দেশের অন্যান্য বিভাগের কয়েকটি স্থানে বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মৌসুমি বায়ুর প্রভাব ধীরে ধীরে সক্রিয় হওয়ার ফলে দেশের পূর্বাঞ্চল এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়ছে। চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলে তুলনামূলক বেশি বৃষ্টিপাত হওয়ার পেছনে ভৌগোলিক অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
রোববারের পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, সারা দেশে দিনের এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। ফলে তাপমাত্রার বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। তবে বৃষ্টিপাতের সময় স্থানীয়ভাবে আবহাওয়া কিছুটা শীতল অনুভূত হতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী সোমবার এবং মঙ্গলবারও একই ধরনের আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে। অর্থাৎ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি, বজ্রসহ বৃষ্টি এবং দমকা হাওয়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। কিছু এলাকায় ভারি বর্ষণের ঘটনাও ঘটতে পারে।
এ অবস্থায় কৃষক, জেলে, নৌযান চালক এবং সাধারণ মানুষকে নিয়মিত আবহাওয়ার সর্বশেষ তথ্য অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠ, নদী কিংবা জলাশয়ের আশপাশে অবস্থান না করাই নিরাপদ। একই সঙ্গে নগরবাসীকেও সম্ভাব্য জলাবদ্ধতা ও যানজটের বিষয়টি মাথায় রেখে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সব মিলিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভারি বর্ষণের শঙ্কা দেশের আবহাওয়া পরিস্থিতিকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী কয়েকদিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে এবং কিছু এলাকায় ভারি বর্ষণও হতে পারে।

























