ঢাকা ১২:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ইবোলা ভাইরাসে সৌদি আরবের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা: তিন আফ্রিকান দেশের নাগরিকদের ওপর নতুন সিদ্ধান্ত Logo শাহবাগে চিকিৎসকের মরদেহ উদ্ধার: ফ্ল্যাট থেকে ফারা ফোরদৌসের মরদেহ উদ্ধার Logo অলকা ইয়াগনিককে হুইলচেয়ারে দেখে উদ্বিগ্ন ভক্তরা Logo এক বছরের আগে শিশুকে গরুর দুধ কেন নয়? Logo পটল চাষে সাফল্য: কৃষক রশিদুলের আয় দেখে অনুপ্রাণিত সবাই Logo ইথা টিজারে দারুণ চমক, শ্রদ্ধা কাপুরের প্রত্যাবর্তনে মুগ্ধ ভক্তরা Logo ইরানের বিজয় ও যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয়: শান্তি চুক্তিতে কৌশলগত সাফল্যের দাবি Logo গালি দিলে কেন স্বস্তি লাগে? জানুন বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা Logo ব্রাজিল বনাম জাপান রেকর্ড: দুর্দান্ত মুখোমুখি পরিসংখ্যান Logo আতিফ আসলাম কনসার্ট: অবশেষে ২৪ জুলাই বহুল প্রতীক্ষিত দিন

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের ১০৯ তলা ভবন বিমান বিধস্ত

বেইজিংয়ের সিটিক টাওয়ারে ছোট বিমান আঘাত হানার পর ঘটনাস্থলে জরুরি সেবা সংস্থার তৎপরতা।

চীনের রাজধানী বেইজিংের অন্যতম আইকনিক আকাশচুম্বী ভবন সিটিক টাওয়ার (চায়না জুন)-এ একটি ছোট বিমান আছড়ে পড়ার ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার (২৬ জুন) স্থানীয় সময় সন্ধ্যার দিকে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় ভবনটিতে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং আশপাশের এলাকায় জরুরি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। তবে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, হতাহতের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করেনি চীনা কর্তৃপক্ষ।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানায়, একটি ছোট ব্যক্তিগত বিমান বেইজিংয়ের কেন্দ্রীয় ব্যবসায়িক এলাকায় অবস্থিত ১০৯ তলা সিটিক টাওয়ারের উঁচু অংশে আঘাত হানে। সংঘর্ষের পর বিমানের বিভিন্ন অংশ নিচে পড়ে যায় এবং ভবনের কাচের কয়েকটি অংশ ভেঙে যায়।

যে ভবনটিতে বিমানটি আঘাত হেনেছে সেটি সিটিক টাওয়ার, যা চায়না জুন (China Zun) নামেও পরিচিত। এটি বেইজিংয়ের সবচেয়ে উঁচু ভবনগুলোর একটি এবং ১০৮–১০৯ তলা বিশিষ্ট (গণনার পদ্ধতির ভিন্নতার কারণে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্ন সংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে)। ভবনটির উচ্চতা প্রায় ৫২৮ মিটার (১,৭৩২ ফুট)

প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমানটি ছোট আকারের ছিল এবং একক পাইলট সেটি চালাচ্ছিলেন। কেন এটি ভবনের দিকে চলে যায় বা কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল কি না—তা এখনো নিশ্চিত নয়। দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে।

সংঘর্ষের ফলে ভবনের কাচ ভেঙে যায় এবং বিমানের ধ্বংসাবশেষ নিচের সড়কে পড়ে। নিরাপত্তার স্বার্থে ভবনের আশপাশ ঘিরে ফেলে পুলিশ এবং জরুরি সেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও নিরাপত্তা কার্যক্রম শুরু করেন।

ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ভবনের ভেতরে থাকা লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং আশপাশের কয়েকটি সড়কে যান চলাচল সীমিত করা হয়।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নিহত বা আহতের সংখ্যা সম্পর্কে কোনো সরকারি ঘোষণা আসেনি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, কর্তৃপক্ষ এখনো পরিস্থিতি মূল্যায়ন করছে।

ঘটনার ভিডিও ও ছবি আন্তর্জাতিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও চীনের অভ্যন্তরীণ অনেক প্ল্যাটফর্মে সংশ্লিষ্ট পোস্ট দ্রুত সরিয়ে ফেলার খবর পাওয়া গেছে।

চীনের সংশ্লিষ্ট বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলো দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ শুরু করেছে। বিমানের ফ্লাইট রুট, পাইলটের অবস্থা এবং প্রযুক্তিগত বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বেইজিংয়ের মতো উচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত শহরে কোনো বিমান এভাবে একটি আকাশচুম্বী ভবনে আঘাত হানা অত্যন্ত বিরল ঘটনা। বিশেষ করে সিটিক টাওয়ার চীনের গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক কেন্দ্রের মধ্যে অবস্থিত হওয়ায় ঘটনাটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপক গুরুত্ব পেয়েছে।

সিটিক টাওয়ার, যা চায়না জুন (China Zun) নামেও পরিচিত, চীনের অন্যতম প্রতীকী আকাশচুম্বী ভবন।

  • উচ্চতা: ৫২৮ মিটার (১,৭৩২ ফুট)
  • তলা: ১০৮টি ব্যবহারযোগ্য তলা (কিছু প্রতিবেদনে ১০৯ তলা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে)
  • অবস্থান: বেইজিং সিবিডি
  • এটি রাষ্ট্রায়ত্ত CITIC Group-এর প্রধান কার্যালয়।
  • ভবনটি ২০১৮ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয় এবং আধুনিক স্থাপত্যের অন্যতম নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত।

ঘটনার সময় আশপাশে থাকা কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, তারা একটি বিকট শব্দ শুনতে পান। একজন কুরিয়ার কর্মী বলেন, শব্দটি আতশবাজির চেয়েও অনেক বেশি জোরালো ছিল। পরে তিনি ভবনের গায়ে আটকে থাকা বিমানের ভিডিও ধারণ করলেও পুলিশের নির্দেশে সেটি মুছে ফেলেন।

ঘটনার পরপরই পুরো এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

  • ভবনের আশপাশের একাধিক সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়।
  • পুলিশ সাধারণ মানুষকে ঘটনাস্থল থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।
  • ছবি ও ভিডিও ধারণে বাধা দেওয়া হয়।
  • ভবনের ভেতরে থাকা কর্মীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়।
  • ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়।

ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে এ-সংক্রান্ত অনেক পোস্ট ও ভিডিও সরিয়ে ফেলা হয়। বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে “China Zun” বা “CITIC Tower” লিখে খোঁজ করলে পুরোনো পোস্ট দেখা গেলেও নতুন ঘটনার তথ্য সহজে পাওয়া যাচ্ছিল না।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এটি একটি খুব ছোট আকারের হালকা বিমান, যার আকার প্রায় একটি ব্যক্তিগত গাড়ির সমান। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া কিছু তথ্য অনুযায়ী এটি একটি হালকা স্পোর্টস এয়ারক্রাফট হতে পারে, তবে কর্তৃপক্ষ এখনো বিমানটির মডেল বা নিবন্ধন নম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।

ঘটনার পর বিভিন্ন মহলে নানা আলোচনা শুরু হলেও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না। এখন পর্যন্ত সম্ভাব্য যেসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে, সেগুলো হলো—

  • যান্ত্রিক ত্রুটি
  • পাইলটের শারীরিক অসুস্থতা
  • নেভিগেশন বা যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যর্থ হওয়া
  • অনুমোদিত ফ্লাইটপথ থেকে বিচ্যুতি

তবে এগুলোর কোনোটিই এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা কয়েকটি কারণে আন্তর্জাতিক গুরুত্ব পেয়েছে—

  • বেইজিং বিশ্বের সবচেয়ে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত আকাশসীমাগুলোর একটি।
  • সিটিক টাওয়ার চীনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সদর দপ্তর।
  • ভবনটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি এলাকাগুলোর কাছাকাছি অবস্থিত।
  • এ ধরনের ঘটনা চীনে অত্যন্ত বিরল।

তদন্তকারীরা মূলত নিচের বিষয়গুলো পরীক্ষা করছেন—

  • বিমানের ব্ল্যাক বক্স বা ফ্লাইট রেকর্ডিং (যদি থাকে)
  • রাডার ডেটা
  • এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে যোগাযোগের রেকর্ড
  • বিমানের রক্ষণাবেক্ষণের ইতিহাস
  • পাইলটের ফ্লাইট অভিজ্ঞতা ও স্বাস্থ্যগত অবস্থা
  • সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য

সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী—

  • হতাহতের সংখ্যা সম্পর্কে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
  • ভবনের দুটি কাচের প্যানেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
  • তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
  • কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছে এবং নতুন তথ্য প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে।
জনপ্রিয় সংবাদ

ইবোলা ভাইরাসে সৌদি আরবের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা: তিন আফ্রিকান দেশের নাগরিকদের ওপর নতুন সিদ্ধান্ত

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের ১০৯ তলা ভবন বিমান বিধস্ত

Update Time : ০৮:৪৬:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

চীনের রাজধানী বেইজিংের অন্যতম আইকনিক আকাশচুম্বী ভবন সিটিক টাওয়ার (চায়না জুন)-এ একটি ছোট বিমান আছড়ে পড়ার ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার (২৬ জুন) স্থানীয় সময় সন্ধ্যার দিকে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় ভবনটিতে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং আশপাশের এলাকায় জরুরি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। তবে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, হতাহতের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করেনি চীনা কর্তৃপক্ষ।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানায়, একটি ছোট ব্যক্তিগত বিমান বেইজিংয়ের কেন্দ্রীয় ব্যবসায়িক এলাকায় অবস্থিত ১০৯ তলা সিটিক টাওয়ারের উঁচু অংশে আঘাত হানে। সংঘর্ষের পর বিমানের বিভিন্ন অংশ নিচে পড়ে যায় এবং ভবনের কাচের কয়েকটি অংশ ভেঙে যায়।

যে ভবনটিতে বিমানটি আঘাত হেনেছে সেটি সিটিক টাওয়ার, যা চায়না জুন (China Zun) নামেও পরিচিত। এটি বেইজিংয়ের সবচেয়ে উঁচু ভবনগুলোর একটি এবং ১০৮–১০৯ তলা বিশিষ্ট (গণনার পদ্ধতির ভিন্নতার কারণে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্ন সংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে)। ভবনটির উচ্চতা প্রায় ৫২৮ মিটার (১,৭৩২ ফুট)

প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমানটি ছোট আকারের ছিল এবং একক পাইলট সেটি চালাচ্ছিলেন। কেন এটি ভবনের দিকে চলে যায় বা কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল কি না—তা এখনো নিশ্চিত নয়। দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন  রোববারই সই হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তি: ট্রাম্প

সংঘর্ষের ফলে ভবনের কাচ ভেঙে যায় এবং বিমানের ধ্বংসাবশেষ নিচের সড়কে পড়ে। নিরাপত্তার স্বার্থে ভবনের আশপাশ ঘিরে ফেলে পুলিশ এবং জরুরি সেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও নিরাপত্তা কার্যক্রম শুরু করেন।

ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ভবনের ভেতরে থাকা লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং আশপাশের কয়েকটি সড়কে যান চলাচল সীমিত করা হয়।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নিহত বা আহতের সংখ্যা সম্পর্কে কোনো সরকারি ঘোষণা আসেনি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, কর্তৃপক্ষ এখনো পরিস্থিতি মূল্যায়ন করছে।

ঘটনার ভিডিও ও ছবি আন্তর্জাতিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও চীনের অভ্যন্তরীণ অনেক প্ল্যাটফর্মে সংশ্লিষ্ট পোস্ট দ্রুত সরিয়ে ফেলার খবর পাওয়া গেছে।

চীনের সংশ্লিষ্ট বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলো দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ শুরু করেছে। বিমানের ফ্লাইট রুট, পাইলটের অবস্থা এবং প্রযুক্তিগত বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বেইজিংয়ের মতো উচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত শহরে কোনো বিমান এভাবে একটি আকাশচুম্বী ভবনে আঘাত হানা অত্যন্ত বিরল ঘটনা। বিশেষ করে সিটিক টাওয়ার চীনের গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক কেন্দ্রের মধ্যে অবস্থিত হওয়ায় ঘটনাটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপক গুরুত্ব পেয়েছে।

সিটিক টাওয়ার, যা চায়না জুন (China Zun) নামেও পরিচিত, চীনের অন্যতম প্রতীকী আকাশচুম্বী ভবন।

  • উচ্চতা: ৫২৮ মিটার (১,৭৩২ ফুট)
  • তলা: ১০৮টি ব্যবহারযোগ্য তলা (কিছু প্রতিবেদনে ১০৯ তলা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে)
  • অবস্থান: বেইজিং সিবিডি
  • এটি রাষ্ট্রায়ত্ত CITIC Group-এর প্রধান কার্যালয়।
  • ভবনটি ২০১৮ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয় এবং আধুনিক স্থাপত্যের অন্যতম নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত।
আরও পড়ুন  হরমুজ প্রণালী সংকটে সহায়তার প্রস্তাব শি জিনপিংয়ের

ঘটনার সময় আশপাশে থাকা কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, তারা একটি বিকট শব্দ শুনতে পান। একজন কুরিয়ার কর্মী বলেন, শব্দটি আতশবাজির চেয়েও অনেক বেশি জোরালো ছিল। পরে তিনি ভবনের গায়ে আটকে থাকা বিমানের ভিডিও ধারণ করলেও পুলিশের নির্দেশে সেটি মুছে ফেলেন।

ঘটনার পরপরই পুরো এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

  • ভবনের আশপাশের একাধিক সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়।
  • পুলিশ সাধারণ মানুষকে ঘটনাস্থল থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।
  • ছবি ও ভিডিও ধারণে বাধা দেওয়া হয়।
  • ভবনের ভেতরে থাকা কর্মীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়।
  • ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়।

ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে এ-সংক্রান্ত অনেক পোস্ট ও ভিডিও সরিয়ে ফেলা হয়। বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে “China Zun” বা “CITIC Tower” লিখে খোঁজ করলে পুরোনো পোস্ট দেখা গেলেও নতুন ঘটনার তথ্য সহজে পাওয়া যাচ্ছিল না।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এটি একটি খুব ছোট আকারের হালকা বিমান, যার আকার প্রায় একটি ব্যক্তিগত গাড়ির সমান। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া কিছু তথ্য অনুযায়ী এটি একটি হালকা স্পোর্টস এয়ারক্রাফট হতে পারে, তবে কর্তৃপক্ষ এখনো বিমানটির মডেল বা নিবন্ধন নম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।

আরও পড়ুন  সোনিয়া গান্ধী হাসপাতালে ভর্তি চিকিৎসা আপডেট

ঘটনার পর বিভিন্ন মহলে নানা আলোচনা শুরু হলেও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না। এখন পর্যন্ত সম্ভাব্য যেসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে, সেগুলো হলো—

  • যান্ত্রিক ত্রুটি
  • পাইলটের শারীরিক অসুস্থতা
  • নেভিগেশন বা যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যর্থ হওয়া
  • অনুমোদিত ফ্লাইটপথ থেকে বিচ্যুতি

তবে এগুলোর কোনোটিই এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা কয়েকটি কারণে আন্তর্জাতিক গুরুত্ব পেয়েছে—

  • বেইজিং বিশ্বের সবচেয়ে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত আকাশসীমাগুলোর একটি।
  • সিটিক টাওয়ার চীনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সদর দপ্তর।
  • ভবনটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি এলাকাগুলোর কাছাকাছি অবস্থিত।
  • এ ধরনের ঘটনা চীনে অত্যন্ত বিরল।

তদন্তকারীরা মূলত নিচের বিষয়গুলো পরীক্ষা করছেন—

  • বিমানের ব্ল্যাক বক্স বা ফ্লাইট রেকর্ডিং (যদি থাকে)
  • রাডার ডেটা
  • এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে যোগাযোগের রেকর্ড
  • বিমানের রক্ষণাবেক্ষণের ইতিহাস
  • পাইলটের ফ্লাইট অভিজ্ঞতা ও স্বাস্থ্যগত অবস্থা
  • সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য

সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী—

  • হতাহতের সংখ্যা সম্পর্কে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
  • ভবনের দুটি কাচের প্যানেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
  • তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
  • কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছে এবং নতুন তথ্য প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে।