ঢাকা ০৯:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

রামমন্দিরে অর্থ কেলেঙ্কারি, মোদি-যোগী দ্বন্দ্বে নতুন প্রশ্ন

অযোধ্যার রামমন্দিরে দান করা অর্থ ও গয়না আত্মসাতের অভিযোগ ঘিরে ভারতের রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। ছবি: সংগৃহীত।

অযোধ্যার রামমন্দিরে দান করা অর্থ ও স্বর্ণালংকার আত্মসাতের অভিযোগ ঘিরে ভারতের রাজনীতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। উত্তর প্রদেশ পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) আটজনকে গ্রেপ্তার করার পর মন্দির ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই ও ট্রাস্ট সদস্য অনিল মিশ্র পদত্যাগ করেছেন। তবে বিরোধীদের অভিযোগ, প্রকৃত হোতাদের আড়াল করে কেবল নিচু পর্যায়ের কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শুক্রবার গ্রেপ্তারের পর পুলিশ অভিযুক্তদের বাড়ি ও বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৮০ লাখ রুপি উদ্ধার করেছে। তদন্তকারীদের দাবি, মন্দিরে জমা পড়া নগদ অর্থ ও মূল্যবান গয়না দীর্ঘদিন ধরে আত্মসাতের একটি সংগঠিত চক্র সক্রিয় ছিল। তবে চুরির প্রকৃত পরিমাণ এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।

ঘটনার পর কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি (এসপি), আম আদমি পার্টি (এএপি), তৃণমূল কংগ্রেস এবং বামপন্থী দলগুলো সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। বিরোধীদের ভাষ্য, বর্তমান তদন্তে কেবল ‘চুনোপুঁটি’ ধরা পড়ছে, অথচ মূল পরিকল্পনাকারীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছেন।

রামমন্দির কাণ্ড নিয়ে বিজেপির ভেতরেও শুরু হয়েছে চাপান-উতোর। আগামী বছর উত্তর প্রদেশে বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বিরোধীরা মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে রাজনৈতিকভাবে চাপে ফেলতে চাইছে। অন্যদিকে যোগী শিবিরের নেতারা দায়ভার কেন্দ্রের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছেন।

যোগী অনুগামীদের দাবি, রামমন্দির পরিচালনার জন্য গঠিত ‘শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট’-এর বেশির ভাগ সদস্যই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মনোনীত। ট্রাস্টের ১৫ সদস্যের মধ্যে ১২ জনকে কেন্দ্রের সিদ্ধান্তেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। তাই এই ট্রাস্টের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠলে কেন্দ্রও দায় এড়াতে পারে না বলে তাঁদের দাবি।

এ ছাড়া ট্রাস্টের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এবং মন্দির নির্মাণ কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মুখ্যসচিব নৃপেন্দ্র মিশ্র। যোগীপন্থীরা বলছেন, মন্দির নির্মাণ ও প্রশাসনিক তদারকির বড় অংশই তাঁর নেতৃত্বে পরিচালিত হয়েছে। ফলে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে শুধু রাজ্য সরকারকে দায়ী করা যায় না।

তদন্তের শুরুতে সমাজবাদী পার্টি প্রথম রামমন্দিরের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তোলে। কিন্তু তখন ট্রাস্ট কিংবা রাজ্য সরকার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়নি। পরে একটি নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদনে দানসামগ্রীর কোনো সঠিক হিসাব না থাকার বিষয়টি সামনে আসার পর পরিস্থিতি বদলে যায়।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়, মন্দিরে জমা পড়া অর্থ, স্বর্ণ ও রুপার গয়নার কোনো পূর্ণাঙ্গ নথি সংরক্ষণ করা হতো না। কে কত টাকা বা কত মূল্যবান সামগ্রী দান করেছেন, তার নির্ভরযোগ্য রেকর্ডও ছিল না। ফলে আত্মসাতের প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

এসআইটির প্রাথমিক প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, প্রতিদিন দানসামগ্রী গণনার সময় কখনো সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ রাখা হতো, আবার কখনো ক্যামেরার দৃষ্টি ইচ্ছাকৃতভাবে আড়াল করা হতো। তদন্তকারীদের দাবি, এসব কৌশল ব্যবহার করে নিয়মিত অর্থ ও গয়না সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চুরি করা অর্থ ও গয়না সাময়িকভাবে মন্দিরের শৌচাগারে লুকিয়ে রাখা হতো। পরে সেগুলো অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হতো। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিদিন লাখ লাখ রুপি দান জমা পড়লেও হিসাবের খাতায় তা কয়েক হাজার রুপিতে নেমে আসত।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, মন্দির পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন ব্যক্তি উত্তরাখণ্ডে অবকাশযাপন কেন্দ্র, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও শপিং মল গড়ে তুলেছেন। এসব সম্পদের উৎস নিয়েও তদন্ত চলছে বলে জানা গেছে।

এদিকে বিরোধীরা প্রশ্ন তুলেছেন, যাঁরা গ্রেপ্তার হয়েছেন তাঁদের অধিকাংশই কেবল দানসামগ্রী গণনার কাজে নিয়োজিত ছিলেন। অথচ ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই কিংবা সদস্য অনিল মিশ্রের বিরুদ্ধে এখনো কোনো এফআইআর দায়ের করা হয়নি। তাঁদের গ্রেপ্তার না করায় তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

চম্পত রাই ও অনিল মিশ্র দুজনই বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (ভিএইচপি) প্রভাবশালী নেতা। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে কেউ তাঁদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী, কেউ আবার আত্মীয়। বিরোধীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম চললেও তাঁরা কোনো ব্যবস্থা নেননি।

কংগ্রেস নেতা রাজীব শুক্লা অভিযোগ করেছেন, শীর্ষ পর্যায়ের আশীর্বাদ ছাড়া কোটি কোটি রুপি আত্মসাৎ সম্ভব নয়। দলের সাধারণ সম্পাদক কে সি বেনুগোপাল বলেন, ধর্মের নামে মানুষের বিশ্বাসকে ব্যবহার করে যদি মন্দিরের সম্পদই লুট হয়, তবে তার জবাব জনগণই দেবে।

আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়ালও কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাঁর প্রশ্ন, কোটি কোটি রুপি আত্মসাতের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও ট্রাস্টের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এত দেরি কেন। রাজনৈতিক চাপের কারণেই কি তদন্ত সীমিত রাখা হচ্ছে—এ প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।

এদিকে শিবসেনার উদ্ধব ঠাকরে গোষ্ঠীর নেতা সঞ্জয় রাউত দাবি করেছেন, তাঁর দল মন্দির নির্মাণের সময় এক কোটি রুপি ও চার কেজি রুপার ইট দান করলেও এখনো তার কোনো রসিদ দেওয়া হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, আত্মসাৎ হওয়া অর্থের একটি অংশ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেও ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে রামমন্দিরের অর্থ কেলেঙ্কারি এখন শুধু আর্থিক অনিয়ম নয়, ভারতের জাতীয় রাজনীতির অন্যতম বড় বিতর্কে পরিণত হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

দেবদ্যুতি আইচের বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি, প্রথম সিনেমাতেই জেলে যাওয়ার ভয়!

রামমন্দিরে অর্থ কেলেঙ্কারি, মোদি-যোগী দ্বন্দ্বে নতুন প্রশ্ন

Update Time : ০৫:৪২:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

অযোধ্যার রামমন্দিরে দান করা অর্থ ও স্বর্ণালংকার আত্মসাতের অভিযোগ ঘিরে ভারতের রাজনীতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। উত্তর প্রদেশ পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) আটজনকে গ্রেপ্তার করার পর মন্দির ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই ও ট্রাস্ট সদস্য অনিল মিশ্র পদত্যাগ করেছেন। তবে বিরোধীদের অভিযোগ, প্রকৃত হোতাদের আড়াল করে কেবল নিচু পর্যায়ের কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শুক্রবার গ্রেপ্তারের পর পুলিশ অভিযুক্তদের বাড়ি ও বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৮০ লাখ রুপি উদ্ধার করেছে। তদন্তকারীদের দাবি, মন্দিরে জমা পড়া নগদ অর্থ ও মূল্যবান গয়না দীর্ঘদিন ধরে আত্মসাতের একটি সংগঠিত চক্র সক্রিয় ছিল। তবে চুরির প্রকৃত পরিমাণ এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।

ঘটনার পর কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি (এসপি), আম আদমি পার্টি (এএপি), তৃণমূল কংগ্রেস এবং বামপন্থী দলগুলো সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। বিরোধীদের ভাষ্য, বর্তমান তদন্তে কেবল ‘চুনোপুঁটি’ ধরা পড়ছে, অথচ মূল পরিকল্পনাকারীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছেন।

রামমন্দির কাণ্ড নিয়ে বিজেপির ভেতরেও শুরু হয়েছে চাপান-উতোর। আগামী বছর উত্তর প্রদেশে বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বিরোধীরা মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে রাজনৈতিকভাবে চাপে ফেলতে চাইছে। অন্যদিকে যোগী শিবিরের নেতারা দায়ভার কেন্দ্রের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছেন।

আরও পড়ুন  বাজারচাপে কর্মীদের সঙ্গে বৈঠকের পথে বিএমডব্লিউ

যোগী অনুগামীদের দাবি, রামমন্দির পরিচালনার জন্য গঠিত ‘শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট’-এর বেশির ভাগ সদস্যই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মনোনীত। ট্রাস্টের ১৫ সদস্যের মধ্যে ১২ জনকে কেন্দ্রের সিদ্ধান্তেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। তাই এই ট্রাস্টের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠলে কেন্দ্রও দায় এড়াতে পারে না বলে তাঁদের দাবি।

এ ছাড়া ট্রাস্টের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এবং মন্দির নির্মাণ কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মুখ্যসচিব নৃপেন্দ্র মিশ্র। যোগীপন্থীরা বলছেন, মন্দির নির্মাণ ও প্রশাসনিক তদারকির বড় অংশই তাঁর নেতৃত্বে পরিচালিত হয়েছে। ফলে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে শুধু রাজ্য সরকারকে দায়ী করা যায় না।

তদন্তের শুরুতে সমাজবাদী পার্টি প্রথম রামমন্দিরের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তোলে। কিন্তু তখন ট্রাস্ট কিংবা রাজ্য সরকার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়নি। পরে একটি নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদনে দানসামগ্রীর কোনো সঠিক হিসাব না থাকার বিষয়টি সামনে আসার পর পরিস্থিতি বদলে যায়।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়, মন্দিরে জমা পড়া অর্থ, স্বর্ণ ও রুপার গয়নার কোনো পূর্ণাঙ্গ নথি সংরক্ষণ করা হতো না। কে কত টাকা বা কত মূল্যবান সামগ্রী দান করেছেন, তার নির্ভরযোগ্য রেকর্ডও ছিল না। ফলে আত্মসাতের প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

আরও পড়ুন  ইউক্রেনের হামলা, ক্রিমিয়ায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট

এসআইটির প্রাথমিক প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, প্রতিদিন দানসামগ্রী গণনার সময় কখনো সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ রাখা হতো, আবার কখনো ক্যামেরার দৃষ্টি ইচ্ছাকৃতভাবে আড়াল করা হতো। তদন্তকারীদের দাবি, এসব কৌশল ব্যবহার করে নিয়মিত অর্থ ও গয়না সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চুরি করা অর্থ ও গয়না সাময়িকভাবে মন্দিরের শৌচাগারে লুকিয়ে রাখা হতো। পরে সেগুলো অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হতো। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিদিন লাখ লাখ রুপি দান জমা পড়লেও হিসাবের খাতায় তা কয়েক হাজার রুপিতে নেমে আসত।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, মন্দির পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন ব্যক্তি উত্তরাখণ্ডে অবকাশযাপন কেন্দ্র, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও শপিং মল গড়ে তুলেছেন। এসব সম্পদের উৎস নিয়েও তদন্ত চলছে বলে জানা গেছে।

এদিকে বিরোধীরা প্রশ্ন তুলেছেন, যাঁরা গ্রেপ্তার হয়েছেন তাঁদের অধিকাংশই কেবল দানসামগ্রী গণনার কাজে নিয়োজিত ছিলেন। অথচ ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই কিংবা সদস্য অনিল মিশ্রের বিরুদ্ধে এখনো কোনো এফআইআর দায়ের করা হয়নি। তাঁদের গ্রেপ্তার না করায় তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

চম্পত রাই ও অনিল মিশ্র দুজনই বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (ভিএইচপি) প্রভাবশালী নেতা। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে কেউ তাঁদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী, কেউ আবার আত্মীয়। বিরোধীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম চললেও তাঁরা কোনো ব্যবস্থা নেননি।

আরও পড়ুন  তিস্তা মহাপরিকল্পনায় কারিগরি সহায়তা দিতে আগ্রহী চীন

কংগ্রেস নেতা রাজীব শুক্লা অভিযোগ করেছেন, শীর্ষ পর্যায়ের আশীর্বাদ ছাড়া কোটি কোটি রুপি আত্মসাৎ সম্ভব নয়। দলের সাধারণ সম্পাদক কে সি বেনুগোপাল বলেন, ধর্মের নামে মানুষের বিশ্বাসকে ব্যবহার করে যদি মন্দিরের সম্পদই লুট হয়, তবে তার জবাব জনগণই দেবে।

আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়ালও কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাঁর প্রশ্ন, কোটি কোটি রুপি আত্মসাতের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও ট্রাস্টের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এত দেরি কেন। রাজনৈতিক চাপের কারণেই কি তদন্ত সীমিত রাখা হচ্ছে—এ প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।

এদিকে শিবসেনার উদ্ধব ঠাকরে গোষ্ঠীর নেতা সঞ্জয় রাউত দাবি করেছেন, তাঁর দল মন্দির নির্মাণের সময় এক কোটি রুপি ও চার কেজি রুপার ইট দান করলেও এখনো তার কোনো রসিদ দেওয়া হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, আত্মসাৎ হওয়া অর্থের একটি অংশ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেও ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে রামমন্দিরের অর্থ কেলেঙ্কারি এখন শুধু আর্থিক অনিয়ম নয়, ভারতের জাতীয় রাজনীতির অন্যতম বড় বিতর্কে পরিণত হয়েছে।