ঢাকা ০৬:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আদানির মামলা প্রত্যাহারে প্রশ্ন, বিচারকের নির্দেশে নতুন মোড়

গৌতম আদানির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়ে মার্কিন আদালতে নতুন প্রশ্ন উঠেছে। ছবি: সংগৃহীত।

ভারতীয় শিল্পগোষ্ঠী আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যান গৌতম আদানির বিরুদ্ধে দায়ের করা ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক ফেডারেল বিচারক। কেন মামলাটি আর চালিয়ে নিতে চায় না মার্কিন বিচার বিভাগ (ডিওজে), সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে বিচার বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছেন ব্রুকলিনের মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট জজ নিকোলাস গারাউফিস। আগামী ১৩ জুলাইয়ের মধ্যে এ বিষয়ে আদালতে লিখিত ব্যাখ্যা জমা দিতে বলা হয়েছে।

 

গত মে মাসে মার্কিন বিচার বিভাগ জানায়, তারা আদানির বিরুদ্ধে চলমান ফৌজদারি মামলাটি আর এগিয়ে নিতে চায় না। তবে সেই সিদ্ধান্তের পক্ষে যথেষ্ট আইনি ব্যাখ্যা না থাকায় বিচারক গারাউফিস বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানান। তাঁর মতে, সরকারের সংক্ষিপ্ত ও একপক্ষীয় বক্তব্য আদালতের জন্য পর্যাপ্ত নয়।

 

শুক্রবার প্রকাশিত আদালতের লিখিত আদেশে বিচারক বলেন, মামলাটি প্রত্যাহারের পক্ষে যে নোটিশ জমা দেওয়া হয়েছে, সেখানে সিদ্ধান্তের যৌক্তিক ভিত্তি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়নি। ফলে আদালত মামলাটি খারিজের আবেদন যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে পারছে না। এ কারণেই বিচার বিভাগকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

এর আগে গত বুধবার আদানির আইনজীবীরা আনুষ্ঠানিকভাবে আদালতের কাছে মামলাটি খারিজ করার আবেদন করেন। তাঁদের দাবি, মামলাটি মার্কিন আইনের বিচারিক এখতিয়ারের বাইরে। পাশাপাশি ভারতের সরকারি কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ আদালতে প্রমাণ করা সম্ভব হবে না বলেও যুক্তি তুলে ধরেন তাঁরা।

 

আদানির প্রধান আইনজীবী রবার্ট জিউফ্রা বিচারককে লেখা এক চিঠিতে বলেন, অভিযোগের ভিত্তি দুর্বল হওয়ায় মামলাটি চালিয়ে যাওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। তিনি আরও দাবি করেন, মামলার বেশির ভাগ অভিযোগ ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত, যা যুক্তরাষ্ট্রের ফৌজদারি আইনের আওতায় পড়ে না।

 

মামলাটি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে আসে, যখন আদানি যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় এক হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেন। এই সময়কাল নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠলেও বিচার বিভাগ এখন পর্যন্ত এ দুই ঘটনার মধ্যে কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।

 

২০২৪ সালে গৌতম আদানির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়। অভিযোগ ছিল, ভারতে একটি বড় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের চুক্তি পেতে সরকারি কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার পরিকল্পনায় তিনি জড়িত ছিলেন। একই সঙ্গে কোম্পানির দুর্নীতিবিরোধী নীতি সম্পর্কে মার্কিন বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করার অভিযোগও আনা হয়।

 

ব্লুমবার্গ বিলিয়নিয়ারস ইনডেক্স অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের ১৭তম ধনী ব্যক্তি গৌতম আদানি। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগ আন্তর্জাতিক ব্যবসা ও বিনিয়োগ অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। যদিও শুরু থেকেই আদানি গ্রুপ সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

 

মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের আগে আদানি আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ দেন রবার্ট জিউফ্রাকে। তিনি একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আইনজীবীদের একজন। এ ঘটনাও রাজনৈতিক ও আইনি মহলে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

 

জিউফ্রার আইনি দলের সদস্য জেমস ম্যাকডোনাল্ডকেও সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসন ম্যানহাটানের শীর্ষ ফেডারেল প্রসিকিউটর হিসেবে মনোনীত করেছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, গত মাসে আদানির পক্ষে ইতিবাচক আইনি অগ্রগতি এনে দেওয়া দলেও ছিলেন ম্যাকডোনাল্ড। অন্যদিকে, সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সময়ই আদানির বিরুদ্ধে এই মামলার সূচনা হয়েছিল।

 

এদিকে চলতি সপ্তাহে ব্লুমবার্গ নিউজের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, বিচার বিভাগের তদন্ত চলাকালে গত নভেম্বর মাসে গৌতম আদানি মার্কিন প্রেসিডেন্টের ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। তবে ওই বৈঠকে কী নিয়ে আলোচনা হয়েছিল, সে বিষয়ে কোনো পক্ষই বিস্তারিত জানায়নি।

 

এখন মার্কিন বিচার বিভাগের ব্যাখ্যার দিকে নজর রয়েছে আদালত, বিনিয়োগকারী এবং আন্তর্জাতিক মহলের। আগামী ১৩ জুলাইয়ের মধ্যে জমা দেওয়া ব্যাখ্যার ওপর নির্ভর করবে মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে খারিজ হবে, নাকি বিচারিক প্রক্রিয়া নতুন করে এগিয়ে যাবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

আদানির মামলা প্রত্যাহারে প্রশ্ন, বিচারকের নির্দেশে নতুন মোড়

Update Time : ০৪:৩০:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

ভারতীয় শিল্পগোষ্ঠী আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যান গৌতম আদানির বিরুদ্ধে দায়ের করা ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক ফেডারেল বিচারক। কেন মামলাটি আর চালিয়ে নিতে চায় না মার্কিন বিচার বিভাগ (ডিওজে), সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে বিচার বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছেন ব্রুকলিনের মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট জজ নিকোলাস গারাউফিস। আগামী ১৩ জুলাইয়ের মধ্যে এ বিষয়ে আদালতে লিখিত ব্যাখ্যা জমা দিতে বলা হয়েছে।

 

গত মে মাসে মার্কিন বিচার বিভাগ জানায়, তারা আদানির বিরুদ্ধে চলমান ফৌজদারি মামলাটি আর এগিয়ে নিতে চায় না। তবে সেই সিদ্ধান্তের পক্ষে যথেষ্ট আইনি ব্যাখ্যা না থাকায় বিচারক গারাউফিস বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানান। তাঁর মতে, সরকারের সংক্ষিপ্ত ও একপক্ষীয় বক্তব্য আদালতের জন্য পর্যাপ্ত নয়।

 

শুক্রবার প্রকাশিত আদালতের লিখিত আদেশে বিচারক বলেন, মামলাটি প্রত্যাহারের পক্ষে যে নোটিশ জমা দেওয়া হয়েছে, সেখানে সিদ্ধান্তের যৌক্তিক ভিত্তি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়নি। ফলে আদালত মামলাটি খারিজের আবেদন যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে পারছে না। এ কারণেই বিচার বিভাগকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন  সোনিয়া গান্ধী হাসপাতালে ভর্তি চিকিৎসা আপডেট

 

এর আগে গত বুধবার আদানির আইনজীবীরা আনুষ্ঠানিকভাবে আদালতের কাছে মামলাটি খারিজ করার আবেদন করেন। তাঁদের দাবি, মামলাটি মার্কিন আইনের বিচারিক এখতিয়ারের বাইরে। পাশাপাশি ভারতের সরকারি কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ আদালতে প্রমাণ করা সম্ভব হবে না বলেও যুক্তি তুলে ধরেন তাঁরা।

 

আদানির প্রধান আইনজীবী রবার্ট জিউফ্রা বিচারককে লেখা এক চিঠিতে বলেন, অভিযোগের ভিত্তি দুর্বল হওয়ায় মামলাটি চালিয়ে যাওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। তিনি আরও দাবি করেন, মামলার বেশির ভাগ অভিযোগ ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত, যা যুক্তরাষ্ট্রের ফৌজদারি আইনের আওতায় পড়ে না।

 

মামলাটি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে আসে, যখন আদানি যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় এক হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেন। এই সময়কাল নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠলেও বিচার বিভাগ এখন পর্যন্ত এ দুই ঘটনার মধ্যে কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।

আরও পড়ুন  বিদ্যুৎচালিত এয়ার ট্যাক্সি: নিউইয়র্কে পরীক্ষামূলক উড়ান, ১০ মিনিটে বিমানবন্দর যাত্রা সম্ভব

 

২০২৪ সালে গৌতম আদানির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়। অভিযোগ ছিল, ভারতে একটি বড় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের চুক্তি পেতে সরকারি কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার পরিকল্পনায় তিনি জড়িত ছিলেন। একই সঙ্গে কোম্পানির দুর্নীতিবিরোধী নীতি সম্পর্কে মার্কিন বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করার অভিযোগও আনা হয়।

 

ব্লুমবার্গ বিলিয়নিয়ারস ইনডেক্স অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের ১৭তম ধনী ব্যক্তি গৌতম আদানি। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগ আন্তর্জাতিক ব্যবসা ও বিনিয়োগ অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। যদিও শুরু থেকেই আদানি গ্রুপ সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

 

মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের আগে আদানি আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ দেন রবার্ট জিউফ্রাকে। তিনি একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আইনজীবীদের একজন। এ ঘটনাও রাজনৈতিক ও আইনি মহলে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

আরও পড়ুন  যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় অগ্রগতি, যুদ্ধ শেষের নতুন আশা

 

জিউফ্রার আইনি দলের সদস্য জেমস ম্যাকডোনাল্ডকেও সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসন ম্যানহাটানের শীর্ষ ফেডারেল প্রসিকিউটর হিসেবে মনোনীত করেছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, গত মাসে আদানির পক্ষে ইতিবাচক আইনি অগ্রগতি এনে দেওয়া দলেও ছিলেন ম্যাকডোনাল্ড। অন্যদিকে, সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সময়ই আদানির বিরুদ্ধে এই মামলার সূচনা হয়েছিল।

 

এদিকে চলতি সপ্তাহে ব্লুমবার্গ নিউজের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, বিচার বিভাগের তদন্ত চলাকালে গত নভেম্বর মাসে গৌতম আদানি মার্কিন প্রেসিডেন্টের ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। তবে ওই বৈঠকে কী নিয়ে আলোচনা হয়েছিল, সে বিষয়ে কোনো পক্ষই বিস্তারিত জানায়নি।

 

এখন মার্কিন বিচার বিভাগের ব্যাখ্যার দিকে নজর রয়েছে আদালত, বিনিয়োগকারী এবং আন্তর্জাতিক মহলের। আগামী ১৩ জুলাইয়ের মধ্যে জমা দেওয়া ব্যাখ্যার ওপর নির্ভর করবে মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে খারিজ হবে, নাকি বিচারিক প্রক্রিয়া নতুন করে এগিয়ে যাবে।