জার্মানির প্রিমিয়াম গাড়ি নির্মাতা বিএমডব্লিউ মুনাফা সতর্কবার্তা জারির পর কর্মী প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কোম্পানির পক্ষ থেকে ব্যয় কমানোর নতুন পদক্ষেপ আরও দ্রুত বাস্তবায়নের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে অভ্যন্তরীণ আলোচনা শুরু হয়েছে।
কর্মী পরিষদের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা বর্তমানে ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সমাধান খুঁজতে কাজ করছেন এবং কর্মীদের স্বার্থ বিবেচনায় রেখে আলোচনার মাধ্যমে এগোনোর চেষ্টা চলছে। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
এই মুনাফা সতর্কতা বিএমডব্লিউর জন্য টানা তৃতীয় বছর, যার পেছনে মূল কারণ হিসেবে চীনের বাজারে দুর্বল চাহিদা ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপকে দায়ী করা হচ্ছে। এছাড়া ইরান সংঘাতজনিত খরচ বৃদ্ধিও কোম্পানির ওপর চাপ তৈরি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিএমডব্লিউ ইউরোপে কর্মী ছাঁটাই এবং উত্তর আমেরিকা ও চীনে উৎপাদন আরও স্থানান্তরের মতো পদক্ষেপ নিতে পারে। এতে উৎপাদন খরচ কমানোর পাশাপাশি বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।
কোম্পানির ব্যবস্থাপনা সম্প্রতি এক আলোচনায় জানায়, তারা দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিচ্ছে এবং কাঠামোগত ব্যয় কমানোর পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে। এর ফলে ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে আর্থিক প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিএমডব্লিউর নতুন সিইও মিলান নেডেলজকোভিক জানিয়েছেন, কোম্পানির খরচ কমাতে বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন প্রয়োজন। তবে তারা এখনই বড় আকারে ছাঁটাইয়ের পথে না গিয়ে স্বাভাবিক কর্মী হ্রাসের মাধ্যমে সমন্বয় করছে।
বর্তমানে কোম্পানির বৈশ্বিক কর্মী সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৫৫ হাজার। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৬ সালের মধ্যে এই সংখ্যা প্রায় ৫ শতাংশ কমতে পারে, যা প্রায় ৭ হাজারের বেশি চাকরির সমান।
তবে বিএমডব্লিউ বলছে, এই কর্মী হ্রাস সরাসরি ছাঁটাই নয়, বরং অবসরের মাধ্যমে স্বাভাবিকভাবে কর্মী সংখ্যা কমানো হবে। এতে কর্মীদের ওপর সরাসরি চাপ কম থাকবে বলে দাবি করা হয়েছে।
অন্যদিকে বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউরোপের গাড়ি শিল্প ইতিমধ্যেই চীনের দুর্বল চাহিদা, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা এবং জ্বালানি সংকটের কারণে চাপের মধ্যে রয়েছে। বিএমডব্লিউও সেই চাপের বাইরে নয়।
এর আগে একই ধরনের আর্থিক সংকটে ভুগেছে ভক্সওয়াগন ও মার্সিডিজ-বেঞ্জ, যারা ইতিমধ্যে বড় ধরনের পুনর্গঠন ও কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।
বিএমডব্লিউর শেয়ারের দাম ঘোষণার পর প্রায় ছয় বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
সব মিলিয়ে, মুনাফা সতর্কতার পর বিএমডব্লিউ এখন ব্যয় কমানো, উৎপাদন পুনর্বিন্যাস এবং কর্মী কাঠামো পুনর্গঠনের কঠিন সিদ্ধান্তের দিকে এগোচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


























