ঢাকা ০৩:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo অবাক করা অজগর উদ্ধার: সাতক্ষীরার দোকানে ঢুকে পড়া অজগর সুন্দরবনে অবমুক্ত Logo জেব্রা ফিঞ্চ ভাষা রহস্য: এআইয়ের অসাধারণ সাফল্যে গবেষকের ১ লাখ ডলার পুরস্কার Logo : কোরআনের পাণ্ডুলিপি নিয়ে বিশ্বজুড়ে চাঞ্চল্যকর গবেষণা ও অজানা কিছু ঐতিহাসিক তথ্য Logo ইসলাম কী বলে, স্ত্রীর টাকা-কার অধিকার? Logo হজ শেষে ফিরেছেন ৭৩০৭৬ বাংলাদেশি Logo জারবীনি নিয়ে চমক, পলাশের নতুন জুটি কেন আলোচনায়? Logo সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সুখবর, আসছে নতুন পে-স্কেলের গেজেট Logo রইদ সিনেমার ঐতিহাসিক সাফল্য, আমেরিকার জাতীয় সম্প্রচারে স্বীকৃতি Logo মেঘ গানে মুগ্ধতা ছড়াল কোক স্টুডিও বাংলার নতুন চমক Logo পারসা ইভানার বিস্ফোরক অভিযোগ, বকেয়া পারিশ্রমিক নিয়ে বিতর্ক

মুস্তাফা মনোয়ার: একুশে পদকপ্রাপ্ত চিত্রশিল্পীর প্রয়াণ

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১১:৪৪:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
  • ৫০৬

শিল্প ও সংস্কৃতিতে অনন্য অবদান রেখে গেছেন মুস্তাফা মনোয়ার। ছবি: সংগৃহীত

মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই। দেশের বরেণ্য চিত্রশিল্পী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং একুশে পদকপ্রাপ্ত এই গুণী মানুষ দীর্ঘদিন নিউমোনিয়াজনিত জটিলতায় চিকিৎসাধীন থাকার পর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তাঁর মৃত্যুতে দেশের শিল্প-সংস্কৃতি অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোক।

গত ১৪ জুন নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন মুস্তাফা মনোয়ার। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে কয়েক দিন চিকিৎসা চললেও শেষ পর্যন্ত তাঁর অবস্থার আরও অবনতি হয়। সর্বোচ্চ চিকিৎসা প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তাঁকে আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, ফুসফুসে মারাত্মক ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের কারণে তিনি সংকটাপন্ন অবস্থায় ছিলেন। এক পর্যায়ে ভেন্টিলেটর সাপোর্ট খুলে নেওয়ায় আশার সঞ্চার হলেও পরে আবারও শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং তাঁকে পুনরায় ভেন্টিলেটর সাপোর্টে নেওয়া হয়।

১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন মুস্তাফা মনোয়ার। তিনি ছিলেন প্রখ্যাত কবি গোলাম মোস্তফার সন্তান। দীর্ঘ কর্মজীবনে চিত্রকলা, টেলিভিশন, শিশুতোষ অনুষ্ঠান নির্মাণ এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অসামান্য অবদান রেখে তিনি দেশের অন্যতম শ্রদ্ধেয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। শিল্প ও সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন।

মুস্তাফা মনোয়ারের সৃষ্টিশীল কাজ শুধু শিল্পাঙ্গনেই সীমাবদ্ধ ছিল না। নতুন প্রজন্মের মধ্যে শিল্পচর্চা ও সৃজনশীলতা বিকাশে তাঁর অবদান আজও স্মরণীয়। তাঁর উপস্থাপনা, চিত্রকর্ম এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের শিল্প-ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে থাকবে।

তাঁর মৃত্যুতে শিল্পী, সাহিত্যিক, সংস্কৃতিকর্মী, শিক্ষাবিদ এবং অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকেই তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। গুণী এই শিল্পীর অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

অবাক করা অজগর উদ্ধার: সাতক্ষীরার দোকানে ঢুকে পড়া অজগর সুন্দরবনে অবমুক্ত

মুস্তাফা মনোয়ার: একুশে পদকপ্রাপ্ত চিত্রশিল্পীর প্রয়াণ

Update Time : ১১:৪৪:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই। দেশের বরেণ্য চিত্রশিল্পী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং একুশে পদকপ্রাপ্ত এই গুণী মানুষ দীর্ঘদিন নিউমোনিয়াজনিত জটিলতায় চিকিৎসাধীন থাকার পর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তাঁর মৃত্যুতে দেশের শিল্প-সংস্কৃতি অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোক।

গত ১৪ জুন নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন মুস্তাফা মনোয়ার। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে কয়েক দিন চিকিৎসা চললেও শেষ পর্যন্ত তাঁর অবস্থার আরও অবনতি হয়। সর্বোচ্চ চিকিৎসা প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তাঁকে আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুন  অর্থমন্ত্রী: অর্থনীতিতে প্রতিটি নাগরিকের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, ফুসফুসে মারাত্মক ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের কারণে তিনি সংকটাপন্ন অবস্থায় ছিলেন। এক পর্যায়ে ভেন্টিলেটর সাপোর্ট খুলে নেওয়ায় আশার সঞ্চার হলেও পরে আবারও শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং তাঁকে পুনরায় ভেন্টিলেটর সাপোর্টে নেওয়া হয়।

১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন মুস্তাফা মনোয়ার। তিনি ছিলেন প্রখ্যাত কবি গোলাম মোস্তফার সন্তান। দীর্ঘ কর্মজীবনে চিত্রকলা, টেলিভিশন, শিশুতোষ অনুষ্ঠান নির্মাণ এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অসামান্য অবদান রেখে তিনি দেশের অন্যতম শ্রদ্ধেয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। শিল্প ও সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন।

আরও পড়ুন  মানবতার ফেরিওয়ালা’র ৩য় বর্ষপূর্তি: চন্দনাইশে মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি ও নারীদের সেলাই মেশিন প্রদান

মুস্তাফা মনোয়ারের সৃষ্টিশীল কাজ শুধু শিল্পাঙ্গনেই সীমাবদ্ধ ছিল না। নতুন প্রজন্মের মধ্যে শিল্পচর্চা ও সৃজনশীলতা বিকাশে তাঁর অবদান আজও স্মরণীয়। তাঁর উপস্থাপনা, চিত্রকর্ম এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের শিল্প-ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে থাকবে।

তাঁর মৃত্যুতে শিল্পী, সাহিত্যিক, সংস্কৃতিকর্মী, শিক্ষাবিদ এবং অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকেই তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। গুণী এই শিল্পীর অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

আরও পড়ুন  ডেভিড হকনি: কিংবদন্তি শিল্পীর জীবনাবসান