ঢাকা ০৩:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেসিই দলকে শেষ ১৬-তে নিয়ে যাবেন

ম্যাচের আগে অনুশীলনে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি।

মেসি শেষ ১৬ মিশনে আবারও চোখ থাকবে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির দিকে। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে কোনো ম্যাচই সহজ নয়। গ্রুপ পর্বের পারফরম্যান্স যতই ভালো হোক, শেষ ষোলোর লড়াইয়ে একটি ভুল কিংবা প্রতিপক্ষের একটি অসাধারণ মুহূর্তই বদলে দিতে পারে পুরো ম্যাচের চিত্র। তাই কেপ ভার্দের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে সতর্ক থাকতেই হবে আর্জেন্টিনাকে।

এবারের বিশ্বকাপে ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকটি বড় অঘটন দেখা গেছে। শক্তিশালী দলগুলোও হোঁচট খেয়েছে নকআউট পর্বে। এ কারণেই কাগজে-কলমে ফেবারিট হওয়া মানেই জয় নিশ্চিত নয়। আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রাও জানেন, প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। কারণ নকআউটে চাপ সামলাতে না পারলে বিদায় নিতে হতে পারে এক ম্যাচেই।

এই বিশ্বকাপে কেপ ভার্দে দারুণ ফুটবল উপহার দিয়েছে। তারকাসমৃদ্ধ দল না হলেও তারা অসাধারণ শৃঙ্খলাবদ্ধ এবং আত্মবিশ্বাসী। স্পেন ও উরুগুয়ের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে যেভাবে লড়েছে, তাতে বোঝা যায় তারা শুধু অংশগ্রহণ করতে আসেনি; বরং নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে এসেছে। তাদের রক্ষণভাগ যেমন সংগঠিত, তেমনি দ্রুত পাল্টা আক্রমণেও তারা বেশ কার্যকর।

তবে আর্জেন্টিনা সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের প্রতিপক্ষ। শুধু লিওনেল মেসি-এর ওপর নির্ভর করেই নয়, পুরো দল হিসেবে অসাধারণ বোঝাপড়া এবং ম্যাচ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতাই তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। কখন আক্রমণের গতি বাড়াতে হবে, কখন বলের দখল ধরে রেখে প্রতিপক্ষকে ক্লান্ত করতে হবে কিংবা কখন ছন্দ বদলে দ্রুত আঘাত হানতে হবে—এসব কৌশলে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা বেশ দক্ষ।

আর্জেন্টিনার মাঝমাঠও তাদের অন্যতম শক্তির জায়গা। মাঝমাঠের খেলোয়াড়রা বলের দখল ধরে রেখে খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। একই সঙ্গে ডিফেন্স থেকে আক্রমণে দ্রুত রূপান্তর ঘটানোর ক্ষমতা প্রতিপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। ফুল-ব্যাকদের ওভারল্যাপ, উইঙ্গারদের গতি এবং ফরোয়ার্ডদের নিখুঁত সমন্বয় আর্জেন্টিনার আক্রমণকে আরও বৈচিত্র্যময় করে তোলে।

অন্যদিকে কেপ ভার্দের মূল ভরসা থাকবে তাদের শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ এবং দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক। তারা জানে, আর্জেন্টিনার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে দীর্ঘ সময় বলের দখল রাখা কঠিন। তাই সুযোগ পেলেই দ্রুত আক্রমণে উঠে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে চাইবে। বিশেষ করে সেট-পিস থেকেও তারা গোলের সুযোগ তৈরি করতে সক্ষম।

তবুও ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে সবচেয়ে বড় ভরসার নাম লিওনেল মেসি। বড় ম্যাচে তার অভিজ্ঞতা, দূরদর্শিতা এবং মুহূর্তের মধ্যে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার সামর্থ্য আর্জেন্টিনাকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দেয়। প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙা, গোলের সুযোগ তৈরি করা কিংবা নিজেই গোল করার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব আবারও তার কাঁধেই থাকবে। তাই মেসি শেষ ১৬ মিশনে সফল হলে আর্জেন্টিনার জয়ের সম্ভাবনাও অনেকটাই বেড়ে যাবে।

এ ছাড়া আর্জেন্টিনার বেঞ্চের গভীরতাও দলটির বড় শক্তি। ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী কোচ পরিবর্ত খেলোয়াড় নামিয়ে আক্রমণের গতি বাড়াতে বা রক্ষণ আরও শক্তিশালী করতে পারেন। নকআউট পর্বে এমন কৌশলগত সিদ্ধান্তই অনেক সময় ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে।

ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, আর্জেন্টিনা শুরুতেই গোল করতে পারলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতে পারবে। তবে সময় যত গড়াবে, গোল না এলে চাপ বাড়বে এবং কেপ ভার্দেও আত্মবিশ্বাস ফিরে পাবে। তাই প্রথম থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে পারে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

সবকিছু মিলিয়ে ফুটবলপ্রেমীরা দারুণ একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচের অপেক্ষায়। কেপ ভার্দে চমক দেখাতে চাইলেও অভিজ্ঞতা, কৌশল এবং তারকাসমৃদ্ধ স্কোয়াডের কারণে আর্জেন্টিনা কিছুটা এগিয়ে থাকবে। তবে নকআউট পর্বে কোনো হিসাবই নিশ্চিত নয়। শেষ পর্যন্ত লিওনেল মেসি-র জাদু কি আর্জেন্টিনাকে জয়ের হাসি উপহার দিয়ে শেষ ১৬ নিশ্চিত করবে, নাকি কেপ ভার্দে লিখবে নতুন রূপকথা—সেই উত্তর মিলবে মাঠের লড়াইয়ে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মেসিই দলকে শেষ ১৬-তে নিয়ে যাবেন

Update Time : ১২:০১:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

মেসি শেষ ১৬ মিশনে আবারও চোখ থাকবে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির দিকে। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে কোনো ম্যাচই সহজ নয়। গ্রুপ পর্বের পারফরম্যান্স যতই ভালো হোক, শেষ ষোলোর লড়াইয়ে একটি ভুল কিংবা প্রতিপক্ষের একটি অসাধারণ মুহূর্তই বদলে দিতে পারে পুরো ম্যাচের চিত্র। তাই কেপ ভার্দের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে সতর্ক থাকতেই হবে আর্জেন্টিনাকে।

এবারের বিশ্বকাপে ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকটি বড় অঘটন দেখা গেছে। শক্তিশালী দলগুলোও হোঁচট খেয়েছে নকআউট পর্বে। এ কারণেই কাগজে-কলমে ফেবারিট হওয়া মানেই জয় নিশ্চিত নয়। আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রাও জানেন, প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। কারণ নকআউটে চাপ সামলাতে না পারলে বিদায় নিতে হতে পারে এক ম্যাচেই।

এই বিশ্বকাপে কেপ ভার্দে দারুণ ফুটবল উপহার দিয়েছে। তারকাসমৃদ্ধ দল না হলেও তারা অসাধারণ শৃঙ্খলাবদ্ধ এবং আত্মবিশ্বাসী। স্পেন ও উরুগুয়ের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে যেভাবে লড়েছে, তাতে বোঝা যায় তারা শুধু অংশগ্রহণ করতে আসেনি; বরং নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে এসেছে। তাদের রক্ষণভাগ যেমন সংগঠিত, তেমনি দ্রুত পাল্টা আক্রমণেও তারা বেশ কার্যকর।

আরও পড়ুন  বিশ্বকাপের নতুন বিধানে প্রথম বহিষ্কার, আলোচনায় প্যারাগুয়ে অধিনায়ক

তবে আর্জেন্টিনা সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের প্রতিপক্ষ। শুধু লিওনেল মেসি-এর ওপর নির্ভর করেই নয়, পুরো দল হিসেবে অসাধারণ বোঝাপড়া এবং ম্যাচ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতাই তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। কখন আক্রমণের গতি বাড়াতে হবে, কখন বলের দখল ধরে রেখে প্রতিপক্ষকে ক্লান্ত করতে হবে কিংবা কখন ছন্দ বদলে দ্রুত আঘাত হানতে হবে—এসব কৌশলে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা বেশ দক্ষ।

আর্জেন্টিনার মাঝমাঠও তাদের অন্যতম শক্তির জায়গা। মাঝমাঠের খেলোয়াড়রা বলের দখল ধরে রেখে খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। একই সঙ্গে ডিফেন্স থেকে আক্রমণে দ্রুত রূপান্তর ঘটানোর ক্ষমতা প্রতিপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। ফুল-ব্যাকদের ওভারল্যাপ, উইঙ্গারদের গতি এবং ফরোয়ার্ডদের নিখুঁত সমন্বয় আর্জেন্টিনার আক্রমণকে আরও বৈচিত্র্যময় করে তোলে।

আরও পড়ুন  মেসির নতুন রেকর্ডের হাতছানি

অন্যদিকে কেপ ভার্দের মূল ভরসা থাকবে তাদের শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ এবং দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক। তারা জানে, আর্জেন্টিনার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে দীর্ঘ সময় বলের দখল রাখা কঠিন। তাই সুযোগ পেলেই দ্রুত আক্রমণে উঠে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে চাইবে। বিশেষ করে সেট-পিস থেকেও তারা গোলের সুযোগ তৈরি করতে সক্ষম।

তবুও ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে সবচেয়ে বড় ভরসার নাম লিওনেল মেসি। বড় ম্যাচে তার অভিজ্ঞতা, দূরদর্শিতা এবং মুহূর্তের মধ্যে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার সামর্থ্য আর্জেন্টিনাকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দেয়। প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙা, গোলের সুযোগ তৈরি করা কিংবা নিজেই গোল করার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব আবারও তার কাঁধেই থাকবে। তাই মেসি শেষ ১৬ মিশনে সফল হলে আর্জেন্টিনার জয়ের সম্ভাবনাও অনেকটাই বেড়ে যাবে।

এ ছাড়া আর্জেন্টিনার বেঞ্চের গভীরতাও দলটির বড় শক্তি। ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী কোচ পরিবর্ত খেলোয়াড় নামিয়ে আক্রমণের গতি বাড়াতে বা রক্ষণ আরও শক্তিশালী করতে পারেন। নকআউট পর্বে এমন কৌশলগত সিদ্ধান্তই অনেক সময় ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে।

আরও পড়ুন  মেসি এখনো একাকী অনুশীলনে, প্রীতি ম্যাচে খেলা নিয়ে শঙ্কা

ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, আর্জেন্টিনা শুরুতেই গোল করতে পারলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতে পারবে। তবে সময় যত গড়াবে, গোল না এলে চাপ বাড়বে এবং কেপ ভার্দেও আত্মবিশ্বাস ফিরে পাবে। তাই প্রথম থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে পারে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

সবকিছু মিলিয়ে ফুটবলপ্রেমীরা দারুণ একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচের অপেক্ষায়। কেপ ভার্দে চমক দেখাতে চাইলেও অভিজ্ঞতা, কৌশল এবং তারকাসমৃদ্ধ স্কোয়াডের কারণে আর্জেন্টিনা কিছুটা এগিয়ে থাকবে। তবে নকআউট পর্বে কোনো হিসাবই নিশ্চিত নয়। শেষ পর্যন্ত লিওনেল মেসি-র জাদু কি আর্জেন্টিনাকে জয়ের হাসি উপহার দিয়ে শেষ ১৬ নিশ্চিত করবে, নাকি কেপ ভার্দে লিখবে নতুন রূপকথা—সেই উত্তর মিলবে মাঠের লড়াইয়ে।