শিল্পী সমিতির নির্বাচন ২০২৬
শিল্পী সমিতির নির্বাচন ২০২৬ ঘিরে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র অঙ্গনে তৈরি হয়েছে উৎসবের আবহ। শুক্রবার সকালে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) প্রাঙ্গণে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। সকাল থেকেই ভোটার, প্রার্থী এবং সমর্থকদের উপস্থিতিতে পুরো এফডিসি প্রাণচঞ্চল হয়ে ওঠে। চলচ্চিত্র শিল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনকে ঘিরে সবার মধ্যেই দেখা যাচ্ছে ব্যাপক আগ্রহ ও উৎসাহ।
এবারের নির্বাচনে মোট ৫৭৩ জন শিল্পী তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। এই ভোটের মাধ্যমেই আগামী ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের জন্য বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নতুন নেতৃত্ব নির্ধারিত হবে। সকাল সাড়ে ৯টায় শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। তবে দুপুর ১টা থেকে ২টা পর্যন্ত নামাজ ও মধ্যাহ্ন বিরতির জন্য ভোটগ্রহণ এক ঘণ্টা বন্ধ থাকবে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
এবারের শিল্পী সমিতির নির্বাচন ২০২৬-এ দুটি পূর্ণাঙ্গ প্যানেলের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে। একটি প্যানেলে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ফাইট ডিরেক্টর ও অভিনেতা আরমান এবং সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন রুমানা ইসলাম মুক্তি। অন্য প্যানেলে সভাপতি পদে রয়েছেন অভিনেতা শিবা সানু, আর সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জয় চৌধুরী। এছাড়া বিভিন্ন সদস্য পদে কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থীও নির্বাচনী লড়াইয়ে অংশ নিয়েছেন।
শুধু সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নয়, কার্যনির্বাহী পরিষদের ১১টি সদস্য পদের জন্যও জমজমাট প্রতিযোগিতা চলছে। দুই প্যানেল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলিয়ে মোট ২৭ জন সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ফলে এবারের নির্বাচনকে ঘিরে শিল্পীদের আগ্রহ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ভোটকেন্দ্রে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে শিল্পীদের ভোট দিতে দেখা গেছে, যা নির্বাচনের প্রতি তাদের দায়বদ্ধতারই প্রমাণ।
নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন কামাল মো. কিবরিয়া লিপু। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই ভোট গণনা শুরু হবে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে শুক্রবার রাতেই নতুন কমিটির ফলাফল ঘোষণা করা হবে। কে হবেন আগামী দুই বছরের জন্য শিল্পী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক—সেই অপেক্ষায় এখন পুরো চলচ্চিত্র অঙ্গন।
শিল্পী সমিতির নির্বাচন ২০২৬ শুধু একটি সংগঠনের নেতৃত্ব নির্বাচন নয়, বরং দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনারও একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। নতুন নেতৃত্ব শিল্পীদের অধিকার, কল্যাণ, পেশাগত উন্নয়ন এবং চলচ্চিত্র শিল্পের বিভিন্ন সংকট মোকাবিলায় কী ধরনের উদ্যোগ নেবে, সেদিকেই এখন সবার নজর। তাই চলচ্চিত্রপ্রেমী থেকে শুরু করে শিল্পী সমাজ—সবার চোখ এখন এফডিসির ভোটকেন্দ্র এবং রাতের ফলাফল ঘোষণার দিকে।


























