খালেদা আক্তার কল্পনা আবারও জানালেন অভিনয়ের প্রতি তার অটুট ভালোবাসার কথা। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২৬–২০২৮ মেয়াদের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার পর তিনি বলেন, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত অভিনয়ের সঙ্গেই থাকতে চান। একই সঙ্গে তিনি প্রবীণ শিল্পীদের প্রতি অবহেলা ও কাজের সুযোগ কমে যাওয়ার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার বক্তব্যে উঠে আসে শিল্পীদের মর্যাদা, অধিকার এবং অভিজ্ঞতাকে যথাযথভাবে মূল্যায়নের আহ্বান।
শুক্রবার (৩ জুলাই) বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) প্রাঙ্গণে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন এই বর্ষীয়ান অভিনেত্রী। ভোট শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, শিল্পী সমিতি শুধু একটি সংগঠন নয়; এটি শিল্পীদের অধিকার, কল্যাণ ও উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। তাই তিনি এমন নেতৃত্ব দেখতে চান, যারা ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে শিল্পীদের জন্য আন্তরিকভাবে কাজ করবেন।
নির্বাচন প্রসঙ্গে খালেদা আক্তার কল্পনা বলেন, তিনি একজন শিল্পী হিসেবে সংগঠনের দায়িত্ববোধ থেকেই ভোট দিতে এসেছেন। তার প্রত্যাশা, যোগ্য ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব নির্বাচিত হবে, যারা সংগঠনের উন্নয়নের পাশাপাশি শিল্পীদের পেশাগত সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তার মতে, একটি শক্তিশালী শিল্পী সংগঠন পুরো চলচ্চিত্র অঙ্গনের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।
আলোচনার একপর্যায়ে প্রবীণ শিল্পীদের অবমূল্যায়নের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেন। তার ভাষায়, অনেকেই মনে করেন বয়স বাড়লে শিল্পীদের শারীরিক বা মানসিক সক্ষমতা কমে যায়। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। তিনি বলেন, একজন মানুষ যদি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারেন, কথা বলতে পারেন এবং দৈনন্দিন কাজ করতে পারেন, তাহলে অভিনয় করার সক্ষমতাও তার থাকা স্বাভাবিক। শুধু বয়সের কারণে একজন শিল্পীকে কাজ থেকে দূরে রাখা উচিত নয়।
তিনি আরও বলেন, প্রবীণ শিল্পীদের অভিজ্ঞতা চলচ্চিত্রের জন্য একটি বড় সম্পদ। অথচ সেই অভিজ্ঞতাকে অনেক সময় যথাযথভাবে কাজে লাগানো হয় না। খালেদা আক্তার কল্পনা মনে করেন, ভালো গল্প ও চরিত্রে প্রবীণ শিল্পীদের আরও বেশি সুযোগ দেওয়া হলে চলচ্চিত্র আরও সমৃদ্ধ হবে। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মও তাদের কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার সুযোগ পাবে।
শেষে নিজের অভিনয়জীবন নিয়ে আবেগঘন মন্তব্য করেন এই প্রবীণ অভিনেত্রী। তিনি বলেন, অভিনয় তার জীবনের সবচেয়ে বড় ভালোবাসা এবং তিনি শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত থাকতে চান। পাশাপাশি চলচ্চিত্র অঙ্গনের সংশ্লিষ্টদের প্রতি তার আহ্বান, প্রবীণ শিল্পীদের বয়স নয়, তাদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে মূল্যায়ন করে কাজের সুযোগ দেওয়া হোক। এতে শিল্পী যেমন সম্মান পাবেন, তেমনি সমৃদ্ধ হবে দেশের চলচ্চিত্র শিল্পও।



























