সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রোস্টেট ক্যানসার আরও ছড়িয়ে পড়ার খবরের মধ্যেই এবার তাঁর স্ত্রী জিল বাইডেনের বক্তব্য সামনে এসেছে। একই সময়ে বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাস্থ্য নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠছে।
জো বাইডেন ২০২৫ সালের মে মাসে জানিয়েছিলেন, তিনি প্রোস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত। তখনই জানা যায়, ক্যানসার তাঁর হাড়েও ছড়িয়ে পড়েছে এবং এটি বেশ আগ্রাসী ধরনের। সম্প্রতি বাইডেনের ছেলে হান্টার বাইডেন তাঁর বাবার ক্যানসার আরও ছড়িয়ে পড়ার কথা জানিয়েছেন।
বাইডেনের স্বাস্থ্য নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি ট্রাম্পের শারীরিক অবস্থাও এখন যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। ৮০ বছর বয়সী ট্রাম্পের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে তাঁর চিকিৎসক তাঁকে চমৎকার স্বাস্থ্যের অধিকারী বলে জানিয়েছিলেন। তবে প্রকাশ্যে দেখা যাওয়া কিছু শারীরিক পরিবর্তন নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণধর্মী নিবন্ধে জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন ও সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. জোনাথন রেইনার ট্রাম্পের স্বাস্থ্য নিয়ে কিছু প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন, ট্রাম্প তাঁর রোগী নন; বরং প্রকাশ্যে আসা ছবি, ভিডিও ও চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতেই তিনি এসব পর্যবেক্ষণ করেছেন।
রেইনারের নজরে এসেছে ট্রাম্পের হাতে বারবার কালশিটে পড়া, পা ফুলে যাওয়ার মতো বিষয়। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাঁকে ক্লান্ত বা ঘুমঘুম অবস্থায় দেখা গেছে বলেও আলোচনা রয়েছে। এসব লক্ষণ নিয়ে প্রেসিডেন্টের স্বাস্থ্য সম্পর্কে আরও স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন তিনি।
তবে বিশেষজ্ঞের বক্তব্যের অর্থ এই নয় যে ট্রাম্প কোনো নির্দিষ্ট রোগে আক্রান্ত—এমন প্রমাণ পাওয়া গেছে। বরং তাঁর প্রশ্নের মূল বিষয় হলো, মার্কিন প্রেসিডেন্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে থাকা ব্যক্তির দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা সম্পর্কে জনগণের কতটা তথ্য জানার অধিকার রয়েছে।
রেইনার মনে করেন, প্রেসিডেন্টের সব চিকিৎসা তথ্য প্রকাশ করা প্রয়োজন নেই। জাতীয় নিরাপত্তা কিংবা ব্যক্তিগত গোপনীয়তার কারণে কিছু তথ্য গোপন রাখার প্রয়োজন হতে পারে। তবে একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট শারীরিক ও মানসিকভাবে দায়িত্ব পালনে সক্ষম কি না, সে বিষয়ে একটি স্বাধীন মূল্যায়ন ব্যবস্থা থাকা উচিত।
এ প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ২৫তম সংশোধনীর আওতায় একটি স্বাধীন প্যানেল গঠনের প্রস্তাবও আলোচনায় এসেছে। এমন কোনো ব্যবস্থা থাকলে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা নিয়ে নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব হতে পারে।
অন্যদিকে জো বাইডেনের প্রেসিডেন্ট থাকার সময়ও তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছিল। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাঁকে তন্দ্রাচ্ছন্ন হতে কিংবা চলার সময় হোঁচট খেতে দেখা গেছে। তবে সে সময় তাঁর চিকিৎসকেরা গুরুতর কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকির তথ্য প্রকাশ করেননি। পরে প্রোস্টেট ক্যানসারের বিষয়টি সামনে আসে এবং তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে শারীরিক অবস্থার অবনতির কথাও জানানো হয়।
সব মিলিয়ে দুই প্রবীণ মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ঘিরে স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্যের স্বচ্ছতা নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত চিকিৎসা-গোপনীয়তা এবং একজন রাষ্ট্রপ্রধানের শারীরিক সক্ষমতা সম্পর্কে জনগণের জানার অধিকারের মধ্যে ভারসাম্য কোথায় থাকা উচিত—এখন সেই প্রশ্নই সামনে।





























