ক্যানসারের চিকিৎসা শেষ হওয়ার পর রোগ নিয়ন্ত্রণে এসেছে কি না, তা শুধু শারীরিকভাবে ভালো লাগার ওপর নির্ভর করে বোঝা যায় না। অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসার পর উপসর্গ কমে গেলেও শরীরে ক্যানসার কোষ থাকতে পারে। আবার নিয়মিত পরীক্ষায় রোগের কোনো দৃশ্যমান প্রমাণ না পাওয়া গেলেও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী দীর্ঘদিন ফলোআপ প্রয়োজন হতে পারে।

ক্যানসার নিয়ন্ত্রণে আছে কি না জানতে চিকিৎসকেরা রোগের ধরন ও অবস্থার ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন পরীক্ষা করেন। রক্ত পরীক্ষা, ইমেজিং স্ক্যান, বায়োপসি বা অন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষার মাধ্যমে চিকিৎসার ফলাফল মূল্যায়ন করা হয়। এসব পরীক্ষায় ক্যানসারের আকার কমেছে কি না, নতুন কোথাও ছড়িয়েছে কি না বা চিকিৎসার পর রোগের কোনো প্রমাণ আছে কি না এসব বিষয় দেখা হয়।

চিকিৎসার পর ক্যানসার সম্পূর্ণ চলে গেছে কি না, সেটিও সবসময় একবারের পরীক্ষায় নিশ্চিত করা যায় না। চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘রেমিশন’ বলতে অনেক সময় রোগের লক্ষণ বা পরীক্ষায় ক্যানসারের প্রমাণ কমে যাওয়া বা না থাকাকে বোঝানো হয়। তবে রেমিশন এবং সম্পূর্ণ নিরাময় একই বিষয় নয়। তাই চিকিৎসা শেষ হলেও নির্দিষ্ট সময় পরপর পরীক্ষা ও চিকিৎসকের ফলোআপ গুরুত্বপূর্ণ।

কেমোথেরাপি ছাড়া ক্যানসার থেকে বাঁচা সম্ভব কি না এর উত্তর ক্যানসারের ধরন, পর্যায়, রোগীর শারীরিক অবস্থা এবং ক্যানসার কোথায় হয়েছে তার ওপর নির্ভর করে। সব ক্যানসারের চিকিৎসায় কেমোথেরাপি প্রয়োজন হয় না। কিছু ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার, রেডিওথেরাপি, হরমোন থেরাপি, টার্গেটেড থেরাপি বা ইমিউনোথেরাপির মতো চিকিৎসা ব্যবহার করা হয়।

কখনো একটি চিকিৎসা একাই যথেষ্ট হতে পারে, আবার অনেক রোগীর ক্ষেত্রে একাধিক পদ্ধতি একসঙ্গে প্রয়োজন হয়। ক্যানসারের ধরন ও পর্যায় অনুযায়ী চিকিৎসকেরা কোন পদ্ধতি সবচেয়ে উপযুক্ত হবে তা নির্ধারণ করেন। তাই অন্য কারও চিকিৎসা দেখে নিজের ক্ষেত্রে কেমোথেরাপি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া নিরাপদ নয়।

চিকিৎসা চলাকালে শরীরে নতুন কোনো উপসর্গ দেখা দিলে বা পুরোনো সমস্যা ফিরে এলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা প্রয়োজন। একইভাবে ক্যানসার নিয়ন্ত্রণে এসেছে মনে হলেও নিজের ইচ্ছায় ওষুধ বন্ধ করা বা ফলোআপ পরীক্ষা বাদ দেওয়া উচিত নয়।

ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো রোগের ধরন ও পর্যায় নির্ধারণ করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়া। কারণ ক্যানসারের ক্ষেত্রে ‘একটি চিকিৎসা সবার জন্য’ এমন কোনো নিয়ম নেই। সঠিক পরীক্ষা ও ব্যক্তিভেদে নির্ধারিত চিকিৎসাই রোগ নিয়ন্ত্রণ ও দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার সম্ভাবনা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।