উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমাতে প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় সামান্য পরিবর্তনও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। নতুন এক গবেষণা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নিয়মিত বাদাম খাওয়ার সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ হওয়ার তুলনামূলক কম ঝুঁকির সম্পর্ক রয়েছে। গবেষণায় প্রতিদিন প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ গ্রাম, অর্থাৎ এক মুঠোর মতো বাদাম খাওয়াকে সম্ভাব্য উপকারী পরিমাণ হিসেবে দেখা হয়েছে। তবে গবেষণাটি বাদাম সরাসরি উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধ করে-এমন প্রমাণ দেয়নি। বরং বাদাম খাওয়ার অভ্যাস ও পরবর্তীতে উচ্চ রক্তচাপ হওয়ার ঝুঁকির মধ্যে একটি সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

গবেষকেরা এ বিষয়ে আগের আটটি গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। এসব গবেষণায় ২০ হাজারের বেশি উচ্চ রক্তচাপের ঘটনা অন্তর্ভুক্ত ছিল। ফলাফলে দেখা যায়, যারা সবচেয়ে বেশি বাদাম খেতেন, তাদের উচ্চ রক্তচাপের আপেক্ষিক ঝুঁকি সবচেয়ে কম বাদাম খাওয়া ব্যক্তিদের তুলনায় প্রায় ১৬ শতাংশ কম ছিল। প্রতিদিন প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ গ্রাম বাদাম খাওয়ার ক্ষেত্রে ঝুঁকি প্রায় ২৬ শতাংশ কম হওয়ার সম্পর্ক পাওয়া যায়। তবে ২৫ থেকে ৩৫ গ্রামের পর বাড়তি বাদাম খেলে উপকার আরও বাড়ে-এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

বাদামে থাকা বেশ কিছু পুষ্টি উপাদান এই সম্পর্কের সম্ভাব্য কারণ হতে পারে। বিশেষ করে ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম এবং স্বাস্থ্যকর অসম্পৃক্ত চর্বি হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বাদামে থাকা এল-আর্জিনিন নামের একটি অ্যামাইনো অ্যাসিড শরীরে নাইট্রিক অক্সাইড তৈরিতে ভূমিকা রাখে। নাইট্রিক অক্সাইড রক্তনালিকে শিথিল ও প্রশস্ত হতে সাহায্য করে। এর ফলে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করতে পারে। বাদামে থাকা ফাইবারও গুরুত্বপূর্ণ। কিছু বাদামে দ্রবণীয় ফাইবার থাকে, যা পরিপাকতন্ত্রে কোলেস্টেরলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে শরীর থেকে তা বের হতে সহায়তা করতে পারে।

সব বাদাম নিয়ে একই ধরনের গবেষণার ফল পাওয়া যায়নি। নতুন বিশ্লেষণটি আলাদা করে কোন ধরনের বাদাম বেশি কার্যকর, তা নির্ধারণ করেনি। তবে আগের কিছু গবেষণায় পেস্তা ও আখরোটের সম্ভাব্য হৃদ্‌স্বাস্থ্য উপকারিতা নিয়ে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। বিশেষ করে পেস্তা খাওয়ার সঙ্গে সিস্টোলিক ও ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ কমার সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা রয়েছে। আখরোট নিয়েও কিছু গবেষণায় নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে রক্তচাপের ওপর সম্ভাব্য উপকারের কথা উঠে এসেছে। তাই খাবারের তালিকায় বিভিন্ন ধরনের বাদাম পরিমাণমতো রাখা যেতে পারে।

তবে বাদাম খেলেই উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা থেকে পুরোপুরি সুরক্ষা পাওয়া যাবে-এমন ধারণা ঠিক নয়। বাদাম ক্যালরিতে তুলনামূলক বেশি হওয়ায় অতিরিক্ত খেলে ওজন বাড়ার ঝুঁকি থাকতে পারে। বিশেষ করে অতিরিক্ত লবণযুক্ত বা চিনি মেশানো বাদাম নিয়মিত খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা দরকার। তাই সম্ভব হলে কম লবণযুক্ত বা লবণহীন বাদাম বেছে নেওয়া ভালো। পরিমাণের দিক থেকেও একবারে বড় পরিমাণ না খেয়ে প্রায় এক মুঠো বাদাম যথেষ্ট হতে পারে। ব্যক্তিভেদে প্রয়োজন ভিন্ন হতে পারে, বিশেষ করে যাদের ওজন নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

সবশেষে, বাদামকে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ওষুধের বিকল্প হিসেবে দেখা উচিত নয়। স্বাস্থ্যকর খাবার, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, পর্যাপ্ত ঘুম, ধূমপান এড়িয়ে চলা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ-সব মিলিয়েই হৃদ্‌স্বাস্থ্য ভালো রাখার চেষ্টা করতে হয়। যাদের উচ্চ রক্তচাপ ইতিমধ্যে রয়েছে, তারা চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধ বা চিকিৎসা পরিকল্পনা নিজের মতো করে বন্ধ করবেন না। প্রতিদিনের খাবারে এক মুঠো বাদাম যোগ করা স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের একটি অংশ হতে পারে, তবে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সামগ্রিক জীবনযাপনই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।