টমেটোর উপকারিতা নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে লিভারের স্বাস্থ্যের কারণে। ২০২৬ সালে Nutrients জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত টমেটো খাওয়ার সঙ্গে লিভারে জমে থাকা চর্বি কমার একটি সম্পর্ক থাকতে পারে। গবেষণায় লিভারে চর্বি জমার সমস্যায় থাকা ৭৯ জন প্রাপ্তবয়স্ককে ছয় সপ্তাহ পর্যবেক্ষণ করা হয়। তাদের একদল প্রতিদিন কাঁচা টমেটো ও টমেটোর সস খেয়েছেন। ফলাফলে ওই দলের লিভারে চর্বি জমার সূচকে তুলনামূলক বেশি উন্নতি দেখা যায়।
টমেটোতে থাকা লাইকোপিন এই ফলাফলের পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে বলে গবেষকরা মনে করছেন। লাইকোপিন এক ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা টমেটোকে লাল রং দেয়। এটি শরীরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস ও প্রদাহের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে। তবে শুধু লাইকোপিনের কারণেই লিভারের চর্বি কমেছে এমন নিশ্চিত সিদ্ধান্তে যাওয়ার সুযোগ নেই। গবেষণায় টমেটোর অন্যান্য উপকারী উপাদানও সম্ভাব্য ভূমিকা রাখতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
গবেষণার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, টমেটো খাওয়ার পর অংশগ্রহণকারীদের ওজন বা শরীরের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিপাকীয় সূচকে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি। অর্থাৎ টমেটো খাওয়ার সঙ্গে লিভারে চর্বি কমার যে সম্পর্ক পাওয়া গেছে, সেটি শুধু ওজন কমার কারণে হয়েছে এমনটা বলা যাচ্ছে না। তবে গবেষণাটি মাত্র ছয় সপ্তাহের এবং অংশগ্রহণকারীর সংখ্যাও তুলনামূলক কম। তাই এই ফলাফলকে আরও বড় গবেষণার মাধ্যমে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
দৈনন্দিন খাবারে টমেটো যোগ করাও বেশ সহজ। সালাদ, রান্না, স্যুপ কিংবা সসের মাধ্যমে এটি খাওয়া যায়। টমেটো কাঁচা ও রান্না দুইভাবেই খাওয়া সম্ভব। গবেষণায় কাঁচা টমেটোর পাশাপাশি টমেটোর সসও ব্যবহার করা হয়েছিল। লাইকোপিন চর্বিতে দ্রবণীয় হওয়ায় কিছু স্বাস্থ্যকর চর্বির সঙ্গে খেলে এর শোষণ বাড়তে পারে বলেও গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে টমেটোর উপকারিতা নিয়ে কথা বললেও এটিকে ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসা হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। লিভারে চর্বি জমার সমস্যা থাকলে ওজন নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম এবং সুষম খাবার গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত চিনি, অস্বাস্থ্যকর চর্বি ও অতিরিক্ত ক্যালরিযুক্ত খাবার কমানোও প্রয়োজন হতে পারে। টমেটো স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকার একটি অংশ হতে পারে, কিন্তু কোনো একটি খাবার একাই লিভারের সমস্যা দূর করতে পারে না।
লিভারের সমস্যা অনেক সময় স্পষ্ট উপসর্গ ছাড়াই থাকতে পারে। তাই দীর্ঘদিনের ওজন বৃদ্ধি, ডায়াবেটিস, অতিরিক্ত ওজন বা অন্য কোনো ঝুঁকি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। নতুন গবেষণাটি টমেটো ও লিভারের স্বাস্থ্যের মধ্যে সম্ভাবনাময় সম্পর্কের ইঙ্গিত দিয়েছে, তবে এটিকে চূড়ান্ত চিকিৎসা-পরামর্শ হিসেবে দেখা উচিত নয়।


মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন