নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার সুন্দলপুর-৪ কূপে গ্যাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)। প্রাথমিক হিসাবে নতুন এই কূপ থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫০ থেকে ৭০ লাখ ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন করা সম্ভব হতে পারে। তবে কূপটিতে মোট কত গ্যাস মজুত রয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হয়নি। চলমান ড্রিল স্টেম টেস্ট বা ডিএসটি শেষ হওয়ার পর মজুত ও উৎপাদন সক্ষমতার চূড়ান্ত ধারণা পাওয়া যাবে।

সেনবাগ উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের বড় চারিগাঁও গ্রামে অবস্থিত সুন্দলপুর-৪ মূল্যায়ন কাম উন্নয়ন কূপে মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর খনন শেষে গ্যাসের উপস্থিতি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়। কূপে স্থাপন করা পাইপের মুখে গ্যাস জ্বালানোর মাধ্যমে সফলভাবে এ পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। চলতি বছরের জুলাইয়ের শেষ দিকে বাপেক্সের তত্ত্বাবধানে কূপটির খননকাজ শুরু হয়েছিল। এরপর প্রায় আড়াই মাসের অনুসন্ধান ও খনন শেষে আশাব্যঞ্জক ফল মিলল।

বাপেক্স সূত্রে জানা গেছে, ডিরেকশনাল ওয়েল পদ্ধতি এবং মেজারিং হোয়াইল ড্রিলিং বা এমডব্লিউডি প্রযুক্তি ব্যবহার করে কূপটি মোট ১ হাজার ৫৭৮ মিটার পর্যন্ত খনন করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৪২০ থেকে ১ হাজার ৪৬০ মিটার গভীরতার স্তরে গ্যাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এই স্তর থেকেই বাণিজ্যিকভাবে গ্যাস উৎপাদনের সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে। ডিএসটির মাধ্যমে গ্যাসের চাপ, প্রবাহের হার এবং কূপটির দীর্ঘমেয়াদি উৎপাদন সক্ষমতা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে।

প্রকল্প পরিচালক মো. মোজাম্মেল হক জানিয়েছেন, ডিএসটি সম্পন্ন হতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরই কূপটিতে মোট কত পরিমাণ গ্যাস রয়েছে এবং প্রতিদিন কতটা নিরাপদভাবে উত্তোলন করা যাবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে। এখন পর্যন্ত প্রাথমিক হিসাব বলছে, কূপটি থেকে দৈনিক ৫ থেকে ৭ মিলিয়ন ঘনফুট অর্থাৎ ৫০ থেকে ৭০ লাখ ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যেতে পারে। পরিকল্পনা অনুযায়ী উৎপাদনযোগ্য গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা হবে।

সুন্দলপুর-৪ কূপটি প্রশাসনিকভাবে সেনবাগ উপজেলায় হলেও এটি সুন্দলপুর গ্যাসক্ষেত্রের একই ভূগর্ভস্থ কাঠামোর অংশ। এর আগে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সিরাজপুর এলাকায় সুন্দলপুর-১, সুন্দলপুর-২ ও সুন্দলপুর-৩ কূপ খনন করা হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় নতুন কূপটির নাম রাখা হয়েছে সুন্দলপুর-৪। নতুন আবিষ্কারটি তাই পুরো সুন্দলপুর গ্যাসক্ষেত্রের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা মূল্যায়নের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর প্রচেষ্টার মধ্যে সুন্দলপুর-৪ কূপে গ্যাস পাওয়ার খবরটি ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এখনই মোট মজুতের কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা ঘোষণা করেনি বাপেক্স। ডিএসটি এবং পরবর্তী উৎপাদন পরীক্ষার ফলের ওপর নির্ভর করবে কূপটি কত দিন এবং কী পরিমাণ গ্যাস জাতীয় গ্রিডে দিতে পারবে। পরীক্ষায় প্রত্যাশিত ফল মিললে প্রতিদিন সর্বোচ্চ প্রায় ৭০ লাখ ঘনফুট নতুন গ্যাস জাতীয় সরবরাহ ব্যবস্থায় যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।