ঢাকা ০২:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিলের সম্ভাব্য একাদশ, নেইমার ছাড়াই চমক Logo বিশ্বকাপে ভিএআরের নতুন ইতিহাস, ‘ভুল পরিচয়’ শনাক্তে নজির Logo ভিনিসিয়ুসের হুঁশিয়ারি: বিশ্বকাপ জিততেই এসেছে ব্রাজিল Logo পার্ট-টাইম চাকরি: পড়াশোনার পাশাপাশি আয়ের ৫ জনপ্রিয় উপায় Logo টাকা সঞ্চয়ের টিপস: পকেট খালি হলেও গড়ুন সঞ্চয়ের অভ্যাস Logo হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ, আগেই শরীর দেয় ৩০টি সতর্ক সংকেত Logo নেইমার কি খেলবেন ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচে? জানালেন আনচেলত্তি Logo ভুঁড়ি বাড়লে পুরুষদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ে, জানুন কারণ ও প্রতিকার Logo বিশ্বকাপে প্যারাগুয়েকে উড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক ৪ গোল Logo ঘরোয়া উপায়ে দাগহীন ও উজ্জ্বল ত্বক পাওয়ার উপায়

পদ্মা সেতুসহ তিন প্রকল্পে দুর্নীতির তদন্ত চলছে: সেতুমন্ত্রী

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৭:১৬:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫৩০

চিত্রঃ তিন প্রকল্পে দুর্নীতির তদন্ত চলছে

দেশের বড় তিন অবকাঠামো প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্প, কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বহুলেন সড়ক টানেল নির্মাণ প্রকল্প এবং ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্পে দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। রবিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে তিনি এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। প্রশ্নোত্তর পর্বে মন্ত্রীর লিখিত উত্তর টেবিলে উপস্থাপন করা হয়।

সেতুমন্ত্রী বলেন, গত ১৬ বছরে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সেতু বিভাগের অধীনে কয়েকটি বড় প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে তিনটি প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধি, বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এবং অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে বর্তমানে তদন্ত চলছে। এসব প্রকল্প দেশের যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ হলেও ব্যয় ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তিনি জানান, পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্পের প্রাথমিক প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ১০ হাজার ১৬১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। পরে প্রকল্পটির ব্যয় চার দফায় বৃদ্ধি করা হয়। ব্যয় সংশোধনের কারণ, কাজের পরিধি এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা রয়েছে।

পদ্মা সেতু দেশের অন্যতম বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনে এটি বড় ভূমিকা রাখছে। তবে এত বড় প্রকল্পে ব্যয় কয়েক দফা বাড়ানোয় এখন তদন্তের আওতায় এসেছে এর আর্থিক ব্যবস্থাপনা। মন্ত্রী আরও জানান, কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বহুলেন সড়ক টানেল নির্মাণ প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ৮ হাজার ৪৪৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। পরে এ প্রকল্পের ব্যয় দুইবার বাড়ানো হয়। প্রকল্পটির সময়সীমা, ব্যয় বৃদ্ধি এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়েও তদন্ত চলছে।

চট্টগ্রামের যানজট কমানো এবং বন্দরকেন্দ্রিক যোগাযোগ সহজ করতে কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ করা হয়। এটি দেশের প্রথম নদীর তলদেশে সড়ক টানেল হিসেবে পরিচিত। কিন্তু ব্যয় বৃদ্ধি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় প্রকল্পটি এখন আলোচনায় রয়েছে। ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্প সম্পর্কেও সংসদে তথ্য দেন সেতুমন্ত্রী। তিনি জানান, প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৬ হাজার ৯০১ কোটি ৩২ লাখ টাকা। পরে একবার ব্যয় বৃদ্ধি করা হয়। রাজধানী ঢাকা ও শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার মধ্যে দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এই প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল।

যানজট নিরসন, পণ্য পরিবহন সহজ করা এবং শিল্পখাতকে সহায়তা দেওয়াই ছিল মূল লক্ষ্য। তবে ব্যয় বৃদ্ধি ও বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় এটিও তদন্তের আওতায় এসেছে। মন্ত্রী বলেন, প্রকল্পভিত্তিক অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন প্রয়োজনীয় তদন্ত করছে। তদন্ত শেষে কমিশন তাদের আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে। সরকারও এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিচ্ছে বলে তিনি জানান। সংসদে দেওয়া এই বক্তব্যের পর বড় প্রকল্পগুলোর ব্যয় ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের বড় অবকাঠামো প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হলে পরিকল্পনা, ব্যয় অনুমোদন, বাস্তবায়ন এবং তদারকিতে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

তারা বলেন, প্রকল্পের ব্যয় একাধিকবার বাড়লে জনগণের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়। তাই ব্যয় বৃদ্ধির যৌক্তিকতা, দরপত্র প্রক্রিয়া, কাজের মান এবং সময়সীমা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করা উচিত। এতে জবাবদিহি বাড়বে এবং ভবিষ্যৎ প্রকল্পে শৃঙ্খলা আসবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংসদে সেতুমন্ত্রীর এই স্বীকারোক্তি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। কারণ বড় প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় ছিল। এখন আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্তের তথ্য সামনে আসায় বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে।

দেশের উন্নয়ন প্রকল্পে জনগণের অর্থ ব্যয় হয় উল্লেখ করে তারা বলেন, প্রতিটি টাকার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তাই তদন্তের ফলাফল দ্রুত প্রকাশ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। পদ্মা সেতুসহ তিন প্রকল্পে দুর্নীতির তদন্ত চলছে—সেতুমন্ত্রীর এমন বক্তব্যে এখন সবার নজর দুদকের তদন্ত অগ্রগতির দিকে। তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে এবং ভবিষ্যতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিলের সম্ভাব্য একাদশ, নেইমার ছাড়াই চমক

পদ্মা সেতুসহ তিন প্রকল্পে দুর্নীতির তদন্ত চলছে: সেতুমন্ত্রী

Update Time : ০৭:১৬:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

দেশের বড় তিন অবকাঠামো প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্প, কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বহুলেন সড়ক টানেল নির্মাণ প্রকল্প এবং ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্পে দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। রবিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে তিনি এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। প্রশ্নোত্তর পর্বে মন্ত্রীর লিখিত উত্তর টেবিলে উপস্থাপন করা হয়।

সেতুমন্ত্রী বলেন, গত ১৬ বছরে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সেতু বিভাগের অধীনে কয়েকটি বড় প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে তিনটি প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধি, বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এবং অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে বর্তমানে তদন্ত চলছে। এসব প্রকল্প দেশের যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ হলেও ব্যয় ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তিনি জানান, পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্পের প্রাথমিক প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ১০ হাজার ১৬১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। পরে প্রকল্পটির ব্যয় চার দফায় বৃদ্ধি করা হয়। ব্যয় সংশোধনের কারণ, কাজের পরিধি এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা রয়েছে।

পদ্মা সেতু দেশের অন্যতম বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনে এটি বড় ভূমিকা রাখছে। তবে এত বড় প্রকল্পে ব্যয় কয়েক দফা বাড়ানোয় এখন তদন্তের আওতায় এসেছে এর আর্থিক ব্যবস্থাপনা। মন্ত্রী আরও জানান, কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বহুলেন সড়ক টানেল নির্মাণ প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ৮ হাজার ৪৪৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। পরে এ প্রকল্পের ব্যয় দুইবার বাড়ানো হয়। প্রকল্পটির সময়সীমা, ব্যয় বৃদ্ধি এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়েও তদন্ত চলছে।

চট্টগ্রামের যানজট কমানো এবং বন্দরকেন্দ্রিক যোগাযোগ সহজ করতে কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ করা হয়। এটি দেশের প্রথম নদীর তলদেশে সড়ক টানেল হিসেবে পরিচিত। কিন্তু ব্যয় বৃদ্ধি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় প্রকল্পটি এখন আলোচনায় রয়েছে। ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্প সম্পর্কেও সংসদে তথ্য দেন সেতুমন্ত্রী। তিনি জানান, প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৬ হাজার ৯০১ কোটি ৩২ লাখ টাকা। পরে একবার ব্যয় বৃদ্ধি করা হয়। রাজধানী ঢাকা ও শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার মধ্যে দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এই প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল।

যানজট নিরসন, পণ্য পরিবহন সহজ করা এবং শিল্পখাতকে সহায়তা দেওয়াই ছিল মূল লক্ষ্য। তবে ব্যয় বৃদ্ধি ও বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় এটিও তদন্তের আওতায় এসেছে। মন্ত্রী বলেন, প্রকল্পভিত্তিক অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন প্রয়োজনীয় তদন্ত করছে। তদন্ত শেষে কমিশন তাদের আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে। সরকারও এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিচ্ছে বলে তিনি জানান। সংসদে দেওয়া এই বক্তব্যের পর বড় প্রকল্পগুলোর ব্যয় ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের বড় অবকাঠামো প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হলে পরিকল্পনা, ব্যয় অনুমোদন, বাস্তবায়ন এবং তদারকিতে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

তারা বলেন, প্রকল্পের ব্যয় একাধিকবার বাড়লে জনগণের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়। তাই ব্যয় বৃদ্ধির যৌক্তিকতা, দরপত্র প্রক্রিয়া, কাজের মান এবং সময়সীমা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করা উচিত। এতে জবাবদিহি বাড়বে এবং ভবিষ্যৎ প্রকল্পে শৃঙ্খলা আসবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংসদে সেতুমন্ত্রীর এই স্বীকারোক্তি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। কারণ বড় প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় ছিল। এখন আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্তের তথ্য সামনে আসায় বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে।

দেশের উন্নয়ন প্রকল্পে জনগণের অর্থ ব্যয় হয় উল্লেখ করে তারা বলেন, প্রতিটি টাকার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তাই তদন্তের ফলাফল দ্রুত প্রকাশ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। পদ্মা সেতুসহ তিন প্রকল্পে দুর্নীতির তদন্ত চলছে—সেতুমন্ত্রীর এমন বক্তব্যে এখন সবার নজর দুদকের তদন্ত অগ্রগতির দিকে। তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে এবং ভবিষ্যতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।