শুধু স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবাদাতা হিসেবে নয়, যুক্তরাষ্ট্রের বড় মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটর হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করতে চায় ইলন মাস্কের মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স। এ লক্ষ্যে গ্রেইন ম্যানেজমেন্টের দেশজুড়ে থাকা ৮০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের স্পেকট্রাম লাইসেন্সের পুরো পোর্টফোলিও অধিগ্রহণে সম্মত হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে চুক্তিটি কার্যকর করতে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশনের (এফসিসি) অনুমোদন প্রয়োজন।

প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম এনগ্যাজেটের ৯ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রস্তাবিত চুক্তির আওতায় সর্বোচ্চ ১৪ মেগাহার্টজ জোড়াবদ্ধ স্পেকট্রাম অন্তর্ভুক্ত থাকবে। স্পেসএক্সের লক্ষ্য, এই স্পেকট্রাম ব্যবহার করে তাদের স্টারলিংক মোবাইল সেবার নেটওয়ার্ক সক্ষমতা বাড়ানো এবং প্রচলিত মোবাইল অপারেটরদের সঙ্গে প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করা।

স্পেসএক্সের ভাষ্য অনুযায়ী, ৮০০ মেগাহার্টজের মতো কম ফ্রিকোয়েন্সির স্পেকট্রাম মোবাইল সংকেতকে আরও কার্যকরভাবে ছড়িয়ে দিতে সহায়তা করতে পারে। বিশেষ করে ভবনের ভেতরে এবং বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার আড়ালে সংযোগ পৌঁছানোর ক্ষেত্রে এ ধরনের ফ্রিকোয়েন্সি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে স্টারলিংক মোবাইলের সংযোগের নির্ভরযোগ্যতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

এর আগে ইকোস্টারের কাছ থেকেও স্পেকট্রাম লাইসেন্স অধিগ্রহণ করেছিল স্পেসএক্স। নতুন ৮০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ড যুক্ত হলে স্যাটেলাইট ও স্থলভিত্তিক নেটওয়ার্ক প্রযুক্তির সমন্বয়ে স্টারলিংক মোবাইলের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। এর মাধ্যমে জনবহুল শহরের পাশাপাশি প্রত্যন্ত অঞ্চলেও মোবাইল সংযোগ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে তারা।

এই উদ্যোগে গ্রাহকদের জন্যও সম্ভাব্য সুবিধা রয়েছে। অনেক আধুনিক স্মার্টফোনে ৮০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ড সমর্থিত হলেও সব ফোনে একই নেটওয়ার্ক সুবিধা পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। সেবা ব্যবহারের ক্ষেত্রে ফোনের নির্দিষ্ট ব্যান্ড সমর্থন, নেটওয়ার্ক কনফিগারেশন এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন গুরুত্বপূর্ণ হবে।

এদিকে, স্টারলিংক মোবাইলের সক্ষমতা বাড়াতে দ্বিতীয় প্রজন্মের (জেন-২) স্যাটেলাইট নক্ষত্রমণ্ডল তৈরির কাজও এগিয়ে নিচ্ছে স্পেসএক্স। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের এফসিসি প্রতিষ্ঠানটিকে আরও ১৫ হাজার জেন-২ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের অনুমোদন দিয়েছে। স্পেসএক্সের দাবি, নতুন স্যাটেলাইটগুলো বর্তমান প্রজন্মের তুলনায় ১০০ গুণেরও বেশি ব্যান্ডউইথ সরবরাহ করতে সক্ষম হবে। তবে বাস্তবে সেবার গতি ও বিস্তৃতি নির্ভর করবে স্যাটেলাইট স্থাপন, স্পেকট্রাম ব্যবহার এবং নেটওয়ার্ক উন্নয়নের ওপর।