ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও ড্রোন সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে অভিযোগ তুলেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কও রুবিও। তিনি দাবি করেছেন, তেহরান বিপুল পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ভাণ্ডার গড়ে তুলছিল, যা ভবিষ্যতে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচিকে সুরক্ষা দেওয়ার কৌশলের অংশ ছিল। তবে ইরান বরাবরই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। দেশটি দাবি করে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ এবং বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কো রুবিও বলেন, ইরান এমন এক সামরিক সক্ষমতা তৈরির চেষ্টা করছিল, যার মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে যে কোনো দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল করে দেওয়া সম্ভব হতো। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের লক্ষ্য ছিল এমন একটি প্রতিরক্ষা বলয় গড়ে তোলা, যাতে দেশটির বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালাতে অন্য রাষ্ট্রগুলো ভয় পায়। তিনি দাবি করেন, ইরানের অস্ত্রভাণ্ডার এতটাই বড় আকার ধারণ করছিল যে ভবিষ্যতে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়ে পড়তে পারত।
রুবিও আরও বলেন, ইরানের কাছে বিপুল সংখ্যক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র থাকলে কোনো দেশ সহজে হামলা চালানোর সাহস পেত না। কারণ এর পাল্টা প্রতিক্রিয়া পুরো অঞ্চলের জন্য ভয়াবহ হতে পারত। তিনি অভিযোগ করেন, এই সামরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পর ইরান ধীরে ধীরে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে এগিয়ে যেত। যদিও তার এই দাবির পক্ষে নির্দিষ্ট কোনো গোয়েন্দা তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।সাক্ষাৎকারে রুবিও সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর মন্তব্যও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ট্রাম্প এ পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বলেছেন, “এটা অসম্ভব।”
মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনা চলছে। বিশেষ করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, ড্রোন প্রযুক্তি এবং পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ে ওয়াশিংটনের উদ্বেগ বহু পুরোনো। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। বিশেষ করে ড্রোন প্রযুক্তিতে ইরানের অগ্রগতি এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন পশ্চিমা দেশগুলোর নজরে রয়েছে। অন্যদিকে ইরান বারবার দাবি করেছে, তাদের সামরিক কর্মসূচি আত্মরক্ষার জন্য এবং এটি কোনো দেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের উদ্দেশ্যে নয়। দেশটির কর্মকর্তারা বলে আসছেন, আন্তর্জাতিক আইন মেনেই তারা প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি করছে।
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ইরানকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও আলোচনা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের বক্তব্য অঞ্চলটির কূটনৈতিক সম্পর্ক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলতে পারে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এ তথ্য জানা গেছে।



























