ঢাকা ১০:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ইমরান খান নিয়ে আশরাফুলের বিস্ফোরক মন্তব্য Logo আমরা বাংলাদেশকে খুব ভালোবাসি : কাভান সুলিভান Logo বন্যা-ভূমিধসে বিপর্যস্ত নেপালের পাশে বাংলাদেশ, দিল ১০ লাখ ডলার Logo ১০০ কিলোমিটার দৌড়ে বোলিং, অবিশ্বাস্য কীর্তি স্যামের Logo পুরোনো মালিকানায় ফেরার সুযোগ বন্ধে ব্যাংক আইন সংশোধনের প্রস্তাব Logo ‘হারপিকটা নিয়ে আসেন, আমি ক্লিন করব’, হাসপাতালের বাথরুম দেখে কৃষিমন্ত্রী Logo এআইইউবি প্রতিষ্ঠাতা ডা. আনোয়ারুল আবেদীনের মৃত্যুবার্ষিকী ৫ সেপ্টেম্বর Logo মার্কিন অস্ত্রের মজুদ নিয়ে সতর্ক করলেন ট্রাম্প Logo সাইবার বুলিংয়ের মামলায় কথিত সাংবাদিক মাসুদ রানা গ্রেপ্তার Logo লৌহজংয়ে ৭০ পিস ইয়াবাসহ ৩ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

এনসিপি থেকে ফারাহা এমদাদের পদত্যাগ, কমিটি নিয়ে ক্ষোভ

চিত্রঃ সম্মতি ছাড়া কমিটিতে নাম অন্তর্ভুক্ত করায় এনসিপি থেকে পদত্যাগ করলেন ফারাহা এমদাদ

জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় নেতা ফারাহা এমদাদ। তিনি জানিয়েছেন, দলের সঙ্গে তার পথচলা এখানেই শেষ। জাতীয় নারীশক্তির কেন্দ্রীয় কমিটিতে সম্মতি ছাড়াই নাম অন্তর্ভুক্ত করায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এরপরই কেন্দ্রীয় ও মহানগর—দুই পদ থেকেই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত জানান। শনিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পদত্যাগের ঘোষণা দেন ফারাহা এমদাদ। পরে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তার এই ঘোষণার পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়। এনসিপির ভেতরেও বিষয়টি নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

ফারাহা এমদাদ নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক পাতায় একটি পদত্যাগপত্র প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি লেখেন, এনসিপির সঙ্গে তার পথচলা শেষ হলো। দলের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকলে তিনি ক্ষমা চান। সবাইকে ভালো থাকার শুভকামনাও জানান তিনি। জানা গেছে, শনিবার দুপুরে জাতীয় নারীশক্তির কেন্দ্রীয় কমিটিতে তাকে সংগঠক পদে রাখা হয়। তবে এ বিষয়ে আগে তার সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। এমনকি তাকে সিদ্ধান্তটি জানানোও হয়নি বলে দাবি করেন। এ কারণেই তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।

জাতীয় নাগরিক পার্টি ও জাতীয় নারীশক্তির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক এবং সভাপতির কাছে পদত্যাগপত্র পাঠান তিনি। সেখানে তিনি বলেন, বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানতে পেরেছেন তাকে সংগঠক করা হয়েছে। কিন্তু এই পদে অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে তার কোনো সম্মতি নেওয়া হয়নি। এটিকে তিনি অন্যায় ও অনভিপ্রেত সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন। পদত্যাগপত্রে ফারাহা এমদাদ আরও বলেন, গত কয়েক মাস ধরে তিনি সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। কুমিল্লা মহানগর এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়কের দায়িত্বকে তিনি পবিত্র দায়িত্ব মনে করতেন। সেই দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছেন বলেও জানান। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে পদত্যাগ প্রয়োজন হয়ে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন।

তিনি জানান, তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় নারীশক্তির কেন্দ্রীয় কমিটির সংগঠক পদ ছাড়ছেন। একই সঙ্গে কুমিল্লা মহানগর এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়কের পদ থেকেও সরে দাঁড়াচ্ছেন। দুই পদ থেকেই অব্যাহতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত তিনি স্বেচ্ছায় নিয়েছেন। দলীয় শৃঙ্খলার প্রশ্নেই এমন পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে জানান।পরে গণমাধ্যমকে ফারাহা এমদাদ বলেন, তার সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা হয়নি। নতুন কমিটিতে যুক্ত করার আগে মতামত নেওয়াও হয়নি। এ ধরনের আচরণ সাংগঠনিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ কারণেই তিনি পদত্যাগে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান।

তার ভাষ্য, কোনো রাজনৈতিক দলে দায়িত্ব দেওয়া সম্মানের বিষয়। কিন্তু সেই দায়িত্ব দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্মতি থাকা জরুরি। সম্মতি ছাড়া নাম ঘোষণা করলে তা ব্যক্তি ও সংগঠন—দুই পক্ষের জন্যই বিব্রতকর। তিনি সেই বিব্রতকর পরিস্থিতির প্রতিবাদ জানাতেই পদত্যাগ করেছেন। এ বিষয়ে কুমিল্লা মহানগর এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়কারী মাসুমুল বারী কাউছার কথা বলেন। তিনি জানান, জাতীয় নারীশক্তির কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদ দেওয়ায় ফারাহা এমদাদ অভিমান করেছেন। সে কারণেই তিনি দুটি পদ থেকেই অব্যাহতি চেয়েছেন। দলীয়ভাবে তাকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানানো হয়েছিল।

মাসুমুল বারী কাউছার আরও বলেন, শেষ সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ ফারাহা এমদাদের নিজস্ব বিষয়। দল তাকে থেকে যাওয়ার অনুরোধ করেছে। তবে তিনি নিজের অবস্থানে অনড় ছিলেন বলে জানা যায়। ফলে পদত্যাগের বিষয়টি কার্যত চূড়ান্ত হয়ে যায়। এদিকে এনসিপির ভেতরে বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা চলছে।অনেকে মনে করছেন, দায়িত্ব বণ্টনে সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল। আবার কেউ কেউ বলছেন, বিষয়টি দ্রুত সমাধান করা যেত। তবে প্রকাশ্যে এখনো কেন্দ্রীয়ভাবে বিস্তারিত বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

প্রসঙ্গত, শনিবার দুপুরে এনসিপির নারী উইং জাতীয় নারীশক্তির পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। ৫৩ সদস্যবিশিষ্ট এই কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি প্রকাশ করা হয় আনুষ্ঠানিকভাবে। সেই কমিটিতেই সংগঠক পদে রাখা হয়েছিল ফারাহা এমদাদকে। আর সেই সিদ্ধান্ত ঘিরেই তৈরি হয় নতুন এই বিতর্ক। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন দলগুলোর সাংগঠনিক কাঠামো গঠনের সময় এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে সমন্বয় ও যোগাযোগে ঘাটতি থাকলে অসন্তোষ তৈরি হয়। ফারাহা এমদাদের পদত্যাগ সেই বাস্তবতারই একটি উদাহরণ। এখন এনসিপি কীভাবে পরিস্থিতি সামলায়, সেটিই দেখার বিষয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইমরান খান নিয়ে আশরাফুলের বিস্ফোরক মন্তব্য

এনসিপি থেকে ফারাহা এমদাদের পদত্যাগ, কমিটি নিয়ে ক্ষোভ

Update Time : ০১:০৫:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় নেতা ফারাহা এমদাদ। তিনি জানিয়েছেন, দলের সঙ্গে তার পথচলা এখানেই শেষ। জাতীয় নারীশক্তির কেন্দ্রীয় কমিটিতে সম্মতি ছাড়াই নাম অন্তর্ভুক্ত করায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এরপরই কেন্দ্রীয় ও মহানগর—দুই পদ থেকেই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত জানান। শনিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পদত্যাগের ঘোষণা দেন ফারাহা এমদাদ। পরে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তার এই ঘোষণার পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়। এনসিপির ভেতরেও বিষয়টি নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

ফারাহা এমদাদ নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক পাতায় একটি পদত্যাগপত্র প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি লেখেন, এনসিপির সঙ্গে তার পথচলা শেষ হলো। দলের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকলে তিনি ক্ষমা চান। সবাইকে ভালো থাকার শুভকামনাও জানান তিনি। জানা গেছে, শনিবার দুপুরে জাতীয় নারীশক্তির কেন্দ্রীয় কমিটিতে তাকে সংগঠক পদে রাখা হয়। তবে এ বিষয়ে আগে তার সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। এমনকি তাকে সিদ্ধান্তটি জানানোও হয়নি বলে দাবি করেন। এ কারণেই তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।

জাতীয় নাগরিক পার্টি ও জাতীয় নারীশক্তির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক এবং সভাপতির কাছে পদত্যাগপত্র পাঠান তিনি। সেখানে তিনি বলেন, বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানতে পেরেছেন তাকে সংগঠক করা হয়েছে। কিন্তু এই পদে অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে তার কোনো সম্মতি নেওয়া হয়নি। এটিকে তিনি অন্যায় ও অনভিপ্রেত সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন। পদত্যাগপত্রে ফারাহা এমদাদ আরও বলেন, গত কয়েক মাস ধরে তিনি সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। কুমিল্লা মহানগর এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়কের দায়িত্বকে তিনি পবিত্র দায়িত্ব মনে করতেন। সেই দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছেন বলেও জানান। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে পদত্যাগ প্রয়োজন হয়ে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন।

তিনি জানান, তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় নারীশক্তির কেন্দ্রীয় কমিটির সংগঠক পদ ছাড়ছেন। একই সঙ্গে কুমিল্লা মহানগর এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়কের পদ থেকেও সরে দাঁড়াচ্ছেন। দুই পদ থেকেই অব্যাহতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত তিনি স্বেচ্ছায় নিয়েছেন। দলীয় শৃঙ্খলার প্রশ্নেই এমন পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে জানান।পরে গণমাধ্যমকে ফারাহা এমদাদ বলেন, তার সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা হয়নি। নতুন কমিটিতে যুক্ত করার আগে মতামত নেওয়াও হয়নি। এ ধরনের আচরণ সাংগঠনিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ কারণেই তিনি পদত্যাগে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান।

তার ভাষ্য, কোনো রাজনৈতিক দলে দায়িত্ব দেওয়া সম্মানের বিষয়। কিন্তু সেই দায়িত্ব দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্মতি থাকা জরুরি। সম্মতি ছাড়া নাম ঘোষণা করলে তা ব্যক্তি ও সংগঠন—দুই পক্ষের জন্যই বিব্রতকর। তিনি সেই বিব্রতকর পরিস্থিতির প্রতিবাদ জানাতেই পদত্যাগ করেছেন। এ বিষয়ে কুমিল্লা মহানগর এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়কারী মাসুমুল বারী কাউছার কথা বলেন। তিনি জানান, জাতীয় নারীশক্তির কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদ দেওয়ায় ফারাহা এমদাদ অভিমান করেছেন। সে কারণেই তিনি দুটি পদ থেকেই অব্যাহতি চেয়েছেন। দলীয়ভাবে তাকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানানো হয়েছিল।

মাসুমুল বারী কাউছার আরও বলেন, শেষ সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ ফারাহা এমদাদের নিজস্ব বিষয়। দল তাকে থেকে যাওয়ার অনুরোধ করেছে। তবে তিনি নিজের অবস্থানে অনড় ছিলেন বলে জানা যায়। ফলে পদত্যাগের বিষয়টি কার্যত চূড়ান্ত হয়ে যায়। এদিকে এনসিপির ভেতরে বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা চলছে।অনেকে মনে করছেন, দায়িত্ব বণ্টনে সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল। আবার কেউ কেউ বলছেন, বিষয়টি দ্রুত সমাধান করা যেত। তবে প্রকাশ্যে এখনো কেন্দ্রীয়ভাবে বিস্তারিত বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

প্রসঙ্গত, শনিবার দুপুরে এনসিপির নারী উইং জাতীয় নারীশক্তির পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। ৫৩ সদস্যবিশিষ্ট এই কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি প্রকাশ করা হয় আনুষ্ঠানিকভাবে। সেই কমিটিতেই সংগঠক পদে রাখা হয়েছিল ফারাহা এমদাদকে। আর সেই সিদ্ধান্ত ঘিরেই তৈরি হয় নতুন এই বিতর্ক। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন দলগুলোর সাংগঠনিক কাঠামো গঠনের সময় এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে সমন্বয় ও যোগাযোগে ঘাটতি থাকলে অসন্তোষ তৈরি হয়। ফারাহা এমদাদের পদত্যাগ সেই বাস্তবতারই একটি উদাহরণ। এখন এনসিপি কীভাবে পরিস্থিতি সামলায়, সেটিই দেখার বিষয়।