প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগপ্রাপ্তদের শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি আজ রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫-এর সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীরা দ্রুত নিয়োগপত্রের দাবিতে জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। সকাল ১১টায় কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সকাল থেকেই অনেক প্রার্থী সেখানে জড়ো হন। একপর্যায়ে তারা সড়ক অবরোধ করলে শাহবাগ এলাকায় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ে। দীর্ঘদিন নিয়োগপত্র না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রার্থীরা দাবি করেন, নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরও বিলম্ব অযৌক্তিক।
শাহবাগ মোড়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ আন্দোলনকারীদের বাধা দেয়। এতে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। পরে রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মাসুদ আলম ঘটনাস্থলে এসে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের দাবির কথা শোনেন। পরিস্থিতি শান্ত হলে আন্দোলনকারীরা পুলিশের ব্যারিকেডের মধ্যেই অবস্থান চালিয়ে যেতে সম্মত হন। আন্দোলনরত এক নারী জানান, নিয়োগপত্র না পাওয়া পর্যন্ত তারা রাস্তা ছাড়বেন না। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, চাকরির আশায় অনেকে আগের কর্মস্থল ছেড়ে দিয়েছেন এবং এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।
আরেক আন্দোলনকারী বলেন, “যদি আমরা নিয়োগপত্র না পাই, তাহলে আমরা বেকার হয়ে পরিবারে বোঝা হয়ে যাবো।” প্রার্থীদের অভিযোগ, ফল প্রকাশের আড়াই মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি। অথচ লিখিত পরীক্ষা, মৌখিক পরীক্ষা এবং চূড়ান্ত ফলাফল—সব ধাপই শেষ হয়েছে। তাদের মতে, এই পর্যায়ে ফলাফল পুনর্বিবেচনার কোনো যৌক্তিকতা নেই। বিশেষ করে দূরদূরান্ত থেকে আসা প্রার্থীরা মনে করছেন, দীর্ঘসূত্রিতা তাদের মানসিক ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তাই তারা দ্রুত নিয়োগপত্র প্রদান করে অনিশ্চয়তা দূর করার দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ৯ জানুয়ারি দেশের ৬১ জেলায় প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরে ৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলে প্রায় ১৪ হাজার প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়। কিন্তু প্রশ্নফাঁস, তড়িঘড়ি পরীক্ষা এবং অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় ফলাফল পুনর্বিবেচনার চিন্তা করছে কর্তৃপক্ষ। এতে নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে উদ্বেগ ও হতাশা বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগপ্রাপ্তদের শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি নতুন মাত্রা পেয়েছে। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি চলবে এবং দ্রুত নিয়োগপত্র না পেলে আন্দোলন আরও কঠোর হবে।



























