ঢাকা ০১:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুলে তেল দিলে কারও মাথা ঠান্ডা, কারও গরম লাগে কেন?

  • Momena Moni
  • Update Time : ১১:৫৫:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
  • ৫০৫

তেল মালিশ কি সত্যিই মাথা ঠান্ডা করে? নাকি বাড়িয়ে দেয় গরমের অনুভূতি?

চুলে তেল মালিশ করার অভ্যাস বহু মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, একই তেল ব্যবহারের পর কেউ মাথায় আরাম ও শীতলতা অনুভব করেন, আবার কেউ অনুভব করেন অতিরিক্ত গরম ও অস্বস্তি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পার্থক্যের পেছনে রয়েছে মাথার ত্বকের ধরন, তেলের প্রকৃতি, আবহাওয়া এবং তেল ব্যবহারের পদ্ধতি।

অনেকেই মনে করেন, মাথায় তেল দিলে শরীর ও মন দুটোই প্রশান্ত হয়। বিশেষ করে দিনের ক্লান্তি শেষে তেল মালিশ করলে মাথা হালকা লাগে এবং ঘুমও ভালো হয়। অন্যদিকে অনেক মানুষ অভিযোগ করেন, তেল ব্যবহারের পর মাথা ভারী হয়ে যায় এবং গরম আরও বেশি অনুভূত হয়।

ঢাকার হলি ফ্যামিলি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চর্মরোগ বিভাগের সাবেক প্রধান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আফজালুল করিম জানান, মাথায় তেল মালিশ করা সবার জন্য বাধ্যতামূলক নয়। কারও জন্য এটি উপকারী হতে পারে, আবার কারও জন্য অস্বস্তির কারণও হতে পারে। তাই ব্যক্তিভেদে তেল ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা আলাদা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের গরম বা ঠান্ডা অনুভব করার ক্ষমতা একেকজনের ক্ষেত্রে একেক রকম। একই পরিবেশে একজন ব্যক্তি স্বস্তি বোধ করতে পারেন, যেখানে অন্যজন অস্বস্তি অনুভব করতে পারেন। মাথায় তেল দেওয়ার ক্ষেত্রেও এই ব্যক্তিগত পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

মাথার ত্বকের ধরন তেল ব্যবহারের অভিজ্ঞতাকে অনেকাংশে প্রভাবিত করে। যাদের স্ক্যাল্প বা মাথার ত্বক শুষ্ক প্রকৃতির, তারা সাধারণত তেল ব্যবহারের পর বেশি আরাম অনুভব করেন। তেল তাদের ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং শুষ্কতার কারণে হওয়া অস্বস্তি কমায়।

শুষ্ক ও রুক্ষ চুলের অধিকারীদের জন্য তেল বিশেষ উপকারী হতে পারে। তেল চুলের আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং চুলকে নরম ও মসৃণ রাখে। ফলে গরমের মধ্যেও তারা মাথায় তেল ব্যবহার করে স্বস্তি অনুভব করেন।

অন্যদিকে যাদের মাথার ত্বক স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি তৈলাক্ত, তাদের ক্ষেত্রে তেল ব্যবহার সবসময় সুবিধাজনক নাও হতে পারে। অতিরিক্ত তেলের কারণে স্ক্যাল্প আরও ভারী ও চিটচিটে হয়ে যেতে পারে, যা গরমের অনুভূতি বাড়িয়ে দেয়।

বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে তৈলাক্ত স্ক্যাল্পে তেল ব্যবহারের পর অনেকের মাথা ঘেমে যায়। এতে মাথা গরম লাগা, চুল ভারী হয়ে যাওয়া এবং অস্বস্তি সৃষ্টি হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। ফলে তারা মনে করেন, তেল দেওয়ার পর গরম আরও বেড়ে গেছে।

তেলের ধরনও এই অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সব ধরনের তেল সবার জন্য উপযোগী নয়। খুব বেশি ঘন, ভারী বা আঠালো তেল মাথায় দীর্ঘ সময় থাকলে গরম ও অস্বস্তির অনুভূতি তৈরি করতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, হালকা প্রকৃতির তেল ব্যবহার করতে। নারকেল তেল, কাঠবাদাম তেল এবং জোজোবা তেল তুলনামূলকভাবে হালকা হওয়ায় এগুলো ব্যবহারে অস্বস্তির ঝুঁকি কম থাকে। এসব তেল সহজে শোষিত হয় এবং মাথায় ভারী অনুভূতি তৈরি করে না।

তেল ব্যবহারের সময়ও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দুপুরের কড়া রোদে বা প্রচণ্ড গরমের সময় মাথায় তেল মালিশ করলে অস্বস্তি বাড়তে পারে। কারণ তখন শরীরের তাপমাত্রা এমনিতেই বেশি থাকে এবং তেল সেই অনুভূতিকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

অনেকেই ঘেমে যাওয়ার পর মাথায় তেল ব্যবহার করেন, যা সঠিক অভ্যাস নয়। যখন মাথার ত্বক ঘামে ভেজা থাকে, তখন তেল ব্যবহার করলে স্ক্যাল্পে অতিরিক্ত আর্দ্রতা ও তেল জমে অস্বস্তি সৃষ্টি করতে পারে। এতে মাথা গরম লাগার অনুভূতিও বাড়ে।

গরমের দিনে তেল ব্যবহারের জন্য সকালবেলা, বিকেলের শেষ ভাগ, সন্ধ্যা বা রাতের সময়কে বেশি উপযোগী মনে করা হয়। এ সময় তাপমাত্রা তুলনামূলক কম থাকে এবং তেল ব্যবহারের পর স্বস্তি পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

তেল ব্যবহারের পর দীর্ঘ সময় মাথায় রেখে দেওয়াও সবসময় ভালো নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা পর শ্যাম্পু করে চুল ধুয়ে ফেললে বেশিরভাগ মানুষ আরাম বোধ করেন। এতে তেলের উপকারও পাওয়া যায় এবং অতিরিক্ত চিটচিটে ভাবও থাকে না।

তেল ভালোভাবে পরিষ্কার না করলে মাথার ত্বকে ময়লা ও ধুলাবালি জমতে পারে। এর ফলে চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে যেতে পারে এবং খুশকি বা অন্যান্য স্ক্যাল্প সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই তেল ব্যবহারের পর পরিষ্কারভাবে ধুয়ে ফেলা জরুরি।

মাথায় তেল মালিশের পদ্ধতিও আরাম বা অস্বস্তির কারণ হতে পারে। অনেকেই নখ দিয়ে জোরে জোরে মাথা ঘষেন, যা স্ক্যাল্পের জন্য ক্ষতিকর। এতে ত্বকে জ্বালাপোড়া বা অস্বস্তি তৈরি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, হাতের আঙুলের নরম অংশ ব্যবহার করে ধীরে ধীরে মালিশ করা। এতে মাথার ত্বকের রক্তসঞ্চালন বাড়ে এবং স্বাভাবিকভাবে একটি আরামদায়ক অনুভূতি তৈরি হয়। একই সঙ্গে মানসিক চাপও কিছুটা কমে আসে।

সঠিকভাবে তেল মালিশ করলে মাথার ত্বকে রক্তপ্রবাহ বৃদ্ধি পায়। এতে ক্লান্তি ও অবসন্ন ভাব কমে যেতে পারে। অনেকেই তেল মালিশের পর সতেজ অনুভব করেন, যার একটি কারণ এই উন্নত রক্তসঞ্চালন।

তবে চুলের যত্ন মানেই তেল ব্যবহার করতে হবে—এমন ধারণা সঠিক নয়। যাদের তেল ব্যবহারে বেশি অস্বস্তি হয়, তারা বিকল্প হিসেবে ভালো মানের কন্ডিশনার বা হেয়ার সিরাম ব্যবহার করতে পারেন। এগুলোও চুলের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়তা করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চুল ও মাথার ত্বকের ধরন বুঝে পরিচর্যার পদ্ধতি নির্বাচন করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারও জন্য তেল উপকারী হলেও অন্য কারও জন্য সেটি অপ্রয়োজনীয় হতে পারে। তাই নিজের চুল ও স্ক্যাল্পের চাহিদা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়াই হবে সবচেয়ে ভালো উপায়।

সবশেষে বলা যায়, মাথায় তেল দিলে কারও গরম আর কারও ঠান্ডা লাগার কারণ মূলত ব্যক্তিভেদে শারীরিক পার্থক্য, মাথার ত্বকের ধরন, তেলের প্রকৃতি এবং ব্যবহারের সময় ও পদ্ধতির ওপর নির্ভর করে। সঠিক তেল, সঠিক পরিমাণ এবং সঠিক সময়ে ব্যবহার করলে তেল মালিশ চুল ও মাথার ত্বকের জন্য উপকারী হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চুলে তেল দিলে কারও মাথা ঠান্ডা, কারও গরম লাগে কেন?

Update Time : ১১:৫৫:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

চুলে তেল মালিশ করার অভ্যাস বহু মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, একই তেল ব্যবহারের পর কেউ মাথায় আরাম ও শীতলতা অনুভব করেন, আবার কেউ অনুভব করেন অতিরিক্ত গরম ও অস্বস্তি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পার্থক্যের পেছনে রয়েছে মাথার ত্বকের ধরন, তেলের প্রকৃতি, আবহাওয়া এবং তেল ব্যবহারের পদ্ধতি।

অনেকেই মনে করেন, মাথায় তেল দিলে শরীর ও মন দুটোই প্রশান্ত হয়। বিশেষ করে দিনের ক্লান্তি শেষে তেল মালিশ করলে মাথা হালকা লাগে এবং ঘুমও ভালো হয়। অন্যদিকে অনেক মানুষ অভিযোগ করেন, তেল ব্যবহারের পর মাথা ভারী হয়ে যায় এবং গরম আরও বেশি অনুভূত হয়।

ঢাকার হলি ফ্যামিলি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চর্মরোগ বিভাগের সাবেক প্রধান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আফজালুল করিম জানান, মাথায় তেল মালিশ করা সবার জন্য বাধ্যতামূলক নয়। কারও জন্য এটি উপকারী হতে পারে, আবার কারও জন্য অস্বস্তির কারণও হতে পারে। তাই ব্যক্তিভেদে তেল ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা আলাদা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের গরম বা ঠান্ডা অনুভব করার ক্ষমতা একেকজনের ক্ষেত্রে একেক রকম। একই পরিবেশে একজন ব্যক্তি স্বস্তি বোধ করতে পারেন, যেখানে অন্যজন অস্বস্তি অনুভব করতে পারেন। মাথায় তেল দেওয়ার ক্ষেত্রেও এই ব্যক্তিগত পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

মাথার ত্বকের ধরন তেল ব্যবহারের অভিজ্ঞতাকে অনেকাংশে প্রভাবিত করে। যাদের স্ক্যাল্প বা মাথার ত্বক শুষ্ক প্রকৃতির, তারা সাধারণত তেল ব্যবহারের পর বেশি আরাম অনুভব করেন। তেল তাদের ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং শুষ্কতার কারণে হওয়া অস্বস্তি কমায়।

শুষ্ক ও রুক্ষ চুলের অধিকারীদের জন্য তেল বিশেষ উপকারী হতে পারে। তেল চুলের আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং চুলকে নরম ও মসৃণ রাখে। ফলে গরমের মধ্যেও তারা মাথায় তেল ব্যবহার করে স্বস্তি অনুভব করেন।

অন্যদিকে যাদের মাথার ত্বক স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি তৈলাক্ত, তাদের ক্ষেত্রে তেল ব্যবহার সবসময় সুবিধাজনক নাও হতে পারে। অতিরিক্ত তেলের কারণে স্ক্যাল্প আরও ভারী ও চিটচিটে হয়ে যেতে পারে, যা গরমের অনুভূতি বাড়িয়ে দেয়।

বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে তৈলাক্ত স্ক্যাল্পে তেল ব্যবহারের পর অনেকের মাথা ঘেমে যায়। এতে মাথা গরম লাগা, চুল ভারী হয়ে যাওয়া এবং অস্বস্তি সৃষ্টি হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। ফলে তারা মনে করেন, তেল দেওয়ার পর গরম আরও বেড়ে গেছে।

তেলের ধরনও এই অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সব ধরনের তেল সবার জন্য উপযোগী নয়। খুব বেশি ঘন, ভারী বা আঠালো তেল মাথায় দীর্ঘ সময় থাকলে গরম ও অস্বস্তির অনুভূতি তৈরি করতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, হালকা প্রকৃতির তেল ব্যবহার করতে। নারকেল তেল, কাঠবাদাম তেল এবং জোজোবা তেল তুলনামূলকভাবে হালকা হওয়ায় এগুলো ব্যবহারে অস্বস্তির ঝুঁকি কম থাকে। এসব তেল সহজে শোষিত হয় এবং মাথায় ভারী অনুভূতি তৈরি করে না।

তেল ব্যবহারের সময়ও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দুপুরের কড়া রোদে বা প্রচণ্ড গরমের সময় মাথায় তেল মালিশ করলে অস্বস্তি বাড়তে পারে। কারণ তখন শরীরের তাপমাত্রা এমনিতেই বেশি থাকে এবং তেল সেই অনুভূতিকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

অনেকেই ঘেমে যাওয়ার পর মাথায় তেল ব্যবহার করেন, যা সঠিক অভ্যাস নয়। যখন মাথার ত্বক ঘামে ভেজা থাকে, তখন তেল ব্যবহার করলে স্ক্যাল্পে অতিরিক্ত আর্দ্রতা ও তেল জমে অস্বস্তি সৃষ্টি করতে পারে। এতে মাথা গরম লাগার অনুভূতিও বাড়ে।

গরমের দিনে তেল ব্যবহারের জন্য সকালবেলা, বিকেলের শেষ ভাগ, সন্ধ্যা বা রাতের সময়কে বেশি উপযোগী মনে করা হয়। এ সময় তাপমাত্রা তুলনামূলক কম থাকে এবং তেল ব্যবহারের পর স্বস্তি পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

তেল ব্যবহারের পর দীর্ঘ সময় মাথায় রেখে দেওয়াও সবসময় ভালো নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা পর শ্যাম্পু করে চুল ধুয়ে ফেললে বেশিরভাগ মানুষ আরাম বোধ করেন। এতে তেলের উপকারও পাওয়া যায় এবং অতিরিক্ত চিটচিটে ভাবও থাকে না।

তেল ভালোভাবে পরিষ্কার না করলে মাথার ত্বকে ময়লা ও ধুলাবালি জমতে পারে। এর ফলে চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে যেতে পারে এবং খুশকি বা অন্যান্য স্ক্যাল্প সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই তেল ব্যবহারের পর পরিষ্কারভাবে ধুয়ে ফেলা জরুরি।

মাথায় তেল মালিশের পদ্ধতিও আরাম বা অস্বস্তির কারণ হতে পারে। অনেকেই নখ দিয়ে জোরে জোরে মাথা ঘষেন, যা স্ক্যাল্পের জন্য ক্ষতিকর। এতে ত্বকে জ্বালাপোড়া বা অস্বস্তি তৈরি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, হাতের আঙুলের নরম অংশ ব্যবহার করে ধীরে ধীরে মালিশ করা। এতে মাথার ত্বকের রক্তসঞ্চালন বাড়ে এবং স্বাভাবিকভাবে একটি আরামদায়ক অনুভূতি তৈরি হয়। একই সঙ্গে মানসিক চাপও কিছুটা কমে আসে।

সঠিকভাবে তেল মালিশ করলে মাথার ত্বকে রক্তপ্রবাহ বৃদ্ধি পায়। এতে ক্লান্তি ও অবসন্ন ভাব কমে যেতে পারে। অনেকেই তেল মালিশের পর সতেজ অনুভব করেন, যার একটি কারণ এই উন্নত রক্তসঞ্চালন।

তবে চুলের যত্ন মানেই তেল ব্যবহার করতে হবে—এমন ধারণা সঠিক নয়। যাদের তেল ব্যবহারে বেশি অস্বস্তি হয়, তারা বিকল্প হিসেবে ভালো মানের কন্ডিশনার বা হেয়ার সিরাম ব্যবহার করতে পারেন। এগুলোও চুলের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়তা করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চুল ও মাথার ত্বকের ধরন বুঝে পরিচর্যার পদ্ধতি নির্বাচন করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারও জন্য তেল উপকারী হলেও অন্য কারও জন্য সেটি অপ্রয়োজনীয় হতে পারে। তাই নিজের চুল ও স্ক্যাল্পের চাহিদা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়াই হবে সবচেয়ে ভালো উপায়।

সবশেষে বলা যায়, মাথায় তেল দিলে কারও গরম আর কারও ঠান্ডা লাগার কারণ মূলত ব্যক্তিভেদে শারীরিক পার্থক্য, মাথার ত্বকের ধরন, তেলের প্রকৃতি এবং ব্যবহারের সময় ও পদ্ধতির ওপর নির্ভর করে। সঠিক তেল, সঠিক পরিমাণ এবং সঠিক সময়ে ব্যবহার করলে তেল মালিশ চুল ও মাথার ত্বকের জন্য উপকারী হতে পারে।