ঢাকা ০৫:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শাকিরার টারকুইজ পোশাক, বিশ্বকাপের আলোচিত লুক

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৪:১৪:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
  • ৫০৩

বিশ্বকাপের ‘ডাই ডাই’ গানে শাকিরার আলোচিত টারকুইজ পোশাক। ছবি: সংগৃহীত

শাকিরার টারকুইজ পোশাক এবারের ফুটবল বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিক গান ‘ডাই ডাই’-এর মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। গানটিতে কলম্বিয়ান পপ তারকা শাকিরা পাঁচটি ভিন্ন পোশাক পরলেও সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে তাঁর উজ্জ্বল টারকুইজ রঙের বিশেষ পোশাকটি। নান্দনিক নকশা, হাতে করা কারুকাজ এবং আধুনিক ফ্যাশনের সমন্বয়ে তৈরি এই পোশাকটি মাত্র চার দিনের মধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছিল।

গানটির জন্য পোশাকটি ডিজাইন করেছেন মায়ামিভিত্তিক ডিজাইনার গানার ডেথেরেজ এবং তাঁর দল। পুরো প্রকল্পের সৃজনশীল তত্ত্বাবধানে ছিলেন শাকিরার দীর্ঘদিনের স্টাইলিস্ট নিকোলাস ব্রু। তাঁদের লক্ষ্য ছিল এমন একটি পোশাক তৈরি করা, যা ক্যামেরার সামনে যেমন আকর্ষণীয় দেখাবে, তেমনি নাচের সময়ও স্বাচ্ছন্দ্য ও সৌন্দর্য বজায় রাখবে।

পোশাক তৈরির গল্পটিও বেশ নাটকীয়। কলম্বিয়ার মেডেলিনে ছুটি কাটানোর সময় হঠাৎ করেই শাকিরার নতুন মিউজিক ভিডিওর জন্য পোশাক তৈরির প্রস্তাব পান ডিজাইনাররা। এরপর সময় নষ্ট না করে তাঁরা মায়ামিতে ফিরে এসে কাজে নেমে পড়েন। শুধু শাকিরার পোশাক নয়, তাঁর সঙ্গে থাকা নৃত্যশিল্পীদের জন্যও একাধিক পোশাক তৈরি করতে হয়েছিল অল্প সময়ের মধ্যে।

সময়ের স্বল্পতার কারণে একটি হোটেল কক্ষকে অস্থায়ী ওয়ার্কশপে রূপান্তর করা হয়। সেখানে দিন-রাত পরিশ্রম করে চলতে থাকে নকশা, কাটিং, সেলাই ও ফিনিশিংয়ের কাজ। শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে জরুরি ভিত্তিতে উপকরণ সংগ্রহ করা হয়। প্রায় নির্ঘুম অবস্থায় কাজ শেষ করে ডিজাইনার দল।

শাকিরার টারকুইজ পোশাক তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে জেড সবুজ ও নীল রঙের বিভিন্ন শেড। পোশাকটিতে হাতে করা অ্যাপলিক, সূক্ষ্ম বুনন এবং পুঁতির কারুকাজ বিশেষভাবে নজর কাড়ে। এর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছিল একটি ক্রোশের কাজ করা বেল্ট, যা চামড়ার ওপর টারকুইজ রঙের পুঁতি বসিয়ে তৈরি করা হয়। পোশাকের স্কার্ট অংশে থাকা ফ্রিঞ্জ নাচের প্রতিটি মুদ্রার সঙ্গে সুন্দরভাবে দুলে দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

এ ছাড়া পোশাকের রঙের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শাকিরার পেটের ওপরও পুঁতির নকশা করা হয়েছিল, যা তাঁর পুরো লুককে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। ডিজাইনারদের মতে, পোশাকটির প্রতিটি অংশ এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল যাতে পারফরম্যান্সের সময় কোনো ধরনের অসুবিধা না হয়।

বিশ্বকাপের মঞ্চে শাকিরার উপস্থিতি সব সময়ই বিশেষ কিছু নিয়ে আসে। ‘ওয়াকা ওয়াকা’ থেকে শুরু করে ‘লা লা লা’ প্রতিবারই তাঁর গান ও স্টাইল দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। মাত্র চার দিনে তৈরি এই টারকুইজ পোশাকটি প্রমাণ করেছে, সৃজনশীলতা, দক্ষতা এবং দলগত প্রচেষ্টা থাকলে অল্প সময়েও অসাধারণ কিছু সৃষ্টি করা সম্ভব।

জনপ্রিয় সংবাদ

শাকিরার টারকুইজ পোশাক, বিশ্বকাপের আলোচিত লুক

Update Time : ০৪:১৪:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

শাকিরার টারকুইজ পোশাক এবারের ফুটবল বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিক গান ‘ডাই ডাই’-এর মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। গানটিতে কলম্বিয়ান পপ তারকা শাকিরা পাঁচটি ভিন্ন পোশাক পরলেও সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে তাঁর উজ্জ্বল টারকুইজ রঙের বিশেষ পোশাকটি। নান্দনিক নকশা, হাতে করা কারুকাজ এবং আধুনিক ফ্যাশনের সমন্বয়ে তৈরি এই পোশাকটি মাত্র চার দিনের মধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছিল।

গানটির জন্য পোশাকটি ডিজাইন করেছেন মায়ামিভিত্তিক ডিজাইনার গানার ডেথেরেজ এবং তাঁর দল। পুরো প্রকল্পের সৃজনশীল তত্ত্বাবধানে ছিলেন শাকিরার দীর্ঘদিনের স্টাইলিস্ট নিকোলাস ব্রু। তাঁদের লক্ষ্য ছিল এমন একটি পোশাক তৈরি করা, যা ক্যামেরার সামনে যেমন আকর্ষণীয় দেখাবে, তেমনি নাচের সময়ও স্বাচ্ছন্দ্য ও সৌন্দর্য বজায় রাখবে।

আরও পড়ুন  ঈদে বেশি মাংস খেয়ে ভুঁড়ি বেড়েছে? জেনে নিন কার্যকর সমাধান

পোশাক তৈরির গল্পটিও বেশ নাটকীয়। কলম্বিয়ার মেডেলিনে ছুটি কাটানোর সময় হঠাৎ করেই শাকিরার নতুন মিউজিক ভিডিওর জন্য পোশাক তৈরির প্রস্তাব পান ডিজাইনাররা। এরপর সময় নষ্ট না করে তাঁরা মায়ামিতে ফিরে এসে কাজে নেমে পড়েন। শুধু শাকিরার পোশাক নয়, তাঁর সঙ্গে থাকা নৃত্যশিল্পীদের জন্যও একাধিক পোশাক তৈরি করতে হয়েছিল অল্প সময়ের মধ্যে।

সময়ের স্বল্পতার কারণে একটি হোটেল কক্ষকে অস্থায়ী ওয়ার্কশপে রূপান্তর করা হয়। সেখানে দিন-রাত পরিশ্রম করে চলতে থাকে নকশা, কাটিং, সেলাই ও ফিনিশিংয়ের কাজ। শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে জরুরি ভিত্তিতে উপকরণ সংগ্রহ করা হয়। প্রায় নির্ঘুম অবস্থায় কাজ শেষ করে ডিজাইনার দল।

আরও পড়ুন  স্পেনকে রুখে রাতারাতি সোশ্যাল মিডিয়া তারকা কেপ ভার্দের ভোজিনহা

শাকিরার টারকুইজ পোশাক তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে জেড সবুজ ও নীল রঙের বিভিন্ন শেড। পোশাকটিতে হাতে করা অ্যাপলিক, সূক্ষ্ম বুনন এবং পুঁতির কারুকাজ বিশেষভাবে নজর কাড়ে। এর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছিল একটি ক্রোশের কাজ করা বেল্ট, যা চামড়ার ওপর টারকুইজ রঙের পুঁতি বসিয়ে তৈরি করা হয়। পোশাকের স্কার্ট অংশে থাকা ফ্রিঞ্জ নাচের প্রতিটি মুদ্রার সঙ্গে সুন্দরভাবে দুলে দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

এ ছাড়া পোশাকের রঙের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শাকিরার পেটের ওপরও পুঁতির নকশা করা হয়েছিল, যা তাঁর পুরো লুককে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। ডিজাইনারদের মতে, পোশাকটির প্রতিটি অংশ এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল যাতে পারফরম্যান্সের সময় কোনো ধরনের অসুবিধা না হয়।

আরও পড়ুন  হাসছেন ঠিকই, কিন্তু ভিতরে চাপ? চিনে নিন সাইলেন্ট স্ট্রেস

বিশ্বকাপের মঞ্চে শাকিরার উপস্থিতি সব সময়ই বিশেষ কিছু নিয়ে আসে। ‘ওয়াকা ওয়াকা’ থেকে শুরু করে ‘লা লা লা’ প্রতিবারই তাঁর গান ও স্টাইল দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। মাত্র চার দিনে তৈরি এই টারকুইজ পোশাকটি প্রমাণ করেছে, সৃজনশীলতা, দক্ষতা এবং দলগত প্রচেষ্টা থাকলে অল্প সময়েও অসাধারণ কিছু সৃষ্টি করা সম্ভব।