ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ৪-২ গোলের দারুণ জয় দিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে ইংল্যান্ড। ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ একটি গোল করে দলের জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন জুড বেলিংহাম। ম্যাচ শেষে তিনি জানিয়েছেন, সমালোচকদের জবাব দেওয়ার পাশাপাশি মানুষকে দেখাতে পেরেছেন তিনি আসলে কী করতে সক্ষম।
বৃহস্পতিবার ভোরে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ইংল্যান্ডের হয়ে জোড়া গোল করেন অধিনায়ক হ্যারি কেইন। এছাড়া একটি করে গোল করেন জুড বেলিংহাম ও মার্কাস রাশফোর্ড। আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে শুরু থেকেই প্রতিপক্ষের ওপর চাপ তৈরি করে থ্রি লায়ন্সরা।
ম্যাচের আগে ইংল্যান্ড শিবিরে সবচেয়ে বড় আলোচনা ছিল দশ নম্বর পজিশনে কাকে খেলানো হবে। কোচ টমাস টুখেলের সামনে বিকল্প হিসেবে ছিলেন জুড বেলিংহাম ও মরগান রজার্স। শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞতা ও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিবেচনায় বেলিংহামের ওপরই আস্থা রাখেন তিনি।
ডালাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচের প্রথমার্ধ শেষ হয় ২-২ সমতায়। বিরতির পর মাঠে নেমেই ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেন বেলিংহাম। এরপর আরও একটি গোল করে জয় নিশ্চিত করে ম্যাচ শেষ করে ইংল্যান্ড।
ম্যাচ শেষে বিবিসি স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বেলিংহাম বলেন, দেশের হয়ে নিজের দায়িত্ব পালন করতে পারাটা তার কাছে সবচেয়ে বড় সম্মানের বিষয়। বাইরের সমালোচনা কিংবা গুঞ্জন কখনোই তার দেশের প্রতি দায়বদ্ধতাকে বদলে দিতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
২২ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার বলেন, ব্যক্তিগতভাবে এটি তার জন্য বিশেষ একটি ম্যাচ ছিল। কারণ তিনি সতীর্থ, কোচিং স্টাফ এবং সমর্থকদের দেখাতে পেরেছেন যে দলকে জেতানোর জন্য তিনি কতটা নিবেদিত।
২০২৫-২৬ মৌসুমটি বেলিংহামের জন্য খুব একটা সহজ ছিল না। দুইবার চোটে পড়ে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছে তাকে। এরপর রিয়াল মাদ্রিদের শিরোপাহীন মৌসুম এবং ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।
সদ্য সমাপ্ত মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪০ ম্যাচে ৮ গোল করেছেন তিনি। তবে প্রত্যাশার তুলনায় কম প্রভাব ফেলায় জাতীয় দলে তার জায়গা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছিল। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই সেই সমালোচনার শক্ত জবাব দিয়েছেন এই মিডফিল্ডার।
নিজেকে প্রমাণ করার বাড়তি তাগিদ অনুভব করেন কি না জানতে চাইলে হাসিমুখেই ইতিবাচক উত্তর দেন বেলিংহাম। তিনি বলেন, একজন ফুটবলারের ভেতরে নিজেকে প্রমাণ করার ক্ষুধা থাকাটা খুবই স্বাভাবিক।
সমালোচনা নিয়ে নিজের অবস্থানও পরিষ্কার করেছেন এই তারকা ফুটবলার। তিনি বলেন, একজন পেশাদার ফুটবলার হিসেবে সমালোচনা গ্রহণ করতে শিখতে হয়। অনেক সময় তিনি নিজেও মনে করেন কিছু সমালোচনা যৌক্তিক হয়।
তবে এই ম্যাচটি তার কাছে বিশেষ হয়ে থাকবে বলে জানান বেলিংহাম। কারণ এটি তাকে আবারও সবাইকে মনে করিয়ে দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে যে, বড় মঞ্চে তিনি কতটা কার্যকর হতে পারেন।
২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ইরানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেও গোল করেছিলেন বেলিংহাম। এবার ২০২৬ বিশ্বকাপেও প্রথম ম্যাচে গোল করে একই কীর্তির পুনরাবৃত্তি করলেন তিনি।
চাপ এবং আত্মপ্রমাণের তাড়নাই তাকে সেরা খেলাটা খেলতে সাহায্য করে বলেও জানিয়েছেন ইংলিশ এই তারকা। তার ভাষায়, এটি ম্যাচের শুরু থেকেই মনোযোগ ধরে রাখতে এবং খেলার তীব্রতা বাড়াতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।
প্রথম ম্যাচে জয় পাওয়ার পর এখন আত্মবিশ্বাসে উজ্জীবিত ইংল্যান্ড। বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ঘানার মুখোমুখি হবে থ্রি লায়ন্সরা। একটি ম্যাচ শেষে ‘এল’ গ্রুপের শীর্ষস্থানও দখল করে নিয়েছে টমাস টুখেলের দল।


























