রাশিয়ায় কর্মী পাঠানো বাড়ানোর লক্ষ্যে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী বছরের মধ্যে রাশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীর সংখ্যা ১ লাখে উন্নীত করার বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা এগিয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রাশিয়ায় কর্মী পাঠানো প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশি বিভিন্ন খাতে রাশিয়ায় কর্মরত আছেন। তবে দেশটির বিশাল শ্রমবাজারে আরও বেশি দক্ষ ও আধা-দক্ষ কর্মী পাঠানোর সুযোগ রয়েছে। এ লক্ষ্যেই বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে জনশক্তি রপ্তানি বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রুশ কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের প্রস্তাব ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে। উভয় দেশ দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে কর্মী নিয়োগ কার্যক্রম সম্প্রসারণে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
রাশিয়ায় কর্মী পাঠানো ছাড়াও দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক, ওষুধ এবং অন্যান্য রপ্তানি পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বাণিজ্য ও জনশক্তি রপ্তানি একসঙ্গে বৃদ্ধি পেলে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।
আলোচনায় প্রযুক্তি খাতও গুরুত্ব পেয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি নিয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে দুই দেশ আগ্রহ প্রকাশ করেছে। কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা এবং ডিজিটাল সেবায় এআই ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে রাশিয়ার একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফরেও আসতে পারে বলে জানা গেছে।
রাশিয়ায় কর্মী পাঠানোর এই উদ্যোগ সফল হলে বৈদেশিক কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, রেমিট্যান্স আয় বাড়ানো এবং দক্ষ জনশক্তির জন্য নতুন বাজার তৈরিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কর্মীদের যথাযথ প্রশিক্ষণ ও ভাষাগত দক্ষতা নিশ্চিত করা গেলে রাশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যে পরিণত হতে পারে।

























