রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় শনিবার কয়েক ঘণ্টার জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিতরণ কর্তৃপক্ষ। জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ, লাইন উন্নয়ন, নতুন সংযোগ কার্যক্রম এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজের কারণে নির্ধারিত সময়ের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্ধারিত কাজ শেষ হলে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরায় চালু করা হবে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন ও বিতরণ সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও নির্ভরযোগ্য ও স্থিতিশীল করতে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রয়োজন। এর অংশ হিসেবেই বিভিন্ন এলাকায় পরিকল্পিতভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হবে। তবে গ্রাহকদের ভোগান্তি কমাতে কাজ দ্রুত শেষ করার চেষ্টা করা হবে।
কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, শনিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে একাধিক এলাকায় বিদ্যুৎ থাকবে না। কোথাও দুই থেকে তিন ঘণ্টা, আবার কোথাও চার থেকে ছয় ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকতে পারে। এলাকার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ বন্ধ থাকার সময়সূচি ভিন্ন হবে।
বিশেষ করে যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ লাইনের মেরামত, ট্রান্সফরমার পরিবর্তন, সাবস্টেশন উন্নয়ন এবং নতুন সংযোগের কাজ চলবে, সেসব এলাকায় তুলনামূলক বেশি সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকতে পারে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি অনেক স্থানে পুরোনো যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামো আধুনিকায়নের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে এসব উন্নয়নমূলক কাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিদ্যুৎ না থাকার সম্ভাব্য সময়ের মধ্যে বাসাবাড়ির পানি তোলা, মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়া, ল্যাপটপ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ডিভাইস চার্জ করে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগাম প্রস্তুতি গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
ব্যাংক, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন অফিসেও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রভাব পড়তে পারে। যদিও অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থার জন্য জেনারেটর রয়েছে, তবুও কিছু ক্ষেত্রে সাময়িক অসুবিধা দেখা দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য পরিকল্পিত বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা অনেক সময় প্রয়োজন হয়ে পড়ে। কারণ লাইভ অবস্থায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয় না। তবে গ্রাহকদের আগাম জানিয়ে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা হলে জনভোগান্তি কমানো সম্ভব।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই নির্ধারিত বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার বিষয়ে আগাম তথ্য জানার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলোও তাদের ওয়েবসাইট ও অফিসিয়াল নোটিশের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এলাকার সময়সূচি প্রকাশ করছে।
কর্তৃপক্ষ বলছে, বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকার নির্ধারিত সময়ের চেয়ে আগে কাজ শেষ হলে দ্রুত সংযোগ চালু করা হবে। আবার কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত প্রযুক্তিগত জটিলতা দেখা দিলে সময় কিছুটা বাড়তেও পারে। তবে সে ক্ষেত্রে গ্রাহকদের যথাসময়ে অবহিত করা হবে।
গ্রীষ্মকাল ও বর্ষা মৌসুমে বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। ঝড়-বৃষ্টি, বজ্রপাত এবং অতিরিক্ত লোডের কারণে অনেক সময় বিদ্যুৎ লাইনে সমস্যা দেখা দেয়। এসব ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়ন কাজ অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন প্রকৌশলীরা।
নগর ও গ্রামাঞ্চলের অনেক এলাকায় নতুন বিদ্যুৎ সংযোগের চাহিদাও বেড়েছে। ফলে বিদ্যমান অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং নতুন সরঞ্জাম স্থাপনের প্রয়োজন হচ্ছে। শনিবারের নির্ধারিত কাজগুলোর মধ্যে এমন কিছু প্রকল্পও রয়েছে যা ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ সরবরাহকে আরও কার্যকর করবে।
ভোক্তা অধিকার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, পরিকল্পিত বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের আগে থেকে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া প্রয়োজন। এতে মানুষ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে পারে এবং দৈনন্দিন কাজকর্মে বিঘ্ন কম হয়।
বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, নির্ধারিত রক্ষণাবেক্ষণ কাজ সম্পন্ন হলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ভোল্টেজ ওঠানামা, ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং কারিগরি ত্রুটির মতো সমস্যা কমে আসবে। দীর্ঘমেয়াদে এর সুফল ভোগ করবেন গ্রাহকেরাই।
শনিবার যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ থাকবে না, সেসব এলাকার বাসিন্দাদের জন্য এটি কিছুটা অস্বস্তিকর হলেও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভবিষ্যতে উন্নত সেবা নিশ্চিত করার জন্য সাময়িক এই অসুবিধা মেনে নেওয়া প্রয়োজন। বিদ্যুৎ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো গ্রাহকদের ধৈর্য ও সহযোগিতা কামনা করেছে। একই সঙ্গে যেকোনো তথ্যের জন্য বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির হটলাইন, ওয়েবসাইট অথবা স্থানীয় অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
























