ঢাকা ০১:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo বিতর্ক কর্মশালা: যুক্তির শক্তিতে এগিয়ে যাওয়ার দারুণ বার্তা Logo ভাটারা সড়ক দুর্ঘটনা: ৩২ বছরের সাজ্জাদের মর্মান্তিক মৃত্যু Logo মেকআপ করা কি সত্যিই ত্বকের জন্য ক্ষতিকর জানুন আসল তথ্য Logo বার সাবান নাকি বডি ওয়াশ ত্বকের জন্য কোনটি ভালো Logo দ্য অডিসি: দুর্দান্ত আয়ে ভাঙল R-rated সিনেমার রেকর্ড Logo ফেরদৌস স্টিলে ১০ শ্রমিকের মৃত্যু কারণ অনুসন্ধানে মিলল বিষাক্ত গ্যাস Logo অর্পিতার রেস্তোরাঁয় চমকপ্রদ দাম, মাছ ১০ হাজার থেকে পানীয় লাখে Logo জঙ্গল দক্ষিণ পাহাড়তলী, বড় উদ্যোগে রুখবে পাহাড় দখল Logo সালমান শাহকে ঘিরে ভক্তদের আবেগের গল্প নিয়ে নির্মিত ‘লাভ ৯৬’ Logo ভয়াবহ জ্বালানি সংকটে চট্টগ্রামের ২৮ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ছয়টি বন্ধ

৫ হাজার টাকার বিরোধে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা, করিমগঞ্জে চাঞ্চল্য

চিত্রঃ পাওনা টাকার বিরোধে প্রাণ গেল ব্যবসায়ী রাসেল মিয়ার। (সংগৃহীত)

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় ৫ হাজার টাকার বিরোধে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা করার অভিযোগে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত রাসেল মিয়া (৩০) উপজেলার জয়কা ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয়ভাবে ভাঙারি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। পরিবারের অভিযোগ, পাওনা টাকা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে তাকে পরিকল্পিতভাবে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে মারধর করা হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

 

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, রাসেল মিয়ার কাছে একই গ্রামের ছাইদুর রহমানের পাঁচ হাজার টাকা পাওনা ছিল। টাকা পরিশোধে বিলম্ব হওয়ায় কয়েক দিন আগে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ওই ঘটনার পর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ আরও তীব্র হয়ে ওঠে বলে জানা গেছে।সোমবার সকাল প্রায় ৯টার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি রাসেল মিয়াকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। এরপর তাকে গ্রামের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। মারধরের সময় তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে। ঘটনার খবর দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দেয়।

 

নিহতের স্বজনদের দাবি, এটি কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়; বরং পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে ফাঁদে ফেলে ডেকে নেওয়া হয়েছিল। তাদের অভিযোগ, পাওনা টাকা আদায়ের অজুহাতে রাসেলকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয় এবং তাকে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়। তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত রাসেল মিয়াকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, পারিবারিক একটি মামলায় আগে থেকেই তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। এ তথ্য জানার পর প্রতিপক্ষের কেউ পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

গুরুতর আহত অবস্থায় রাসেল মিয়াকে প্রথমে করিমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থার অবনতি দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু ঘটে। করিমগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রিয়াদ শাহেদ রনি জানান, রাসেল মিয়াকে জরুরি বিভাগে আনার সময় তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল। শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন পাওয়া যায়। প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত অন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।

 

এ ঘটনায় করিমগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সুবীর কুমার সাহা বলেন, পাওনা টাকা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। রাসেল মিয়াকে মারধরের অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত এবং কী পরিস্থিতিতে মারধরের ঘটনা ঘটেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কেউ জড়িত থাকলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।

 

এদিকে ঘটনার পর রামনগর গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রতিবেশীরা জানান, রাসেল মিয়া দীর্ঘদিন ধরে ভাঙারি ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তার অকাল মৃত্যুতে পরিবারটি বড় ধরনের সংকটে পড়েছে। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।বিশেষজ্ঞদের মতে, সামান্য অর্থনৈতিক বিরোধকে কেন্দ্র করে সহিংসতা সমাজের জন্য উদ্বেগজনক বার্তা বহন করে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পেলে সামাজিক স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই যে কোনো বিরোধ আইনগত উপায়ে সমাধানের সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।

 

বর্তমানে ৫ হাজার টাকার বিরোধে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ পেলে এ হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নিহতের পরিবার এখন ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিতর্ক কর্মশালা: যুক্তির শক্তিতে এগিয়ে যাওয়ার দারুণ বার্তা

৫ হাজার টাকার বিরোধে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা, করিমগঞ্জে চাঞ্চল্য

Update Time : ০৬:১৪:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় ৫ হাজার টাকার বিরোধে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা করার অভিযোগে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত রাসেল মিয়া (৩০) উপজেলার জয়কা ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয়ভাবে ভাঙারি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। পরিবারের অভিযোগ, পাওনা টাকা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে তাকে পরিকল্পিতভাবে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে মারধর করা হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

 

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, রাসেল মিয়ার কাছে একই গ্রামের ছাইদুর রহমানের পাঁচ হাজার টাকা পাওনা ছিল। টাকা পরিশোধে বিলম্ব হওয়ায় কয়েক দিন আগে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ওই ঘটনার পর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ আরও তীব্র হয়ে ওঠে বলে জানা গেছে।সোমবার সকাল প্রায় ৯টার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি রাসেল মিয়াকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। এরপর তাকে গ্রামের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। মারধরের সময় তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে। ঘটনার খবর দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দেয়।

আরও পড়ুন  ভারি বৃষ্টির সতর্কতা: আগামী ২৪ ঘণ্টায় যেসব অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির ঝুঁকি বেশি

 

নিহতের স্বজনদের দাবি, এটি কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়; বরং পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে ফাঁদে ফেলে ডেকে নেওয়া হয়েছিল। তাদের অভিযোগ, পাওনা টাকা আদায়ের অজুহাতে রাসেলকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয় এবং তাকে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়। তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত রাসেল মিয়াকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, পারিবারিক একটি মামলায় আগে থেকেই তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। এ তথ্য জানার পর প্রতিপক্ষের কেউ পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

গুরুতর আহত অবস্থায় রাসেল মিয়াকে প্রথমে করিমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থার অবনতি দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু ঘটে। করিমগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রিয়াদ শাহেদ রনি জানান, রাসেল মিয়াকে জরুরি বিভাগে আনার সময় তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল। শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন পাওয়া যায়। প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত অন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।

আরও পড়ুন  আমিনবাজারে ময়লা অপসারণে ৩০ দিনের আল্টিমেটাম

 

এ ঘটনায় করিমগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সুবীর কুমার সাহা বলেন, পাওনা টাকা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। রাসেল মিয়াকে মারধরের অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত এবং কী পরিস্থিতিতে মারধরের ঘটনা ঘটেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কেউ জড়িত থাকলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।

আরও পড়ুন  চাঞ্চল্যকর কিশোরগঞ্জ বিএনপি নেতা হত্যা: পদ স্থগিত সভাপতিকে কুপিয়ে হত্যা

 

এদিকে ঘটনার পর রামনগর গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রতিবেশীরা জানান, রাসেল মিয়া দীর্ঘদিন ধরে ভাঙারি ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তার অকাল মৃত্যুতে পরিবারটি বড় ধরনের সংকটে পড়েছে। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।বিশেষজ্ঞদের মতে, সামান্য অর্থনৈতিক বিরোধকে কেন্দ্র করে সহিংসতা সমাজের জন্য উদ্বেগজনক বার্তা বহন করে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পেলে সামাজিক স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই যে কোনো বিরোধ আইনগত উপায়ে সমাধানের সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।

 

বর্তমানে ৫ হাজার টাকার বিরোধে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ পেলে এ হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নিহতের পরিবার এখন ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে।