লাভজনক পান চাষ বর্তমান সময়ে উত্তরাঞ্চলের গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক অভূতপূর্ব ও বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে এসেছে, যার প্রত্যক্ষ প্রমাণ মেলে রংপুর সদর উপজেলার মমিনপুর ইউনিয়নের বলরামপুর গ্রামে প্রবেশ করলেই যেখানে ভোরের আলো ফোটার আগেই কৃষকদের কর্মব্যস্ততায় মুখরিত হয়ে ওঠে প্রতিটি সবুজ বরজ।
বিগত ২৫ বছর আগেও এই বিস্তীর্ণ জনপদে প্রথাগত পদ্ধতিতে আমন ও বোরো ধানের আবাদ বেশি হতো, তবে রবিনাশ রায় এবং এমদাদুল হকের মতো কয়েকজন দূরদর্শী ও সাহসী কৃষকের হাত ধরে এখানকার মানুষ বুঝতে পারেন যে অন্যান্য ফসলের তুলনায় পানের আবাদ কতটা বেশি অর্থকরী।
বর্তমানে রংপুর সদর উপজেলার প্রায় ১৩৪ হেক্টর জমিতে এই অর্থকরী ফসলের চাষাবাদ হচ্ছে এবং যাদের নিজস্ব কোনো চাষের জমি নেই তারাও নিজেদের বসতবাড়ির পরিত্যক্ত আঙিনায় কিংবা উঠানের পাশে ছোট ছোট বরজ তৈরি করে নিজেদের স্থায়ী জীবিকার এক অনন্য প্রধান অবলম্বন খুঁজে পেয়েছেন।
গ্রামের সফল চাষি আমিনুল হক জানান যে ৪০ শতক জমিতে বছরে দুবার ধানের আবাদ করে খরচ বাদে বড়জোড় ১৬ থেকে ১৮ হাজার টাকা ঘরে তোলা সম্ভব হলেও, সমপরিমাণ জমিতে মাত্র এক লাখ টাকা প্রাথমিক পুঁজিতে পান চাষ করে প্রতি বছর অনায়াসে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিট মুনাফা অর্জন করা যায়।
অসুস্থ স্বামীর সংসারে এক সময় মাত্র ১৫০ টাকা মজুরিতে অন্যের বরজে কাজ করা নারী মোমেনা খাতুন আজ নিজের ১৮ শতক জমিতে পানের আবাদ করে পাঁচ বছরের মাথায় পাকা বাড়ি ও গাভির খামার গড়ে তুলেছেন এবং পানের লতাকে আনন্দের সাথে খোদ ‘টাকার গাছ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জিয়াউল হক বলেন যে দিন দিন এলাকায় এই চাষের পরিধি আকাশচুম্বী হচ্ছে এবং দূর-দূরান্ত থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা সরাসরি গ্রামে এসে নগদ টাকায় কৃষকদের কাছ থেকে এই ফ্রেশ পান কিনে নিয়ে দেশের বিভিন্ন বড় বড় বাজারে সরবরাহ করায় লাভজনক পান চাষ এখন বলরামপুরের প্রতিটি ঘরে ঘরে সুখ ও সমৃদ্ধি বয়ে নিয়ে আসছে।





























