বিশ্বকাপে এবার আর কোনো দলকে স্পষ্ট ফেভারিট বলা যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি। তার মতে, ঐতিহ্য, শক্তি কিংবা অতীতের সাফল্য এখন আর কোনো দলের জন্য বাড়তি সুবিধা নিশ্চিত করছে না। ব্রাজিল ও পর্তুগালের বিদায়সহ বড় দলগুলোর সংগ্রামই প্রমাণ করছে যে ২০২৬ বিশ্বকাপ আগের যেকোনো আসরের চেয়ে বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।
ডালাসে মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় শেষ ষোলোর ম্যাচে মিশরের মুখোমুখি হবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনি বিশ্বকাপের সামগ্রিক চিত্র নিয়ে নিজের মূল্যায়ন তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই টুর্নামেন্টে কোনো দলই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সহজে আধিপত্য বিস্তার করতে পারছে না।
স্কালোনির মতে, বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচ এখন সমান কঠিন হয়ে উঠেছে। আগে কয়েকটি দলকে স্পষ্ট ফেভারিট হিসেবে বিবেচনা করা হলেও এবার সেই চিত্র দেখা যাচ্ছে না। তার ভাষায়, প্রতিটি দলই প্রতিটি ম্যাচে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হচ্ছে এবং ছোট দলগুলোও বড় দলগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
গ্রুপ পর্বে টানা তিন জয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছিল আর্জেন্টিনা। তবে নকআউট পর্বের প্রথম ম্যাচেই তারা কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়। কেপ ভার্দের বিপক্ষে নির্ধারিত সময়ে জয় না পেয়ে অতিরিক্ত সময়ে লড়াই করতে হয় আলবিসেলেস্তেদের।
সেই ম্যাচে শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলের জয় পেলেও আর্জেন্টিনাকে বেশ চাপের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। ম্যাচটি দেখিয়েছে, বিশ্বকাপের এই পর্যায়ে কোনো প্রতিপক্ষকেই হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। তুলনামূলক দুর্বল দলগুলোও নিজেদের সেরাটা দিয়ে বড় দলগুলোর জন্য বিপদ তৈরি করছে।
শুধু আর্জেন্টিনাই নয়, অন্যান্য শক্তিশালী দলগুলোকেও কঠিন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। গত দুই বিশ্বকাপের ফাইনালিস্ট ফ্রান্স শেষ ষোলোর ম্যাচে প্যারাগুয়েকে হারিয়েছে পেনাল্টি থেকে পাওয়া একমাত্র গোলে। পুরো ম্যাচেই তাদের জয় নিশ্চিত করতে যথেষ্ট পরিশ্রম করতে হয়েছে।
অন্যদিকে, পর্তুগালের বিপক্ষে স্পেনের জয় এসেছে নাটকীয়ভাবে। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে যোগ করা সময়ে গোল করে ম্যাচ নিজেদের করে নেয় স্প্যানিশরা। ম্যাচটি দেখিয়েছে যে শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত কোনো ফলাফল নিশ্চিত নয়।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে সবচেয়ে বড় চমকগুলোর একটি এসেছে ব্রাজিল ও পর্তুগালের বিদায়ে। টানা দুই দিনে এই দুই ফুটবল পরাশক্তির বিদায় ফুটবলপ্রেমীদের বিস্মিত করেছে। তাদের বিদায় বিশ্বকাপের শক্তির ভারসাম্যকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।
এর আগে রাউন্ড অব ৩২ থেকেই বিদায় নিয়েছে ইউরোপের দুই শক্তিশালী দল জার্মানি ও নেদারল্যান্ডস। আবার প্রথম বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে গ্রুপ পর্বের বাধাই পেরোতে পারেনি। এসব ফলাফলই প্রমাণ করে যে এবার বিশ্বকাপে বড় নামের চেয়ে মাঠের পারফরম্যান্সই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
স্কালোনি বলেন, আগে যেভাবে কয়েকটি জাতীয় দলকে স্পষ্ট ফেভারিট হিসেবে ধরা হতো, এবার সেই পরিস্থিতি নেই। তার মতে, চার-পাঁচটি দলকে সম্ভাব্য শিরোপাপ্রত্যাশী হিসেবে বিবেচনা করা হলেও তারা এখনও প্রত্যাশিত মানের ফুটবল খেলতে পারেনি।
আর্জেন্টিনা কোচ মনে করেন, এর পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। ক্লাব মৌসুম শেষে অনেক খেলোয়াড়ই শারীরিকভাবে ক্লান্ত অবস্থায় বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছেন। দীর্ঘ মৌসুমের ধকল তাদের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলছে বলেই মনে করেন তিনি।
এ ছাড়া ভ্রমণজনিত ক্লান্তি, গরম আবহাওয়া, মাঠের অবস্থা এবং ঘাসের মানও খেলোয়াড়দের জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এসব কারণে দলগুলো নিজেদের সর্বোচ্চ সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারছে না। ফলে ম্যাচগুলো আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে।
তবে নিজের দলের পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তুষ্ট স্কালোনি। তিনি বলেন, আর্জেন্টিনা এখন পর্যন্ত চারটি ম্যাচই জিতেছে এবং এটি অবশ্যই ইতিবাচক বিষয়। তবুও তিনি মনে করেন, দল হিসেবে আরও উন্নতির সুযোগ রয়েছে।
মিশরের বিপক্ষে শেষ ষোলোর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে স্কালোনির এই মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্বকাপের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় তার বক্তব্যকে অমূলক বলার সুযোগ নেই। কারণ এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টের ফলাফলই প্রমাণ করছে, ২০২৬ বিশ্বকাপে শিরোপার দৌড়ে কোনো দলই অন্যদের চেয়ে খুব বেশি এগিয়ে নেই।























