এক ম্যাচ হাতে রেখেই বিশ্বকাপের ‘রাউন্ড অব ৩২’ নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। তাই গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে জর্ডানের বিপক্ষে বেশ কিছু পরিবর্তন এনে বিকল্প একাদশ মাঠে নামানোর পরিকল্পনা করছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। এই পরিকল্পনার সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী হতে পারেন তিন তরুণ ফুটবলার—নিকো পাজ, ভ্যালেন্টাইন বার্কো এবং জুলিয়ানো সিমিওনে।
আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টসের তথ্য অনুযায়ী, স্কালোনি এবার মূল একাদশের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে বিশ্রাম দেওয়ার কথা ভাবছেন। একই সঙ্গে বেঞ্চে থাকা তরুণদের বড় মঞ্চে নিজেদের প্রমাণের সুযোগ করে দিতে চান তিনি। ফলে জর্ডানের বিপক্ষে আলবিসেলেস্তাদের একাদশে নতুন মুখ দেখার সম্ভাবনা বেশ জোরালো।
তবে একাদশে পরিবর্তন এলেও গোলপোস্টে এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্টিনেজকেই দেখা যেতে পারে। ডান হাতের অনামিকা আঙুলের চোট থেকে পুরোপুরি সেরে ওঠা এই গোলরক্ষক গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচেই ক্লিনশিট ধরে রেখেছেন। জানা গেছে, তিনি নিজেও এই ম্যাচে খেলার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
অন্যদিকে লিওনেল মেসিকেও কিছু সময়ের জন্য মাঠে দেখা যেতে পারে। তবে তাকে শুরু থেকেই নামানো হবে নাকি দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে খেলানো হবে, সে বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। স্কালোনি ও কোচিং স্টাফ মেসির ওপর অতিরিক্ত চাপ না দেওয়ার দিকটিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন।
জর্ডানের বিপক্ষে ম্যাচটি বিশেষ হতে পারে তরুণ মিডফিল্ডার নিকো পাজের জন্য। মেসি বিশ্রামে থাকলে বা ম্যাচের কোনো পর্যায়ে মাঠ ছাড়লে তার জায়গায় সুযোগ পেতে পারেন এই উদীয়মান তারকা। বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে শুরুর একাদশে নামার সম্ভাবনা তাকে নিয়ে সমর্থকদের আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
একইভাবে মিডফিল্ডে প্রথম একাদশে দেখা যেতে পারে ভ্যালেন্টাইন বার্কোকে। লিয়ান্দ্রো পারেদেসের সঙ্গে মাঝমাঠে খেলার সুযোগ পেলে বার্কোর জন্য এটি হবে নিজেকে প্রমাণের বড় মঞ্চ। গত কয়েক মাসে তার পারফরম্যান্স কোচিং স্টাফদেরও মুগ্ধ করেছে বলে জানা গেছে।
আক্রমণভাগের কাছাকাছি বা উইং পজিশনে সুযোগ পেতে পারেন জুলিয়ানো সিমিওনে। তরুণ এই ফুটবলারকে নিয়ে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের প্রত্যাশা অনেক দিনের। জর্ডানের বিপক্ষে তাকে শুরুর একাদশে দেখা গেলে সেটি হবে তার ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।
রক্ষণভাগেও কিছু পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ মিস করা গঞ্জালো মন্তিয়েল পেশির চোট কাটিয়ে রাইট-ব্যাক হিসেবে ফিরতে পারেন। সেন্টার-ব্যাকে নিকোলাস ওতামেন্দির সঙ্গে মার্কোস সেনেসি অথবা ফাকুন্দো মেদিনার একজনকে দেখা যেতে পারে।
বাম প্রান্তে খেলবেন অভিজ্ঞ নিকোলাস তাগলিয়াফিকো। তার অভিজ্ঞতা তরুণদের নিয়ে গড়া রক্ষণভাগকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ রাখতে সাহায্য করবে বলে মনে করা হচ্ছে। স্কালোনিও শেষ ম্যাচে রক্ষণে স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে চান।
মিডফিল্ডে পারেদেস ও বার্কোর পাশাপাশি জিওভানি লো চেলসো এবং জুলিয়ানো সিমিওনেকে দেখা যেতে পারে। এই চার ফুটবলারের সমন্বয়ে তৈরি হতে পারে নতুন ধরনের একটি মাঝমাঠ, যা প্রতিপক্ষের ওপর আক্রমণাত্মক চাপ সৃষ্টি করার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে।
আক্রমণভাগে লাউতারো মার্টিনেজের পরিবর্তে সুযোগ পেতে পারেন হুলিয়ান আলভারেজ। তার সঙ্গে আক্রমণে লোপেসকেও যে কোনো সময় ব্যবহার করতে পারেন স্কালোনি। ফলে জর্ডানের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগে থাকবে গতি, তারুণ্য ও নতুন কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার ছাপ।
সব মিলিয়ে ম্যাচটি শুধু গ্রুপ পর্বের আরেকটি লড়াই নয়, বরং আর্জেন্টিনার ভবিষ্যৎ তারকাদের জন্য বড় এক মঞ্চ হয়ে উঠতে যাচ্ছে। স্কালোনির বিশেষ পরিকল্পনায় নিকো পাজ, ভ্যালেন্টাইন বার্কো ও জুলিয়ানো সিমিওনের সামনে খুলে যেতে পারে বিশ্বকাপের নতুন অধ্যায়।




























