বট ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের রোবোটিক্স খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে। একসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্স রোভার প্রতিযোগিতার অভিজ্ঞতা থেকে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ এখন দেশের তরুণ প্রকৌশলী, শিক্ষার্থী এবং প্রযুক্তিপ্রেমীদের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ রোবোটিক্স ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে কাজ করছে।
প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হয় ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির মার্স রোভার দলের অভিজ্ঞতা থেকে। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে গিয়ে দলটি বুঝতে পারে, দেশে মানসম্মত রোবোটিক্স যন্ত্রাংশ, দ্রুত প্রোটোটাইপ তৈরির সুযোগ এবং বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণের বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। সেই অভিজ্ঞতাই পরবর্তীতে বট ইঞ্জিনিয়ার্স প্রতিষ্ঠার অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠে।
বর্তমানে ঢাকার তেজগাঁওয়ে অবস্থিত বট ইঞ্জিনিয়ার্সের সদর দপ্তরে রয়েছে বট ক্যাফে, যেখানে সেন্সর, মোটর, মোটর ড্রাইভার, মাইক্রোকন্ট্রোলার, ডেভেলপমেন্ট বোর্ডসহ বিভিন্ন রোবোটিক্স যন্ত্রাংশ সহজেই পাওয়া যায়। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত ও নির্ভুল থ্রিডি প্রিন্টিং সেবাও দিচ্ছে, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও উদ্যোক্তারা অল্প সময়েই নিজেদের প্রোটোটাইপ তৈরি করতে পারছেন।
শুধু যন্ত্রাংশ সরবরাহেই সীমাবদ্ধ নয় প্রতিষ্ঠানটি। বট একাডেমির মাধ্যমে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে রোবোটিক্স, আর্ডুইনো, এমবেডেড সিস্টেমস এবং রোবট অপারেটিং সিস্টেম (আরওএস)-এর প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য বট সলিউশন্স বিভাগ কাস্টমাইজড রোবোটিক্স ও আইওটি (ইন্টারনেট অব থিংস) সমাধান, এমভিপি ডেভেলপমেন্ট এবং র্যাপিড প্রোটোটাইপিং সেবা প্রদান করছে।
ইতোমধ্যে বট ইঞ্জিনিয়ার্স বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাব এবং আন্তর্জাতিক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারিত্ব গড়ে তুলেছে। প্রতিষ্ঠানটির মেন্টরশিপে অংশ নেওয়া একাধিক বাংলাদেশি দল আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক অর্জন করেছে। এমনকি একটি দল প্রথমবারের মতো প্রতিযোগিতার নির্দিষ্ট ধাপে পূর্ণ নম্বর অর্জন করে নতুন ইতিহাসও গড়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য শুধু একটি ব্যবসা পরিচালনা নয়; বরং বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদি রোবোটিক্স অবকাঠামো গড়ে তোলা। বট ইঞ্জিনিয়ার্সের পরিকল্পনা ভবিষ্যতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কার্যক্রম সম্প্রসারণ, উচ্চশিক্ষা পর্যায়ে আরও উন্নত প্রশিক্ষণ চালু এবং দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তর প্রযুক্তি বাজারে নিজেদের সেবা বিস্তৃত করা। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন উদ্যোগ দেশের হার্ডওয়্যার ও রোবোটিক্স শিল্পকে আরও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।





























