সবজির দাম আবারও বেড়েছে রাজধানীর কাঁচাবাজারে। টানা বৃষ্টি এবং উত্তরাঞ্চলের সাম্প্রতিক বন্যার কারণে ক্ষেত থেকে সবজি সংগ্রহ ও পরিবহনে ব্যাঘাত ঘটায় বাজারে সরবরাহ কমেছে। এর প্রভাব পড়েছে ঢাকার বিভিন্ন বাজারে, যেখানে বেশিরভাগ সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। একই সঙ্গে মাছ ও মুরগির বাজারেও স্বস্তি পাচ্ছেন না ক্রেতারা।
রাজধানীর নতুন বাজার, মহাখালীসহ বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে পটল, ঢেঁড়স ও পেঁপে প্রতি কেজি ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে করলা, বেগুন ও শসার দাম বেড়ে কেজিপ্রতি ৮০ থেকে ১০০ টাকায় পৌঁছেছে। মৌসুমের বাইরে থাকায় টমেটোর দাম আরও বেশি, প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ২৮০ টাকায়। ধনেপাতার দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে, কেজিতে প্রায় ১০০ টাকা পর্যন্ত বেশি গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। কাঁচা মরিচের বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।
বিক্রেতাদের দাবি, টানা বৃষ্টির কারণে অনেক কৃষক সময়মতো ক্ষেত থেকে সবজি তুলতে পারছেন না। পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলের বন্যায় বিভিন্ন এলাকার সবজিখেত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় রাজধানীতে আগের তুলনায় কম পণ্য আসছে। সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে দাম বাড়লেও ক্রেতার উপস্থিতি আগের চেয়ে কম বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
মাছের বাজারেও বেড়েছে দাম। সরবরাহ কম থাকার কারণে সপ্তাহের ব্যবধানে মিঠাপানির বড় মাছের দাম কেজিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে পাবদা ও ট্যাংরা মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৭০০ টাকায়। রুই ও কাতলা মাছের দামও বেড়ে কেজিপ্রতি ৪০০ টাকায় পৌঁছেছে। ফলে মাছ কিনতেও বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
মুরগির বাজারেও তেমন স্বস্তি নেই। ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১৯০ টাকায়। সোনালি মুরগির দাম আগের মতোই থাকলেও দেশি মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৭৫০ টাকায়। তবে ডিমের বাজারে কিছুটা স্বস্তি রয়েছে। পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় প্রতি ডজন ডিম ১১৫ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বৈরী আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে সবজির দাম আরও কিছুদিন উচ্চ অবস্থানে থাকতে পারে। তবে আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে এবং ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চল থেকে আবারও নিয়মিত সরবরাহ শুরু হলে বাজারে দাম কিছুটা কমার সম্ভাবনা রয়েছে। আপাতত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি দামে সবচেয়ে বেশি চাপে রয়েছেন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলো।





























